1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:২৬ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
রাজশাহী মেডিকেলে চলতি মাসের ২৫ দিনে ডেঙ্গুতে ৮ জনের মৃত্যু খুলনা বিভাগে ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৫ জনের মৃত্যু, নতুন ভর্তি ২৭৬ রাষ্ট্র পরিচালনাকে বিএনপি দায়িত্ব মনে করে: নজরুল আ.লীগের নেতাকর্মীদের আশ্রয় দেওয়ার কথা স্বীকার বিএনপি নেত্রীর, ফতুল্লায় তোলপাড় অস্ত্র নিয়ে মারামারির ঘটনায় বিএনপি নেতাকে শোকজ চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার অভিনেত্রী, ব্যাংকে মিললো লেনদেনের প্রমাণ খেলার মাঠে অসুস্থ হয়ে আশরাফুলের মৃত্যু মোহাম্মদী হাউজিংয়ে গাড়িমুক্ত সড়কে শিশুদের খেলার উৎসব জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গবেষণা-উদ্ভাবনে গুরুত্বারোপ চিফ হুইপের ঢাকার পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, যে অর্জন বাংলাদেশের

অনুমতি ছাড়াই বিশ্বের ‘কয়েক ডজন’ প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে হস্তক্ষেপ এআই বটের

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৭ Time View

ওপেনএআই স্বীকার করেছে, তাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বটের অনিয়মিত কর্মকাণ্ডের কারণে বিশ্বের ‘কয়েক ডজন’ প্রতিষ্ঠানকে সতর্ক করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে এআই এজেন্টগুলো অননুমোদিতভাবে হস্তক্ষেপ বা তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওপেনএআইয়ের এআই এজেন্টগুলো বিভিন্ন সরকার, বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি সংস্থা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট থেকে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি), সেন্সাস ব্যুরো এবং শিক্ষা বিভাগের ওয়েবসাইটও রয়েছে।

ওপেনএআই জানিয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে এআই টুলগুলো সরকারি ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ‘বিশ্বস্ত ও কর্তৃত্বপূর্ণ’ উৎস থেকে প্রকাশ্য তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছিল। তবে কয়েকটি ঘটনায় এসব এজেন্ট ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এড়িয়ে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেছে।

সেন্সাস ব্যুরোর তথ্য সংগ্রহের সময় এআই এজেন্টগুলো এমন কিছু টুল ব্যবহার করে, যেগুলো মূলত সফটওয়্যার ডেভেলপারদের জন্য সংরক্ষিত ছিল। তবে ওপেনএআই বলেছে, যেসব সরকারি সংস্থার ওয়েবসাইটে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঘটেছে, সেখান থেকে বটগুলো যে তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করেছে বা পেয়েছে, সেগুলো প্রকাশ্য তথ্য ছিল। তবে অন্য কিছু ঘটনায় এআই এজেন্ট এমন তথ্যও স্থানান্তর করেছে, যা তাদের করা উচিত ছিল না। ওপেনএআইয়ের তথ্যমতে, অন্তত ৫৩টি ঘটনায় তাদের কোনো এআই এজেন্ট চ্যাটজিপিটি ব্যবহারকারীর কার্যক্রম থেকে একটি ছবি নিয়ে অন্য কোথাও স্থানান্তর করেছে।

কোম্পানিটি জানিয়েছে, এসব ঘটনায় যেসব ব্যবহারকারীর ছবি ব্যবহার ও স্থানান্তর করা হয়েছিল, তারা ওপেনএআইকে নিজেদের তথ্য এআই মডেল প্রশিক্ষণে ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিলেন। তবে ওপেনএআই স্বীকার করেছে, ‘এটি ওই তথ্য ব্যবহারের উপযুক্ত পদ্ধতি ছিল না।’

কোম্পানিটি আরও জানিয়েছে, এআই প্রশিক্ষণসংক্রান্ত নতুন নিরাপত্তাব্যবস্থা চালুর আগেই ব্যবহারকারীদের ছবিগুলো স্থানান্তরের ঘটনা ঘটে। তৃতীয় পক্ষের কাছে স্থানান্তরিত সব ছবি মুছে ফেলার জন্য কাজ চলছে।

নতুন এসব তথ্য প্রকাশের কয়েক দিন আগেই অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ জানিয়েছিলেন, ওপেনএআইয়ের এআই এজেন্ট অস্ট্রেলিয়া সরকারের পরিচালিত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা মেডিকেয়ারের ওয়েবসাইটে থাকা কিছু অপ্রকাশ্য ফাইলে প্রবেশ করেছিল।

এর আগে রয়টার্স প্রথমবারের মতো ওপেনএআইয়ের এ ধরনের কর্মকাণ্ড নিয়ে বিস্তৃত তদন্তের খবর প্রকাশ করে। পরে ওপেনএআইও তাদের ব্লগে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করে।

ওপেনএআই বলেছে, কিছু ঘটনায় এআই এজেন্ট ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ ‘বাইপাস’ করেছে। আবার কিছু ক্ষেত্রে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টায় এআই এজেন্টের ‘মিসঅ্যালাইনমেন্ট’ বা নির্ধারিত উদ্দেশ্যের বাইরে কাজ করার ঘটনা ঘটেছে। এআই গবেষণায় মিসঅ্যালাইনমেন্ট বলতে সাধারণত এমন আচরণকে বোঝায়, যেখানে কোনো এআই সিস্টেম তাকে দেওয়া প্রশিক্ষণ বা উদ্দেশ্যের বাইরে গিয়ে কাজ করে।

তবে কোন কোন প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তার বিস্তারিত প্রকাশ করতে চাইছে না ওপেনএআই। কোম্পানিটি জানিয়েছে, অনেক প্রতিষ্ঠানই তাদের নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করেছে।

ওপেনএআই বলেছে, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে ঘটনার প্রয়োজনীয় তথ্য জানানো এবং ঘটনাটি কখন ও কীভাবে প্রকাশ করা হবে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেওয়া।’

কোম্পানিটি আরও জানিয়েছে, এসব ঘটনার সবগুলোকে গুরুতর নিরাপত্তা লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান হয়তো দেখতে পারে যে সংশ্লিষ্ট তথ্য আগে থেকেই প্রকাশ্য ছিল কিংবা এআই মডেলের কর্মকাণ্ড উদ্বেগজনক ছিল না। আবার অন্য প্রতিষ্ঠান কোনো নকশাগত ত্রুটি বা নিরাপত্তা দুর্বলতা শনাক্ত করে তা সংশোধনের উদ্যোগ নিতে পারে।

ওপেনএআই এসব ঘটনার অনেকগুলোকে ‘এজেন্ট স্প্যাম’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। এর মাধ্যমে এমন অপ্রত্যাশিত বা উদ্বেগজনক এআই কর্মকাণ্ডকে বোঝানো হচ্ছে, যার মধ্যে ইন্টারনেটে তথ্য প্রকাশ বা পোস্ট করার মতো কাজও রয়েছে।

জুলাইয়ে ওপেনএআইয়ের এআই এজেন্টের একটি ‘ঝাঁক’ বা ‘সোয়র্ম’ কোনো নির্দেশনা ছাড়াই এআই ডেভেলপার প্ল্যাটফর্ম হাগিং ফেসে হ্যাকিংয়ের চেষ্টা করার পর বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা শুরু করে ওপেনএআই। হাগিং ফেস প্রথমে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আনে। পরে ওপেনএআইও এর দায় স্বীকার করে।

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের এক বৈঠকে হাগিং ফেসের প্রধান ক্লেমঁ দেলাঙ্গু বলেন, ‘আমি প্রায়ই ভাবি, আমি যদি ওই হামলার কথা প্রকাশ্যে না জানাতাম, তাহলে কী ঘটত।’

তিনি আরও বলেন, এখন জানা যাচ্ছে যে এর আগেও কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় এআই প্রতিষ্ঠানে একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল, যা কয়েক মাস ধরে গোপন ছিল এবং সেগুলোর পর্যাপ্ত নজরদারিও ছিল না।

ওই বৈঠকেই ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) স্যাম অল্টম্যান এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিকের প্রধান দারিও আমোদেই এআই নিরাপত্তার জন্য বৈশ্বিক মানদণ্ড এবং এ ধরনের ঘটনা পর্যবেক্ষণ ও প্রতিবেদন করার ব্যবস্থা তৈরির আহ্বান জানান।

ওপেনএআই জানিয়েছে, তারা বর্তমানে এআই এজেন্টগুলোর প্রশিক্ষণসংক্রান্ত কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করছে। জুলাইয়ের হাগিং ফেসের ঘটনার সময় থেকে মাস ধরে পেছনের ঘটনাগুলোও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

কোম্পানিটির ভাষ্য, এখন পর্যন্ত শনাক্ত হওয়া বেশির ভাগ ঘটনাই কম ঝুঁকির এবং এসব ঘটনায় বড় ধরনের প্রভাবের প্রমাণ সীমিত বা একেবারেই নেই। তবে বিপুলসংখ্যক ঘটনা পর্যালোচনা ও প্রতিটি ঘটনা যাচাই করতে সময় লাগবে। এ কাজ শেষ হতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।

এদিকে কানাডার ইউনিভার্সিটি অব মন্ট্রিয়ালের মেশিন লার্নিংয়ের অধ্যাপক ও এআই নিরাপত্তা সংগঠন ‘ইভিটেবল’-এর প্রতিষ্ঠাতা ডেভিড ক্রুগার এআই-সংক্রান্ত ঘটনার ক্রমবর্ধমান সংখ্যা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

তিনি এআই উন্নয়নের ওপর ‘তাৎক্ষণিক ও অনির্দিষ্টকালের আন্তর্জাতিক স্থগিতাদেশ’ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ক্রুগারের মতে, এখন পর্যন্ত ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর প্রকৃত পরিধি পুরোপুরি জানা যায়নি এবং ভবিষ্যতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া এআইয়ের ঘটনা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। তথ্যসূত্র: বিবিসি, রয়টার্স।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৬ প্রিয়দেশ