1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:১০ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
ফিফা থেকে বড় অঙ্কের আর্থিক সহায়তা পেতে পারে বাংলাদেশ গ্যাসের চুলার পাইপে মিললো ৬ হাজার ইয়াবা, মূল হোতা আটক ২৪ ঘণ্টায় দেশে গ্যাস উৎপাদন ২ হাজার ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল স্পেকট্রাম, নবায়নের চাপে পরীক্ষায় টেলিকম খাতের বিনিয়োগ সক্ষমতা এশিয়ান গেমসে বড় বহর নিয়ে বাংলাদেশ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন নেতার মাজারের সামনে হাতবোমা বিস্ফোরণ ইসলামী ব্যাংকের চাকুরিচ্যুতদের ওপর ‘হামলার’ বিচার দাবি ব্যাংক খাতে তদারকি: ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পাশাপাশি আরও ২টি সংস্থা দরকার’ ‘ড্রেসিংরুমটাই বদলে দিয়েছি, এখন সবাই জানে কী করতে হবে’ ঢাকাসহ ৩৭ জেলায় তীব্র বজ্রপাতের শঙ্কা, হতে পারে ভারী বৃষ্টি

ফিফা থেকে বড় অঙ্কের আর্থিক সহায়তা পেতে পারে বাংলাদেশ

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৯ Time View

ফিফার কোষাগারে জমে থাকা বিশাল অঙ্কের রিজার্ভ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার জোরালো দাবি জানিয়েছে উয়েফা (ইউরোপিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন) এবং কনকাকাফ (উত্তর, মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন)। এই প্রস্তাব সফল হলে বাংলাদেশসহ ফিফার ২১১টি সদস্য দেশের প্রত্যেকেই এককালীন বড় অঙ্কের আর্থিক সহায়তা পেতে পারে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘বিবিসি’র এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ফিফার প্রতিটি সদস্য দেশকে অন্তত ১ কোটি মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ১২২ কোটি টাকারও বেশি) করে দেওয়ার বিশেষ আহ্বান জানিয়ে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছেন এই দুই মহাদেশীয় ফুটবল সংস্থার প্রধানরা।

ইনফান্তিনোকে পাঠানো ওই চিঠিতে উয়েফা সভাপতি আলেক্সান্ডার সেফেরিন এবং কনকাকাফ সভাপতি ভিক্টর মন্তাগলিয়ানি উল্লেখ করেছেন যে, ২০২৩-২৬ অর্থবছর শেষে ফিফার রিজার্ভ বা সঞ্চিত অর্থের পরিমাণ প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলারে গিয়ে ঠেকতে পারে।

তাদের হিসাব অনুযায়ী, ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ পর্যন্ত নিজেদের যাবতীয় প্রয়োজন মেটানোর পরেও ফিফার এই বিশাল অঙ্কের রিজার্ভের একটি বড় অংশের কোনো প্রয়োজনই পড়বে না।

তাই আগামী ২০২৭-৩০ চক্রে ফিফার প্রতিটি সদস্য অ্যাসোসিয়েশনকে অন্তত ১০ মিলিয়ন ডলার করে অনুদান দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন তারা। মূলত দেশের ফুটবল অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সামগ্রিক ফুটবলের মানোন্নয়নেই এই অর্থ ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।

হিসাব কষে দেখা গেছে, এই এককালীন অর্থ ছাড় করতে গেলে ফিফার মোট খরচ হবে প্রায় ২.১১ বিলিয়ন ডলার। আর এই পুরো অর্থটিই নিয়মিত উন্নয়ন তহবিলের বাইরে অতিরিক্ত অনুদান হিসেবে দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

মূলত ফিফার বাণিজ্যিক ও টিকিটিং স্বত্ব বিক্রির বিষয়ে জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর একটি বিতর্কিত পরিকল্পনার জেরে নতুন করে এই দ্বন্দ্ব ও বিরোধের সূত্রপাত হয়েছে। ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) নামের ওই বিতর্কিত পরিকল্পনায় বিশ্বকাপসহ ফিফার অন্যান্য বড় টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক ও টিকিটিং স্বত্ব পরিচালনার জন্য সম্পূর্ণ নতুন একটি কোম্পানি গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছিল।

এমনকি সেই নতুন কোম্পানির ২১ শতাংশ শেয়ার একটি বহিরাগত বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার প্রস্তাবও ছিল। তবে জাতীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনগুলোর তীব্র বিরোধিতার মুখে শেষ পর্যন্ত পরিকল্পনাটি প্রকাশ্যে আসার মাত্র চার দিনের মাথায় বাতিল করতে বাধ্য হয় ফিফা।

এর আগে ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোকে আশ্বস্ত করে জানিয়েছিলেন যে, ওই পরিকল্পনাটি যদি অনুমোদিত হয়, তবে প্রতিটি দেশ ৪০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পেতে পারে। এমনকি যেসব ফেডারেশন এই প্রস্তাবের পক্ষে সমর্থন জানাবে, তাদের প্রাথমিকভাবে ২০ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার লোভনীয় প্রস্তাব দিয়ে ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছিলেন তিনি।

তবে উয়েফা ও কনকাকাফের পাঠানো চিঠিতে পরিষ্কার বলা হয়েছে, ফিফার নিজস্ব প্রকাশিত আর্থিক হিসাব-নিকাশ ও বাজেট পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করেই তাদের মনে হয়েছে যে, সদস্য দেশগুলোকে অতিরিক্ত এই অর্থ দেওয়ার জন্য ওই বিতর্কিত ‘এফএফই’ পরিকল্পনার বিন্দুমাত্র প্রয়োজন নেই।

চিঠিতে আরও দাবি করা হয়েছে, তাদের এই আর্থিক বিশ্লেষণটি ‘ইচ্ছাকৃতভাবেই রক্ষণশীল’ রাখা হয়েছিল। বছর শেষে ফিফার আর্থিক পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠার পর সঞ্চিত রিজার্ভ থেকে আরও বড় অঙ্কের অর্থ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বণ্টন করার বিষয়টি ফিফা কাউন্সিলের গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত বলে মত দিয়েছে দুই মহাদেশীয় কনফেডারেশন।

পাশাপাশি, ফিফার পুরো আর্থিক ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা আনতে একটি স্বাধীন পর্যালোচনা বা অডিট করার দাবিও জানানো হয়েছে। ওই পর্যালোচনায় ফিফার আর্থিক হিসাবের মূল তথ্য এবং বাজেট তৈরির ক্ষেত্রে যেসব অনুমান বা ভিত্তি ধরা হয়েছে, সেগুলোতে যেন পূর্ণ প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়, সেই দাবিও তুলেছেন তারা।

চিঠিতে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, ফিফার কাছে বর্তমানে যে হাজার হাজার কোটি টাকার রিজার্ভ জমা রয়েছে, তা মূলত বিশ্ব ফুটবলের এবং ২১১টি সদস্য অ্যাসোসিয়েশনের সার্বিক কল্যাণের জন্যই জমা রাখা হয়েছে। তাই ফিফার ভবিষ্যৎ প্রয়োজনের তুলনায় এই অতিরিক্ত অর্থের একটি অংশ অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সদস্য দেশগুলোর মাঝে ছাড় করা যায় কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে ভেবে দেখা উচিত।

সেফেরিন ও মন্তাগলিয়ানি তাদের চিঠিতে লিখেছেন, ‘ফুটবলের উন্নয়ন করা ফিফার প্রাতিষ্ঠানিক ও নৈতিক দায়িত্ব—এটি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির ব্যক্তিগত ইচ্ছা বা মর্জির ওপর ছেড়ে দেওয়ার মতো বিষয় নয়।’

এদিকে শুধু চিঠি পাঠানোই নয়, এই প্রস্তাবের পক্ষে সমর্থন আদায় করতে এশিয়া, আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা ও ওশেনিয়ার বাকি ফুটবল কনফেডারেশনগুলোর সভাপতিদের কাছেও আলাদাভাবে চিঠি পাঠিয়েছেন তারা।

এর ঠিক এক দিন আগেই ইংল্যান্ডের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এফএ) চেয়ারপারসন ডেবি হিউইট ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো এবং মহাসচিব ম্যাটিয়াস গ্রাফস্ট্রমকে চিঠি দিয়ে ওই ‘এফএফই’ পরিকল্পনা সংক্রান্ত যাবতীয় গোপন নথি জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন।

ফিফার সহ-সভাপতি হিউইট একই সঙ্গে ফিফা কাউন্সিলকে যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগানের বিশ্বকাপ নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের বিতর্কিত সিদ্ধান্তটি কোন প্রক্রিয়ায় বাতিল করা হয়েছিল, সে বিষয়েও লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

আগামী ১৫ অক্টোবর ফিফা কাউন্সিলের পরবর্তী সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তার আগেই সংশ্লিষ্ট সব গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র কাউন্সিলের সব সদস্যের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে।

এদিকে ৫৬ বছর বয়সী বর্তমান ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো আগামী বছরের মার্চে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচনে চতুর্থবারের মতো ফিফা সভাপতি পদে লড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তার বিরুদ্ধে শক্তিশালী কোনো বিকল্প প্রার্থী দাঁড় করানোর জন্য প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর সামনে আগামী ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা রয়েছে।

এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত ফিফা এই চাপে নুইয়ে পড়ে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বড় অঙ্কের এই অর্থ বিতরণ করে কি না। এমনটি ঘটলে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনও (বাফুফে) এর সুফল পেতে পারে এবং দেশের ফুটবলের উন্নয়নে বড় অঙ্কের আর্থিক সহায়তা হাতে পেতে পারে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৬ প্রিয়দেশ