বাংলাদেশের এলডিসি থেকে উত্তরণের সময় ৩ বছর পেছানোর বিষয়ে জাতিসংঘের দি ইকোনমিক অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল কমিটি (সেকেন্ড কমিটি) অব দ্য জেনারেল অ্যাসেম্বলি আগামী ৭ অক্টোবর বৈঠকে বসবে।
এই কমিটির তৈরি করা রেজল্যুশনের পক্ষে-বিপক্ষে জাতিসংঘে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর স্থায়ী প্রতিনিধিরা নিজ নিজ দেশের পক্ষে ভোট দেবেন। বেশিরভাগ দেশ বাংলাদেশের উত্তরণ পেছানোর পক্ষে ভোট দিলে তা কার্যকর হবে।
জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগামী ১ অক্টোবর থেকে ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত সেকেন্ড কমিটির ৮১তম সাধারণ অধিবেশনের বৈঠক চলবে। এর মধ্যে বাংলাদেশ ও নেপাল এলডিসি থেকে উত্তরণ তিন বছর পেছানোর যে আবেদন করেছে, তার ভিত্তিতে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (ইউএনসিডিপি) ও জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাউন্সিলের (ইকোসক) পাঠানো সুপারিশ ৭ অক্টোবরের বৈঠকের জন্য এজেন্ডাভুক্ত রয়েছে।
আগামী ২৪ নভেম্বর বাংলাদেশের এলডিসি থেকে উত্তরণের কথা রয়েছে। এর আগেই সেকেন্ড কমিটি তাদের সভায় গৃহীত সুপারিশ সাধারণ অধিবেশনে সদস্য দেশগুলোর ভোটাভুটির জন্য পাঠাবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। জাতিসংঘে বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলের স্থায়ী প্রতিনিধিরা ওই রেজুলেশনের পক্ষে-বিপক্ষে ভোট দেবেন।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডাব্লিউটিও) সেলের সাবেক মহাপরিচালক মো. হাফিজুর রহমান টিবিএসকে বলেন, বাংলাদেশের এলডিসি থেকে উত্তরণ পেছানোর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ইউএনসিডিপির সুপারিশ ইকোসক হয়ে সাধারণ পরিষদের সেকেন্ড কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে। এখন সেকেন্ড কমিটি মিটিং করে তাদের মিটিংয়ের রেজল্যুশন সাধারণ অধিবেশনে পাঠাবে। সেখানে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।
চলতি বছরের ২৪ নভেম্বর বাংলাদেশের এলডিসি থেকে উত্তরণের সময়সীমা নির্ধারিত থাকলেও টেকসই গ্রাজুয়েশনের প্রস্তুতির জন্য বাংলাদেশের আরও সময়ের প্রয়োজন উল্লেখ করে উত্তরণ তিন বছর পেছানোর অনুরোধ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘে চিঠি দিয়েছেন।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে ইউএনসিডিপি ইকোসকে রিপোর্ট পাঠিয়ে বলেছে, বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উত্তরণে তিনটি সূচকের প্রতিটিতেই নির্ধারিত সীমা উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে অতিক্রম করেছে। তবে যেহেতু দেশটি পেছানোর জন্য আবেদন করেছে, তাই কিছু সময়ের জন্য তা পেছানো যেতে পারে। ইকোসক ইউএনসিডিপির সুপারিশটি সাধারণ অধিবেশনের সেকেন্ড কমিটির কাছে পাঠিয়েছে।
বাংলাদেশের পাশাপাশি নেপালও তাদের উত্তরণ তিন বছরের জন্য পেছাতে জাতিসংঘের কাছে আবেদন করেছে। বাংলাদেশের সঙ্গে নেপালের বিষয়ে ভোট দেবে সদস্য রাষ্ট্রগুলো।
While most comments will be posted if they are on-topic and not abusive, moderation decisions are subjective. Published comments are readers’ own views and The Business Standard does not endorse any of the readers’ comments.