প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেছেন, গত ছয় মাসে বাকস্বাধীনতা, আইনের অনুশাসন ও মানবাধিকারে সর্বোচ্চ মানদণ্ড স্থাপন দেখেছি, যেখানে একটি বারের জন্য কখনো কোনো রাজনৈতিক নিপীড়ন হয়নি।
তিনি বলেছেন, অনেক সময় বাকস্বাধীনতা সেটা সীমালঙ্ঘন করেছে।
আমরা দেখেছি, কীভাবে উস্কানি দেওয়া হয়েছে, উশোভন আচরণ করা হয়েছে। কিন্তু সরকারের সর্বোচ্চ ধৈর্য ও সহনশীলতার মাধ্যমে -যেভাবে জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র এসটাবলিশড করেছিলেন- সেটিকে ধারণ করে এগিয়ে চলেছে জনগণের সরকার।
সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর তেজগাঁও কার্যালয়ের ‘শাপলা’ হলে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এ বিশেষ সভায় তিনি এ কথা বলেন।
সভায় উপস্থিত রয়েছেন- প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও কৃষি উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও শিল্প উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, গত ছয় মাসে সবচেয়ে চোখে পড়ার মতো বিষয় হলো, নির্বাচনী ইশতেহারকে ধারণ করে প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য সরকার কাজ করে চলেছে। এই ছয় মাসে সুদৃঢ় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সরকারের প্রতিটি কার্যক্রমে অনুরোণিত হয়েছে।
মাহদী আমিন বলেন, গত ছয় মাসে সরকারের প্রতি জনগণের অভূতপূর্ব জনসমর্থন দেখা গিয়েছে। গত ছয় মাসে অজস্র গণসম্পৃক্ত কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী দেশজুড়ে যেখানে গিয়েছেন সেখানে জনগণের ঢল নেমে এসেছে।
জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসকে ধারণ করে বর্তমান সরকার দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতা নিয়ে এগিয়ে চলেছে।
তিনি বলেন, আজকের সরকারের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। ফ্যাসিবাদ বিরোধী দেড় দশকের সেই রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম -যেখানে গুম-খুন হামলা ও মানবাধিকার লঙ্ঘন পেরিয়ে- বাংলাদেশের সব গণতন্ত্রকামী রাজনৈতিক দল বিএনপির নেতৃত্বে রাজপথে ছিল। সেই রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় প্রতিটি শ্রেণী ও পেশার মানুষ এবং গণতন্ত্রকামী প্রতিটি রাজনৈতিক দল এক হয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটিয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় গণমানুষের যে আকাঙ্ক্ষা এমন একটি বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে মানবাধিকার থাকবে, বাকস্বাধীনতা থাকবে, আইনের অনুশাসন থাকবে।
আমরা ঠিক সেটিই দেখেছি সরকারের কার্যক্রমে।
মাহদী আমিন বলেন, গত ছয় মাসে বাকস্বাধীনতা, আইনের অনুশাসন ও মানবাধিকারে সর্বোচ্চ মানদণ্ড স্থাপন দেখেছি, যেখানে একটি বারের জন্য কখনো কোনো রাজনৈতিক নিপীড়ন হয়নি। অনেক সময় বাকস্বাধীনতা সেটা সীমালঙ্ঘন করেছে। আমরা দেখেছি, কীভাবে উস্কানি দেওয়া হয়েছে, উশোভন আচরণ করা হয়েছে। কিন্তু সরকারের সর্বোচ্চ ধৈর্য ও সহনশীলতার মাধ্যমে -যেভাবে জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র এসটাবলিশড করেছিলেন- সেটিকে ধারণ করে এগিয়ে চলেছে জনগণের সরকার।
তিনি বলেন, আমরা দেখেছি, অত্যন্ত প্রাণবন্ত ও স্বতস্ফূর্ত সংসদ যেখানে সংসদ সদস্যরা একে অপরের আলোচনা করেছেন, সমালোচনা করেছেন। যৌক্তিকভাবে বিভিন্ন বিষয় উপস্থাপন করেছেন। আলোচনা তুলে ধরেছেন।
তিনি জানান, সরকার গঠনের পর দেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন সংসদের প্রথম অধিবেশনে শতাধিক অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তর করা হয়েছে জুলাই অভ্যুত্থানের সেই আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে।