আধুনিকতার নামে ছেলে-মেয়েদের অসামাজিকতার সুযোগ দেয়া যাবে না। বয়োঃসন্ধি শিক্ষায় সামাজিকতা রক্ষা করতে হবে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত শিক্ষার্থীদের বয়োঃসন্ধি শিক্ষা প্রকল্প জেনারেশন ব্রেকথ্রু আলোচনা ও মতবিনিময় সভায় ঢাকা মহানগরীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান ও মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা এ মন্তব্য করেন।
প্রধান শিক্ষকরা বলেন, আগে শিক্ষার্থীদের নিজেদের ভালো থাকতে হবে, নতুবা ভালো ফল কাজে আসবে না। তারা বলেন, জেন্ডার সমতা দূরীকরণে ছেলেমেয়েদের এক সঙ্গে মিশতে দিতে হবে। নতুবা জেন্ডার বৈষম্য দূরীকরণ সম্ভব নয়। তবে এর সঠিক রাস্তা খুঁজে বের করার আহ্বান জানানো হয়।
কল্যাণপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহনাজ বেগম বলেন, ইংরেজি, বাংলা বা অংকের পাশাপাশি বয়োঃসন্ধিকাল সর্ম্পকে জ্ঞানার্জন জরুরি।
বীরশ্রেষ্ট নূর মোহাম্মদ স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ কর্নেল আবু জাফর বলেন, নারী উন্নয়নে নারীদের এগিয়ে আসতে হবে। তাদের নিজেদের সর্ম্পকে জানা জরুরি বলে মনে করেন তিনি।
আরেক শিক্ষক বলেন, নিজেদের সর্ম্পকে জানা দরকার, কিন্তু আধুনিকতার নামে সামাজিকতা রক্ষা পায় সেদিকেও নজর রাখতে হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, শুরুতে পাঠ্যপুস্তকে বয়োঃসন্ধি শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এতে অভিভাবকরা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। অনেকে এ বিষয়ে সমালোচনা করেন। অনেক অভিভাবক লজ্জায় ছেলে-মেয়েদের স্কুলে আসা বন্ধ করে করে দেন।
মন্ত্রী বলেন, পুরোনো ধ্যান-ধারণা পরিবর্তনের সময় এসেছে। সকলে সচেতন হয়ে উঠছেন। অভিভাবকরাও এখন আগ্রহ নিয়ে ছেলে-মেয়েদের শারীরিক শিক্ষা দিতে উৎসাহ দিচ্ছেন।
শুরুতে প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন জেনারেশন ব্রেকথ্রু প্রকল্পের সার্বিক দিক তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে রাজধানী ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার ৬০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক ও অধ্যক্ষ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা সচিব সোহরাব হোসেন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ওয়াহেদুজ্জামান, রাজকীয় নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি এসআরএইচ, ডা. এনি ওয়েস্টজেন্স, জাততিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল বাংলাদেশের কান্ট্রি প্রতিনিধি আইওরি কাতও বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর, আন্তর্জাতিক এনজিও এবং স্থানীয় এনজিও কর্মকর্তারা।