1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ০১:০৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ

শেখ হাসিনাকে কারারুদ্ধ করে গণতন্ত্র ধ্বংস করা হয়েছিল

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ১১ জুন, ২০১৭
  • ৭০ Time View

সরকারদলীয় সংসদ সদস্যরা বলেছেন, জননেত্রী শেখ হাসিনাকে কারারুদ্ধ করে বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র করেছিল। এমনকি তাকে হত্যার চক্রান্তও হয়েছিল। কিন্তু জনগণের অপ্রতিরোধ্য আন্দোলেনর মুখে সেই ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত ব্যর্থ হয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকার শেষে হাসিনাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। যার মধ্যদিয়ে দেশে দূঃশাসনের অবসান হয়।

রোববার জাতীয় সংসদ অধিবেশন অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে তারা একথা বলেন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে শুরু হওয়া অধিবেশনে শেখ হাসিনার কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে পয়েন্ট অব অর্ডারে এই আলোচনার সূত্রপাত করেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনার মুক্তির মধ্যদিয়ে দেশের গণতন্ত্র মুক্তি পেয়েছে। দেশে গণতন্ত্রের বিকাশ ঘটছে। এখন উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে দেশ চলছে। তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা হাল ধরেছেন বলে নৌকা চলছে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলার পথে দেশ অগ্রসর হচ্ছে। অবশ্য এ জন্য জননেত্রীকে অনেক জেল-জুলুম ও অত্যাচার সহ্য করতে হয়েছে।

বৃটিশ পার্লামেন্টে বিজয়ী তিন বাঙালি কন্যাকে অভিনন্দন জানিয়ে তারানা হালিম বলেন, পনের হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভাগ্নি টিউলিপ সিদ্দিকী বিজয়ী হয়েছেন। টিউলিপের একাগ্রতা, কর্তব্যনিষ্ঠা ও ন্যায়পরায়ণতার কারণে এটা সম্ভব হয়েছে। এক্ষেত্রে পরিবারের শিক্ষা ও অনুপ্রেরণা কাজ করেছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, টিউলিপ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের যোগ্য নাতি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যোগ্য ভাগ্নি ও শেখ রেহানার যোগ্য সন্তান। যিনি বাঙালি জাতির ভাবমূর্তি উজ্বল করেছেন।

পংকজ দেবনাথ বলেন, বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে নির্বাচনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হয়েছিল। তিনি বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে তত্ত্বাবধায়ক সরকার অভিযান শুরু করলেও দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ান খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার না করে শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করা হলো। অসংখ্য মামলা দেয়া হলো। নির্বাচন ও রাজনীতি থেকে মাইনাসের চেষ্টা করা হলো।

তিনি আরও বলেন, কারাগারে শেখ হাসিনা ভোটার হতে চাইলে খালেদা জিয়া ভোটার হতে রাজী হননি। কারণ তিনি নির্বাচন চান না। তিনি নির্বাচনের বিরুদ্ধে সবসময় অবস্থান নিয়েছেন। এখনও নিচ্ছেন। এ বিষয়ে দেশবাসীকে সতর্ক থাকতে হবে।

গণমানুষের অপ্রতিরোধ্য আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয় বলে দাবি করেন সংসদ সদস্য ফজিলাতু নেসা বাপ্পি। তিনি বলেন, গণতন্ত্রের শত্রু ও এক-এগারোর কুশীলবরা কোনো গ্রেফতারি পরোয়ানা ছাড়াই শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের মুহূর্তে জাতির উদ্দেশে লেখা ২২ লাইনের চিঠিতে তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তিনি আমৃত্যু জনগণের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। তিনি সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছেন।

তিনি আরও বলেন, কারাগারে শেখ হাসিনার প্রতি নির্মম নির্যাতন করা হয়েছে। তাকে ভাঙা খাটে থাকতে দেয়া হয়েছে। ইঁদুরে কাটা লেপ তোষক দেয়া হয়েছে। খাবারে বিষ মিশিয়ে হত্যার ষড়যন্ত্র হয়েছে। কিন্তু শেখ হাসিনার গণতন্ত্রের প্রতি অসীম সাহস ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার কারণে সব ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, তার মুক্তির মধ্যদিয়ে গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি মুক্তি পেয়েছে। নবম ও দশম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব হয়েছে। যে কারণে বাংলাদেশ এখন গণতান্ত্রিক বিশ্বের নেতৃত্বের আসনে বসতে পেরেছে।

সাবেক আইনমন্ত্রী আবদুল মতিন খসরু বলেন, জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে কোনো উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করা যায় না, এটা শেখ হাসিনা প্রমাণ করেছেন। ষড়যন্ত্র-চক্রান্তের মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে মাইনাস করার পরিকল্পনা হয়েছিল। তাকে কারারুদ্ধ করা হয়েছিল। কিন্তু জনগণের অকৃত্রিম ভালোবাসা তাকে ফিরিয়ে এনেছে। তিনি মৃত্যুকে জয় করেছেন। বঙ্গবন্ধুর শোষণমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে তিনি কাজ করছেন।

সাবিনা আক্তার তুহিন বলেন, জনগণের প্রতি অফুরন্ত ভালোবাসার প্রতিদান পেয়েছেন শেখ হাসিনা। রক্তাক্ত হয়ে হাসপাতালে গেলেও জননেত্রীর মুক্তির দাবি থেকে পিছু হটেননি দলের তৃণমূল নেতাকর্মীরা।

তিনি আবেগজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমরা দিনের পর দিন বাচ্চার মুখ দেখতে পারেনি। আমাদের একমাত্র লক্ষ্য ছিল নেত্রীর মুক্তি। এই দিনে আমাদের স্বপ্ন পূরণ হয়েছিল।

উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা দীর্ঘ ১১ মাস কারাভোগের পর ২০০৮ সালের ১১ জুন জাতীয় সংসদ ভবন এলাকার বিশেষ কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন। ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই সুধাসদন থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর তার বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দেয়া হয়। বিশেষ আদালতে সেই মামলার বিচারও শুরু হয়।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৫ প্রিয়দেশ