দক্ষিণ আফ্রিকা জাতীয় দলের সাবেক প্রধান কোচ কাজ করবেন বাংলাদেশ দলের সহকারী কোচ হিসেবে, সামনেই সিরিজ থেকেই শুরু হবে তার দায়িত্ব।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস
বেশ কিছুদিন ধরেই জাতীয় দলের জন্য বিশেষজ্ঞ কোচ খুঁজছিল বিসিবি। সাবেক প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গো ও সাবেক বোলিং কোচ ওটিস গিবসনের কাছ থেকে এক কোচের কথা জানতে পারল বোর্ড। দুজনই খুব প্রশংসা করলেন সেই কোচের। খোঁজখবর নিয়ে এবং কথা বলে তাকে পছন্দ হয়ে গেল বিসিবিরও। ব্যস, আলোচনা চূড়ান্ত হতে সময় লাগল না। সেই কোচ মালিবঙ্গুয়ে মাকেতা আসছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটে।
বাংলাদেশ জাতীয় দলের সহকারী কোচের দায়িত্ব পেয়েছেন মাকেতা। ৪৫ বছর বয়সী কোচ কাজ শুরু করবেন সামনের সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর থেকেই।
বিসিবি মূলত এমন একজন কোচ খুঁজছিল, যিনি নামে খুব বড় না হলেও কার্যকারিতায় থাকবেন অগ্রণী। ক্রিকেটারদের সঙ্গে কাজ করবেন নিবিড়ভাবে। মাকেতাকে দিয়ে সেই চাওয়া পূরণ হওয়ার আশা করছে বোর্ড। প্রধান কোচ ফিল সিমন্সের সঙ্গে আলোচনা করেই চূড়ান্ত করা হয়েছে সহকারীকে।
সবশেষ এই দায়িত্বে ছিলেন মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। চলতি এশিয়ান গেমসে প্রধান কোচ হিসেবে গেলেও এখন তিনি মূলত হাই পারফরম্যান্স দলের কোচ। তার জায়গায় জাতীয় দলে কাজ করবেন মাকেতা।
বিশ্ব ক্রিকেটে খুব পরিচিত নাম নন তিনি। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটে তাকে মনে করা হয় সেরা কোচদের একজন। ‘মালি’ নামে তাকে ডাকেন সবাই। দক্ষিণ আফ্রিকা জাতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবে কাজ করেছেন কিছুদিন, সহকারী কোচ ছিলেন অনেক দিন। লম্বা সময় ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকা অনূর্ধ্ব-১৯ দলের কোচ। প্রোটিয়াদের যুব দল নিয়ে ২০২৩ সালে এসেছিলেন বাংলাদেশেও।
মাকেতার খেলোয়াড়ি জীবন বলার মতো নয়। পেস বোলিং অলরাউন্ডার ছিলেন, একমাত্র প্রথম শ্রেণির ম্যাচটি খেলেছেন ২০০০ সালে। রাজ্য দলের ‘বি’ দলে খেলেছেন বেশ কিছুদিন, নেতৃত্ব দিয়েছেন। কিন্তু মূল দলে জায়গা না পেয়ে কোচিং শুরু করেন ২৫ বছর বয়সেই। কোচিং অধ্যায়ের ফাঁকেই ক্যারিয়ারের একমাত্র লিস্ট ‘এ’ ম্যাচটি খেলেন ২০০৭ সালে।
স্কুল দলের কোচ হিসেবে শুরুর পর দ্রুতই এগোতে থাকেন তিনি। ২০০৬-০৭ মৌসুমে টাইটান্স ফ্র্যাঞ্চাইজির সহকারী কোচ হিসেবে নিয়োগ পান, যেখানে প্রধান কোচ ছিলেন রিচার্ড পাইবাস। ২০০৮ সালেই নর্থ্যান্স রাজ্য দলের প্রধান কোচ হয়ে যান স্রেফ ২৭ বছর বয়সে। তার কোচিংয়ে ২০১০-১১ মৌসুমে ঘরোয়া একদিনের ম্যাচের টুর্নামেন্টের শিরোপা জয় করে দলটি, পরের বছর জিতে নেয় টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের শিরোপা।
২০১২ সালে আবার টাইটান্সে ফেরেন তিনি সহকারী কোচ হিসেবে। পরের বছর ওয়ারিয়র্সের সহকারী কোচ হন এবং পরে প্রধান কোচের দায়িত্ব পান।
২০১৫ সালে ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকার লেভেল-৪ কোচিং সার্টিফিকেট অর্জন করেন। ২০১৭ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত ওটিস গিবসন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রধান কোচ থাকার সময় মাকেতা ছিলেন সহকারী কোচ।
পরে দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের প্রধান কোচ হিসেবে কাজ করেন বেশ কিছুদিন। পাশাপাশি ছিলেন জাতীয় একাডেমির প্রধানও।
২০২২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর মার্ক বাউচার দক্ষিণ আফ্রিকার কোচের দায়িত্ব ছেড়ে দিলেন অস্ট্রেলিয়া সফরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান কোচ করা হয় মাকেতাকে। পরে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব পালন করছিলেন। ২০২৪ ও এই বছরের যুব বিশ্বকাপে তার কোচিংয়েই খেলেছে দক্ষিণ আফ্রিকা।
এখন মাকেতার নতুন অধ্যায় শুরু হচ্ছে বাংলাদেশে। জাতীয় দলের প্রধান কোচ সিমন্সের পারিশ্রমিক ২৭ হাজার ডলার। মাকেতা পাবেন সাড়ে ৮ হাজার ডলার। তার মানের একজন কোচকে এই পারিশ্রমিকে পেয়ে বোর্ড কর্তারা বেশ স্বস্তি পাচ্ছেন বলেই জানা গেছে।
মাকেতা নিজেও উচ্ছ্বসিত এই দায়িত্ব পেয়ে।
“বাংলাদেশ জাতীয় দলের সহকারী কোচের পদ গ্রহণ করতে পেরে আনন্দিত। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড আমার ওপর যে আস্থা ও বিশ্বাস রেখেছে, সেজন্য আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ এবং দলের সাফল্যে ইতিবাচক অবদান রাখার জন্য আমি মুখিয়ে আছি।
আমাদের দলটি তরুণ ও সম্ভাবনাময় দল এবং ক্রিকেটারদের সেরাটা বের করে আনতে ও তাদের ধারাবাহিক উন্নয়নে সহায়তা করার জন্য ফিল (সিমন্স) এবং বাকি কোচিং স্টাফদের সাথে কাজ করতে তর সইছে না আমার।”
সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরে আফগানিস্তানের সঙ্গে একটি টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ। এরপর এই দুই দলের সঙ্গে জিম্বাবুয়েকে নিয়ে হবে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজ।
রাজনৈতিক অস্থিরতার ‘ভরকেন্দ্র’ ও বিএনপির ক্ষমতার ভবিষ্যৎ
নারী ক্রিকেটের সংস্কার কি শুধু মানুষ বদলেই সীমাবদ্ধ?
হকার উচ্ছেদ কি ঢাকার ‘ভদ্রলোকীকরণ’ প্রক্রিয়ার অংশ?
ভাতের নাকি অনুভূতির অভাব: গন্তব্য কোথায়?