1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩৯ অপরাহ্ন

তিন বছর মেয়াদি ১ হাজার কোটি টাকার ‘গ্রিন বন্ড’ ছাড়ছে ব্র্যাক ব্যাংক

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১০ Time View

ঢাকা: দেশের পরিবেশবান্ধব ও টেকসই অর্থায়ন কার্যক্রম সম্প্রসারণে ১ হাজার কোটি টাকার গ্রিন বন্ড ইস্যু করতে যাচ্ছে ব্র্যাক ব্যাংক। দেশের বেসরকারি ব্যাংক খাতের প্রথম প্রতিষ্ঠান হিসেবে ব্যাংকটি এ ধরনের গ্রিন বন্ড ছাড়ছে। তিন বছর মেয়াদি এ বন্ড থেকে সংগৃহীত অর্থ নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পরিবেশবান্ধব ভবন এবং শিল্প খাতে জ্বালানি-দক্ষতা বাড়ানোর মতো প্রকল্পে অর্থায়নে ব্যবহার করা হবে।

রোববার (২৫ অক্টোবর) ব্র্যাক ব্যাংকের ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড সিইও তারেক রেফাত উল্লাহ খান প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও এ এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে গ্রিন বন্ড চালুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেন।

ব্র্যাক ব্যাংকের ভাষ্য অনুযায়ী, এ উদ্যোগের মাধ্যমে টেকসই অর্থায়নের প্রতি তাদের অঙ্গীকার আরও জোরালো হবে। একই সঙ্গে দেশের অর্থনীতিকে পরিবেশবান্ধব ও প্রতিকূলতা মোকাবিলায় সক্ষম করে তোলার প্রচেষ্টার সঙ্গেও এটি সামঞ্জস্যপূর্ণ।

ব্র্যাক ব্যাংকের গ্রিন বন্ডটি হবে তিন বছর মেয়াদি জিরো-কুপন বন্ড। এতে নিয়মিত কুপন বা সুদ পরিশোধের ব্যবস্থা নেই। বিনিয়োগকারীরা বন্ডটি অভিহিত মূল্যের চেয়ে কম দামে কিনবেন এবং মেয়াদপূর্তিতে অভিহিত মূল্য পাবেন। ক্রয়মূল্য ও মেয়াদপূর্তিতে প্রাপ্ত অর্থের পার্থক্যই হবে বিনিয়োগকারীর আয়।

বন্ডটির অভিহিত মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতিটি ১০ লাখ টাকা। বার্ষিক ডিসকাউন্ট রেট ৭.৫০ শতাংশ। তবে তিন মাসের জন্য প্রযোজ্য মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের ক্রয়মূল্য আনুমানিক ৮ লাখ ৪ হাজার ৮৬১ টাকা থেকে ৮ লাখ ১৯ হাজার ৯৫৭ টাকার মধ্যে হবে। চূড়ান্ত মূল্য নির্ধারণে প্রযোজ্য শর্ত ও হিসাব অনুসরণ করা হবে।

ব্র্যাক ব্যাংক জানিয়েছে, বন্ডটি ১৫ নভেম্বর ২০২৬ থেকে ইস্যু করা শুরু হবে। প্রথম ইস্যুর তারিখ থেকে তিন বছর পর এর মেয়াদপূর্তি হবে। বন্ডে বিনিয়োগের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হয়নি।

বন্ড থেকে সংগৃহীত অর্থ ব্র্যাক ব্যাংকের মাধ্যমে যোগ্য পরিবেশবান্ধব প্রকল্পে অর্থায়নে ব্যবহার করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পরিবেশবান্ধব ভবন এবং শিল্প খাতে জ্বালানি-দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্যোগ। পাশাপাশি যোগ্য প্রকল্পের ধরন, নির্বাচনপ্রক্রিয়া, অর্থের ব্যবস্থাপনা এবং প্রতিবেদন প্রকাশের বিষয়গুলোও বন্ডটির কাঠামোয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ব্যাংকটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বন্ডটি বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য গ্রিন বন্ড অর্থায়ন নীতিমালা’ এবং আন্তর্জাতিক ক্যাপিটাল মার্কেট অ্যাসোসিয়েশনের (আইসিএমএ) গ্রিন বন্ড প্রিন্সিপলসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বন্ডটির কাঠামোর বিষয়ে এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল রেটিংসের কাছ থেকে সেকেন্ড-পার্টি ওপিনিয়ন বা স্বাধীন মূল্যায়নও নেওয়া হয়েছে। ব্যাংকটির দাবি, এ মূল্যায়ন বন্ডটির পরিবেশগত বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে স্বাধীন মূল্যায়নের সুযোগ তৈরি করেছে।

এ উদ্যোগের মাধ্যমে টেকসই অর্থায়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও পরিবেশগত প্রভাব বিবেচনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত পরিবেশবান্ধব প্রকল্পে অর্থ ব্যবহারের পাশাপাশি অর্থের ব্যবস্থাপনা ও প্রতিবেদন প্রকাশের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

ব্র্যাক ব্যাংকের গ্রিন বন্ডটি করপোরেট প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তিশ্রেণির বিনিয়োগকারীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। তবে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিধিবিধান ও বিনিয়োগ-সংক্রান্ত শর্ত পূরণ করতে হবে। বিনিয়োগকারীরা কোম্পানির প্রভিডেন্ট ফান্ড (পিএফ) ও গ্র্যাচুইটি ফান্ডসহ নির্ধারিত তহবিল থেকেও প্রযোজ্য শর্তসাপেক্ষে বিনিয়োগ করতে পারবেন।

বন্ডে বিনিয়োগ করতে বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসাব থাকা বাধ্যতামূলক। কোনো বিনিয়োগকারীর বিও হিসাব না থাকলে ব্র্যাক ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে সহায়তা করবে বলে জানিয়েছে।

বিনিয়োগের আবেদন গ্রহণের জন্য প্রতি বুধবার নির্ধারিত সময়সীমা শেষ না হওয়া পর্যন্ত আবেদন করা যাবে। তবে নির্ধারিত দিন সরকারি ছুটি বা বাংলাদেশ ব্যাংকের ছুটির মধ্যে পড়লে তার আগের কার্যদিবসে আবেদন গ্রহণ করা হবে।

বন্ড থেকে অর্জিত আয় সম্পর্কে ব্যাংকের দেওয়া তথ্যে বলা হয়েছে, আয়কর আইন, ২০২৩-এর প্রযোজ্য বিধান অনুযায়ী জিরো-কুপন বন্ড থেকে অর্জিত আয় উৎসে করসহ অন্যান্য কর থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্ত। এ ছাড়া স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর বিনিয়োগের বিপরীতে কর রেয়াত পাওয়ার সুযোগ থাকবে।

জিরো-কুপন বন্ডের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী, এতে নির্দিষ্ট বিরতিতে কুপন বা সুদের অর্থ পরিশোধ করা হয় না। বিনিয়োগকারী শুরুতে কম দামে বন্ড কিনে মেয়াদপূর্তিতে অভিহিত মূল্য ফেরত পান। ফলে বিনিয়োগের আয় নির্ভর করবে ক্রয়মূল্য ও মেয়াদপূর্তিতে পাওয়া অর্থের পার্থক্যের ওপর।

ব্র্যাক ব্যাংকের দেওয়া উদাহরণ অনুযায়ী, ১০ লাখ টাকা অভিহিত মূল্যের একটি বন্ডে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ক্রয়মূল্য, মেয়াদ এবং প্রযোজ্য ডিসকাউন্ট রেটের ভিত্তিতে সম্ভাব্য আয় নির্ধারিত হবে। উদাহরণে তিন বছরের মেয়াদে হোল্ডিং পিরিয়ড রিটার্ন ২৪.২০ শতাংশ উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এটি উদাহরণভিত্তিক হিসাব; বিনিয়োগের প্রকৃত রিটার্ন নির্ভর করবে চূড়ান্ত ক্রয়মূল্য ও প্রযোজ্য শর্তের ওপর।

ব্র্যাক ব্যাংকের ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড সিইও তারেক রেফাত উল্লাহ খান বলেন, এ গ্রিন বন্ড ব্যাংকের টেকসই অর্থায়নের যাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের আরও বিকাশেও এটি অর্থবহ ভূমিকা রাখবে। নির্ধারিত পরিবেশবান্ধব প্রকল্পের জন্য বিশেষভাবে মূলধন সংগ্রহের মাধ্যমে ব্যাংকটি পরিবেশগত লক্ষ্য অর্জনে অবদান রাখতে চায়।

দেশে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা, জ্বালানির দক্ষ ব্যবহার বৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য গ্রিন ফাইন্যান্সিং বা পরিবেশবান্ধব অর্থায়ন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রচলিত অর্থায়নের পাশাপাশি নির্দিষ্ট পরিবেশগত লক্ষ্যসম্পন্ন বন্ডের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ এ ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।

ব্র্যাক ব্যাংকের এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে পরিবেশবান্ধব প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য পুঁজিবাজারভিত্তিক তহবিল সংগ্রহের একটি নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি হবে। তবে এ ধরনের উদ্যোগের কার্যকারিতা নির্ভর করবে সংগৃহীত অর্থ নির্ধারিত প্রকল্পে যথাযথভাবে ব্যবহার, নিয়মিত প্রতিবেদন প্রকাশ এবং পরিবেশগত সুফল মূল্যায়নের ওপর।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৬ প্রিয়দেশ