সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পর পুলিশ ভেরিফিকেশনে বাদ পড়া প্রার্থীরা নিয়োগের দাবিতে রংপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। আজ শনিবার বিকেল থেকে তাঁরা এ কর্মসূচি শুরু করেন।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবারের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে রংপুর জেলায় ৩৯৭ জন প্রার্থী চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হন। এর মধ্যে নির্ধারিত সময়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা না দেওয়ায় আটজন বাদ পড়েন। ৩৩৩ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে। ফলে পুলিশ ভেরিফিকেশনসহ বিভিন্ন কারণে আরও ৫৬ জন প্রার্থী নিয়োগ থেকে বাদ পড়েছেন।
অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের দাবি, চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পর তাঁরা নিয়োগপত্র পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। তাঁদের কেউ অন্য চাকরি ছেড়েছেন, আবার কেউ সরকারি চাকরির প্রস্তুতির জন্য অন্য কাজ থেকে সরে এসেছেন। কিন্তু নিয়োগপত্র পাওয়ার পরিবর্তে বাদ পড়ায় তাঁরা এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। কী কারণে তাঁদের বাদ দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে তাঁরা সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা চান।
প্রার্থীরা বলেন, তাঁরা মেধার ভিত্তিতে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। তাই আগামী ১ অক্টোবর অন্যান্য সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের সঙ্গে তাঁদেরও যোগদানের সুযোগ দিতে হবে। দাবি পূরণ না হলে তাঁরা ধারাবাহিক কর্মসূচি পালনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জ্যোতিশ মহন্ত বলেন, ‘এনটিআরসিএ নিবন্ধনের মাধ্যমে একটি বেসরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে চাকরি হয়েছিল। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ায় সেখানে যোগদান করিনি। আমি ও আমার পরিবার কোনো রাজনীতি করি না। আমার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলাও নেই। তারপরও এখন নিয়োগবঞ্চিত হয়েছি।’
মহন্ত আরও বলেন, ‘আমার বাবা দিনমজুর। মানুষের খেতে কাজ করে সংসার চালান। এখন আমি কী করব, বাবা-মাকে কী বলব—এটা বুঝতে পারছি না। এখনো তাঁদের সঙ্গে কথা বলিনি। কেন আমরা বাদ পড়লাম, সেটি জানতে চাই।’
আরেক বাদ পড়া প্রার্থী চন্দন কুমার রায় বলেন, ‘এখানে যাঁরা আছেন, তাঁদের অধিকাংশই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করেছেন। কারও বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা নেই, রাজনীতির সঙ্গেও জড়িত নই। আমাদের কাগজপত্রও ঠিক আছে। তাহলে কেন বাদ দেওয়া হলো? আমরা মেধার ভিত্তিতে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছি। আমরা চাই, ১ অক্টোবর অন্যদের সঙ্গে আমরাও যোগদান করতে পারি।’
এ বিষয়ে জানতে রংপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ এম শাহজাহান সিদ্দিকের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।