হলিউডের দুই বিনোদন জায়ান্ট প্যারামাউন্ট গ্লোবাল এবং ওয়ার্নার ব্রাদার্স ডিসকভারির বহুল আলোচিত একীভূতকরণ (মার্জার) প্রক্রিয়ার ওপর সাময়িক স্থগিতাদেশ জারি করেছেন মার্কিন ফেডারেল আদালত। ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ডের একটি ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক আর্যাসেলি মার্টিনেজ-ওলগুইন এই মেগা-একীভূতকরণের ওপর ১৪ দিনের একটি অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা প্রদান করেছেন।
ক্যালিফোর্নিয়াসহ যুক্তরাষ্ট্রের ১২টি অঙ্গরাজ্যের একটি জোটের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এই সিদ্ধান্ত নেন। অঙ্গরাজ্যগুলোর দাবি, এই দুটি বড় মিডিয়া প্রতিষ্ঠান এক হয়ে গেলে তা ফেডারেল অ্যান্টিট্রাস্ট বা ট্রাস্ট-বিরোধী আইন লঙ্ঘন করবে, যার ফলে বিনোদন বাজারে প্রতিযোগিতা কমে যাবে, সিনেমার টিকিটের দাম ও স্ট্রিমিং খরচ বাড়বে এবং দর্শক ও নির্মাতারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
বিচারক তার রায়ে উল্লেখ করেছেন যে, মামলাটির গুণগত মান ও আইনি ভিত্তি নিয়ে গভীর প্রশ্ন রয়েছে, যা এই মুহূর্তে এই চুক্তিটি সাময়িকভাবে স্থগিত করার পক্ষে যুক্তিযুক্ত। তা ছাড়া, আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই বিলম্বের কারণে প্যারামাউন্টের তাৎক্ষণিক কোনো ক্ষতি হবে না বলে আদালতকে আশ্বস্ত করা হয়েছে। ফলে বিচার প্রক্রিয়া চলাকালীন উভয় প্রতিষ্ঠান বাজারে আগের মতোই আলাদা ও স্বাধীন প্রতিযোগী হিসেবে কাজ করে যাবে।
ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল রব বোন্টা আদালতের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে একে একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ প্রথম জয়’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, ইতিহাস সাক্ষী দেয় যখন অল্প কিছু মানুষের হাতে বাজারের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ চলে যায়, তখন পণ্যের মান কমে যায় এবং সাধারণ মানুষের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে। এই মামলার মাধ্যমে তারা একটি অবাধ, সুষম বিনোদন বাজার এবং চলচ্চিত্রশিল্পের সুরক্ষার জন্য লড়াই করছেন।
অন্যদিকে, প্যারামাউন্টের একজন মুখপাত্র আদালতের এই দ্রুত আদেশকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেছেন যে, এই স্থগিতাদেশ মূলত আদালতের চূড়ান্ত পর্যালোচনার আগ পর্যন্ত বর্তমান স্থিতাবস্থা বজায় রাখবে। তবে কোম্পানিটি আত্মবিশ্বাসী যে, অ্যান্টিট্রাস্ট বা একচেটিয়া বাজার তৈরির যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা আধুনিক বাজার ব্যবস্থার বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
তাদের মতে, এই একীভূতকরণ সম্পূর্ণ বৈধ এবং এর ফলে নেটফ্লিক্স বা অ্যামাজনের মতো প্রভাবশালী স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা আরও জোরদার হবে, যা শেষ পর্যন্ত গ্রাহক ও নির্মাতাদেরই লাভবান করবে।
আইন অনুযায়ী, এই ১৪ দিনের স্থগিতাদেশ সর্বোচ্চ ২৮ দিন পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে এবং আগামী ৩ আগস্ট পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। যদি আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এই চুক্তিটি সম্পন্ন না হয়, তবে চুক্তি অনুযায়ী প্যারামাউন্টকে প্রতিদিন লাখ লাখ ডলার জরিমানা গুনতে হতে পারে। তাই পুরো হলিউড এখন গভীর আগ্রহে আদালতের চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে, কারণ এই ধরনের বড় চুক্তির ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থাপনাই অনেক সময় পুরো চুক্তির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে দেয়।
সূত্র: ভ্যারাইটি