1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:১৭ অপরাহ্ন

এসএসসির খাতা মূল্যায়নে ‘দুর্বলতা’, শিক্ষকদের জবাবদিহিতায় আনার কথা বললেন মন্ত্রী

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১২ Time View

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

এবারের এসএসসির খাতা পুনর্মূল্যায়নের পর তিন হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর জিপিএ ৫ পাওয়া, ফেল করা প্রায় পাঁচ হাজার শিক্ষার্থীর পাসের ঘটনায় শুরুতে খাতা দেখা শিক্ষকদের জবাবদিহিতার আনার কথা বলেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

তিনি বলেছেন, “সংখ্যাটা এখন আমি বলতে পারব না, কিন্তু অবশ্যই এটা শনাক্ত হয়েছে। এটা শনাক্ত তো সাথে সাথেই হয়েছে। যিনি খাতা দেখেছেন, সে খাতা কোন একজনের দেখেছেন—এটা শনাক্ত হয়েছে। তাদেরকে আমরা ট্রেনিং এবং জবাবদিহিতা—এটা করতেই হবে। এছাড়া এখানে ভিন্ন কোনো উপায় নেই।”

বিশ্ব শিক্ষক দিবস উদযাপন নিয়ে সোমবার সচিবালয়ে জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে আগামী ৫ অক্টোবর দেশের ১০০ গুণী শিক্ষককে সম্মাননা দেবে সরকার। সম্মাননাপ্রাপ্ত প্রতি শিক্ষককে নগদ ১ লাখ টাকা, ক্রেস্ট ও সম্মাননা সনদ দেওয়া হবে। ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠেয় এ আয়োজনে শিক্ষকদের হাতে সম্মাননা তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মন্ত্রী এসব তথ্য তুলে ধরার পর এসএসসির খাতা মূল্যায়নে অসঙ্গতির বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন সাংবাদিকরা। সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না তা জানতে চাওয়া হয়।

তখন মন্ত্রী মিলন বলেন, এবার এসএসসির পরীক্ষার্থী ছিল ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন। ফলের পর পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ দেওয়ার আগে এবার ১৯৮০ সালের পাবলিক পরীক্ষা আইনে পরিবর্তন আনা হয়।

“আগে খাতা পুনঃমূল্যায়নের সিস্টেমটা ছিল না, শুধু ট্যাবুলেশন শিট অর্থাৎ উপরে যে মার্ক যোগ হয়, সেটাকেই শুধু যোগ করা হতো। আমার ২০০১ সালের অভিজ্ঞতা যে, এই মার্ক যোগ করার পরে দেখা যেত যে ভেতরে যদি খাতা পাল্টিয়ে দেওয়া হয় বা অন্য কোনো কিছু করা হয়—তখন এই বিষয়ে কেউ জানত না।

“এই অভিজ্ঞতা থেকে এবার খাতা পুনঃমূল্যায়নের ব্যবস্থাটি আইনের ভেতরে সংযোজন করা হয়েছে যে, খাতা পুরোটাই পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে।”

এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাস করেছে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ শিক্ষার্থী, যা গত ১৯ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন।

এবার পাস করা শিক্ষার্থীর চেয়ে বেশি—১২ লাখ ৮৬ হাজার পুনঃল্যায়নের আবেদন পড়েছিল বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন।

তার ভাষ্য, “সেই আবেদন থেকে আমরা দেখেছি গ্রেড পরিবর্তন হয়ে গিয়েছে ২৭ হাজার ৮৩৬ জনের, নম্বর পরিবর্তন হয়েছে ৫৬ হাজার ২৫৯ জনের এবং ফেল থেকে পাস হয়েছে ৪ হাজার ৫৮৫ জন। অর্থাৎ ৫ হাজারের কাছাকাছি যারা ফেল করেছিল, খাতা পুনর্নিরীক্ষা করার পরে দেখা গেল, তারা পাস করেছে। এটা খুবই বড় সংখ্যা। আর সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয়টি হল ৩ হাজার ৭৯ জন জিপিএ ৫ পেয়েছে।

“এবার দেখুন বিগত দিনগুলোতে এই ব্যবস্থাটিতে না থাকার কারণে কত ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের সঠিক ফল থেকে বঞ্চিত হয়েছে। শুধু এইখানেই নয়, পরবর্তীতে আরো কিছু নতুন চমক আসবে। সেটা আমরা একটু বের করে নিই যে, কোথায় আরো দুর্বলতা রয়েছে।”

খাতা দেখা শিক্ষকদের ‘দুর্বলতা’ রয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “এই খাতাগুলোকে আমি আলাদা করে ফেলেছি। কমিটি করে এই মূল্যায়িত খাতাগুলির কার কার এক্সামিনারের কী কী দুর্বলতা রয়েছে, সেগুলিকে আমরা যাচাই করব এবং সেইভাবে ট্রেনিং ব্যবস্থা করব এবং যারা এই মূল্যায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সেটা আপনারা আগামীতে জানতে পারবেন। এটি একটি বিশাল ইস্যু, যেটাতে আমাদের ছাত্রছাত্রীরা প্রতিনিয়তই ভুক্তভোগী হবে।”

এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “এত বিশাল নম্বর যদি জিপিএ ৫ পেয়ে যায়, তাহলে বুঝতে হবে যে— আমাদের খাতা দেখায় বিগত দিনগুলোতে কী পরিমাণ দুর্বল রীতি ছিল। কী পরিমাণ স্বজনপ্রীতি ছিল এবং কী পরিমাণ ম্যানিপুলেশন ছিল। ম্যানিপুলেশনের কিন্তু আরো অনেক পদ্ধতি রয়েছে, সেগুলি আপনাদের সময় মত আমরা জানাব। সেই ব্যাপারে আমরা কাজ করছি। বললাম না একটি শব্দ, আরো চমক রয়েছে এই বিষয়ে।”

এক সাংবাদিক বলেন, ভুল ফলের কারণে শিক্ষার্থীরা অনেক সময় আত্মহননের পথ বেছে নেয়।

জবাবে এহছানুল হক মিলন বলেন, “এটা আমি জেনেছি বলেই এই ব্যবস্থাটি আমি করেছি। এই ব্যবস্থাটি করার পরে আর কেউ আত্মহত্যা করবে না, তাদের খাতায় পুনঃনিরীক্ষণ হবে।”

প্রাথমিকের শিক্ষক বদলি বন্ধ রাখার ঘোষণার পরেও গেল ২৩ সেপ্টেম্বর ৪৬ জনের বদলি হয়েছে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, “যে বদলির ফাইল উঠেছে, বদলি ইস্যু হয়েছে, হঠাৎ করে কি বদলি বন্ধ হতে পারে?

“আর বদলি তো আমাদের করতেই হবে, কারণ আমাদের চলমান প্রক্রিয়ায় এপয়েন্টমেন্ট লেটার আমাদের ইস্যু করতে হবে। যারা সংযুক্ত রয়েছে, আমাদেরকে ফাইনালি সেটেল করতে হবে হু ইজ হোয়াট পজিশন।”

বদলি নিয়ে দুর্নীতির যে প্রশ্ন উঠেছে, সেসব ঠেকাতে সামনের দিনে ‘অনলাইন বদলির’ ব্যবস্থা করার কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী মিলন।

মদিনার মিষ্টান্ন, শ্রী ঘোষের দধি: সম্প্রীতির যে রেখা চোখে পড়ে না

ডিজিটাল কলোনিয়ালিজম: আত্মপরিচয়ের সংকট ও লিঙ্গভিত্তিক সংঘাত

রাড্ডাকাণ্ড: আট মাস না পেরোতেই বড় প্রশ্নের মুখে বিএনপি

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন: অনুকম্পা নয়, সুযোগ কাজে লাগানোর সময় এখনই

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৬ প্রিয়দেশ