প্রায় দুই দশক পর বড় পর্দায় ফিরেছিলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী অপি করিম। তাঁর সেই প্রত্যাবর্তনের সিনেমা ‘মায়ার জঞ্জাল’ এবার মুক্তি পেতে যাচ্ছে ওটিটিতে। বাংলাদেশ-ভারত যৌথ প্রযোজনার আলোচিত ও আন্তর্জাতিক সমালোচকদের প্রশংসা কুড়ানো সিনেমাটি আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর রাত ১২টায়, অর্থাৎ ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকিতে দেখা যাবে। এটি ছিল তাঁর দ্বিতীয় সিনেমা এবং যৌথ প্রযোজনায় প্রথম সিনেমা।
সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন পশ্চিম বঙ্গের প্রশংসিত নির্মাতা ‘ফড়িং’, ‘একটি বাঙালি ভূতের গপ্পো’, ‘ভালোবাসার শহর’ খ্যাত ইন্দ্রনীল রায় চৌধুরী এবং এর প্রযোজক বাংলাদেশের জসীম আহমেদ। কথাসাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুটি ছোটগল্প ‘বিষাক্ত প্রেম’ ও ‘সুবালা’ অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে সিনেমাটি।
প্রায় দুই দশক পর সিনেমায় যুক্ত হওয়া প্রসঙ্গে অভিনেত্রী অপি করিম বলেছিলেন, ‘‘প্রথমে লেখাপড়া এবং পরে কাজের চাপে সিনেমায় নিয়মিত হতে পারিনি। কিন্তু এই সিনেমাটা (মায়ার জঞ্জাল) করেছিলাম নির্মাতা ইন্দ্রনীল রায়চৌধুরীর কারণে। তার ‘ফড়িং’, ‘ভালোবাসার শহর’ দেখে অনেক ভালো লেগেছিল। বিশেষ করে ‘ভালোবাসার শহর’–এ জয়া আপুর (জয়া আহসান) অভিনয় এত ভালোলেগেছিল যে, আমারও একটু কাজ করার আগ্রহ হয়েছিল। সেই আগ্রহ থেকেই কাজটি করা। এর সঙ্গে আরও আগ্রহ বাড়িয়েছেন অভিনেতা ঋত্বিক চক্রবর্তী। আর গল্প এবং চরিত্রগুলোও খুব ন্যাচারাল।”
সিনেমায় অপি করিমের চরিত্রের নাম ‘সোমা’। তার স্বামীর ভূমিকায় অভিনয় করেছেন কলকাতার জনপ্রিয় অভিনেতা ঋত্বিক চক্রবর্তী। তার চরিত্রের নাম ‘চন্দন’।
অন্যান্য চরিত্রগুলোতে অভিনয় করেছেন ঢাকার সোহেল মন্ডল, কলকাতার পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, ব্রাত্য বসু, চান্দ্রেয়ী ঘোষ। সিনেমায় সমান্তরাল দুটি গল্পে দেখা যায়- সমাজ থেকে ছিটকে পড়া দুজন মানুষ সোমা ও চন্দন কীভাবে জীবনের কঠিন বাস্তবতার মাঝে টিকে থাকার পথ খোঁজে। আবেগ, বাস্তবতা ও জীবনের নির্মম রূপ তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন পরিচালক।
সিনেমায় গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন বাংলাদেশের নামকরা অভিনেতা সোহেল মন্ডল। সিনেমায় তার চরিত্র নিয়ে বলেন, ‘আমার চরিত্রটা খুব ইন্টারেস্টিং। নাম সত্য। এটা ছিল আমার ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের কাজ এবং আমি মনে করি, খুবই গুরুত্বপূর্ণ কাজ, যেটা আমার পরবর্তী কাজগুলোর ভিত তৈরি করেছে। এই সিনেমায় অভিনয়ের জন্য আমি নবাগত অভিনেতা হিসেবে ফিল্ম ফেয়ার বাংলা পুরস্কার পেয়েছি। সব মিলিয়ে আমার ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ কাজটি এবার চরকিতে আসছে এটা খুবই আনন্দের। কারণ সিনেমাটি যারা দেখার অপেক্ষায় ছিলেন, তারা দেখতে পারবেন।’
নির্মাতা জানান, নগরজীবনের কঠিন বাস্তবতার পটভূমিতে নির্মিত ‘মায়ার জঞ্জাল’ দারিদ্র্য, বেকারত্ব, ভঙ্গুর সম্পর্ক ও নৈতিক আপসের সঙ্গে লড়াই করা কয়েকজন মানুষের গল্প। তাদের জীবন একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভালোবাসা, হতাশা ও টিকে থাকার সংগ্রাম তাদের কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি করে, উন্মোচন করে দৈনন্দিন জীবনের আড়ালে লুকিয়ে থাকা আবেগ ও সামাজিক জটিলতা।
সিনেমার প্রযোজক জসিম আহমেদ এবং নির্মাতা ইন্দ্রনীল রায় চৌধুরী দীর্ঘদিনের পরিচিত বা বন্ধু। সিনেমাকে ভালোবেসেই তাদের এগিয়ে যাওয়া। বাংলা সিনেমাকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিয়ে যাওয়ার বাসনা থেকে যে কাজ শুরু করেছিলেন, সেটা তারা কিছুটা হলেও করতে পেরেছিলেন ‘মায়ার জঞ্জাল’ সিনেমা দিয়ে। সিনেমাটি ২০২০ সালে সাংহাই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে বিশ্ব প্রিমিয়ার করে এবং এশিয়ান নিউ ট্যালেন্ট অ্যাওয়ার্ড বিভাগে মনোনয়ন পায়।
একই বছর মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবেও সিনেমাটি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচিত হয়, যেখানে হয় ইউরোপিয় প্রিমিয়ার। পরে ইতালির ২১তম এশিয়াটিকা চলচ্চিত্র উৎসবে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বিভাগে জুরি পুরস্কার এবং কলকাতার আর্টহাউস এশিয়া চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা দক্ষিণ এশীয় পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের পুরস্কার অর্জন করে সিনেমাটি। ২০২২ সালে ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের এশিয়ান ফিল্ম কম্পিটিশন বিভাগে অংশ নিয়ে ‘মায়ার জঞ্জাল’ সেরা চিত্রনাট্যের পুরস্কার পায়। এরপর ২০২৪ সালের ‘ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ডস বাংলা’-তে সাতটি (৭) বিভাগে পুরস্কার জেতে সিনেমাটি।
দুই বাংলার প্রেক্ষাগৃহে সিনেমাটি মুক্তি পেয়েছিল ২০২৩ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি। তখন অপি করিমের বড় পর্দায় প্রত্যাবর্তন এবং ঋত্বিক চক্রবর্তীর সঙ্গে তাঁর জুটি নিয়ে দর্শকের আগ্রহ ছিল বেশ। এবার প্রেক্ষাগৃহের পর্দা পেরিয়ে ওটিটিতে আসছে সেই আলোচিত সিনেমা। যারা প্রেক্ষাগৃহে দেখতে পারেননি, কিংবা আবারও ‘মায়ার জঞ্জাল’-এর গল্পে ফিরতে চান, তারা আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা (২৪ সেপ্টেম্বর) থেকে চরকিতে সিনেমাটি দেখতে পারবেন।