বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস
প্রাথমিক নিয়োগ পরীক্ষায় সব ধাপ অতিক্রম করে চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও নিয়োগপত্র না পেয়ে সুনামগঞ্জে জেলা প্রশাসকের বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন একদল প্রার্থী।
শনিবার বেলা ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত প্রায় দুই ঘণ্টা সেখানে অবস্থান করে নিয়োগপত্রের দাবি জানান তারা। একই সঙ্গে নিয়োগপত্র না দেওয়ার স্পষ্ট কারণও জানতে চান প্রার্থীরা।
অবস্থান কর্মসূচিকালে জেলা প্রশাসক বাসভবনে না থাকায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মতিউর রহমান খান এসে বঞ্চিত প্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের বিষয়টি দেখার আশ্বাস দেন।
বঞ্চিত প্রার্থীদের দেওয়া তথ্যমতে, চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি সহকারী শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এই পরীক্ষায় মোট ১৪ হাজার ৩৮৪ জন সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হন। জেলা পর্যায়ে বৃহস্পতিবার থেকে প্রার্থীদের নিয়োগপত্র দেওয়া শুরু হয়েছে। সারাদেশে প্রায় এক হাজার ২০০ প্রার্থী তাদের নিয়োগপত্র পাননি।
সুনামগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের দেওয়া তথ্যমতে, জেলায় মোট ৬৩৫ জন সহকারী প্রাথমিক শিক্ষক হিসেবে চূড়ান্ত সুপারিশ পেয়েছিলেন। এর মধ্যে ১৮ জন কাগজপত্র জমা দেননি।
তবে বৃহস্পতিবার রাতে প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকায় দেখা যায়, ৪৯৭ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, বাদ পড়েছেন ১২০ জন।
বাদ পড়া ১২০ জনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দিরাই উপজেলার, সেখানে ৪৪ জন নিয়োগপত্র পাননি। এ ছাড়া ছাতকের ৩৯ জন, শান্তিগঞ্জের আটজন, তাহিরপুরের ছয়জন, জগন্নাথপুরের আটজন, ধর্মপাশার একজন, বিশ্বম্ভরপুরের তিনজন, মধ্যনগরের চারজন ও দোয়ারাবাজার উপজেলার সাতজন রয়েছেন।
বঞ্চিত প্রার্থী তাহিরপুর উপজেলার কাউকান্দি গ্রামের আমিরুল হাসান বলেন, “ভেরিফিকেশন রিপোর্ট নাকি নেগেটিভ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমার রাজনৈতিক কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। মামলা বা জিডিও নেই। সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পরও কেন আমাদের বাদ দেওয়া হলো, তা জানতে চাই।”
আরেক বঞ্চিত প্রার্থী সামন্ত তালুকদার বলেন, “আমি মেধাতালিকায় সুপারিশপ্রাপ্ত ছিলাম। আমার অপরাধ কী বা ভুল কোথায়, তাও জানি না। আমাদের অধিকার ফিরে পেতেই ডিসি স্যারের বাংলোর সামনে অবস্থান নিয়েছি।”
দিরাই উপজেলার সরমঙ্গল ইউনিয়নের বাসিন্দা আকাশ দাস বলেন, “আমার বাবা ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক। তবে আমার ভাই কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। কিন্তু আমার ভাইকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। অথচ চাকরির জন্য সে কত কষ্ট করে প্রস্তুতি নিয়ে পড়ালেখা করেছে। এখন তার মন ভেঙে গেছে।”
দিরাইয়ের সংবাদকর্মী হিল্লোল পুরকায়স্থ ফেইসবুকে লিখেছেন, “ছোট ভাই অসীম ভেরিফিকেশনে বাদ পড়লো কেন এর সঠিক কারণ এখনো খুঁজে পাচ্ছি না। অসীম যখন বাবার কাছে পড়তে আসতো বাবা তাকে মেধাবী ছাত্র হিসেবে আখ্যায়িত করতেন। পরবর্তীতে সে অনার্স ও মাস্টার্সে গণিত বিষয়ে মাস্টার্স সম্পন্ন করেছে। ৫ ভাইয়ের মধ্যে তিন ভাই সরকারি চাকরিজীবী। যদিও দুঃখজনকভাবে তাদের মধ্যে দুজন বেঁচে নেই। আমার জানা মতে, তাদের পরিবারের কাউকে কখনো রাজনৈতিক সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে দেখিনি। অসীমের নিজের বাড়ি আছে। শিক্ষাগত যোগ্যতার মূল সনদও আছে। তার বিরুদ্ধে কোনও মামলা আছে বলে আমার জানা নেই।”
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহন লাল দাস বলেন, অধিদপ্তর থেকে ১২০ জনকে নিয়োগপত্র না দিতে বলা হয়েছে। তবে আগামী সোমবার অধিদপ্তর থেকে বাদ পড়াদের তালিকা ও কাগজপত্র পাঠানো হবে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মতিউর রহমান খান বলেন, “যারা সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও নিয়োগপত্র পাননি, তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় তাদের বিষয়ে কাজ করছে। আমরা প্রার্থীদের দাবির বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখছি।”
পাকিস্তানিদের আত্মসমর্পণ কী ফোয়ারার পানিতে ধুয়ে যাবে?
মরিয়মের মৃত্যু ও জনতার আদালত নিয়ে ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি
বাপি শাহরিয়ারের স্মৃতি, মেহেদীর মৃত্যু এবং ‘আলালের ঘরের দুলাল’
‘ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে সময় কাটান নিরুপায় জাতিসংঘ’