হলিউড তারকা টম ক্রুজের সিনেমা মানেই দুর্দান্ত অ্যাকশন, চোখধাঁধানো স্টান্ট আর টানটান উত্তেজনা। কিন্তু এবার সেই পরিচিত ধারা থেকে বেরিয়ে ভিন্ন ধরনের সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। আলেহান্দ্রো গঞ্জালেস ইনারিতু পরিচালিত ‘ডিগার’ মুক্তির পর বক্স অফিসে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। বিপুল বাজেটে নির্মিত সিনেমাটি আয় করেছে মাত্র ৪ কোটি ৬৪ লাখ ডলারের বেশি। ফলে বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা করছে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ওয়ার্নার ব্রাদার্স।
বক্স অফিস মোজোর সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ২৫ অক্টোবরের আগে পর্যন্ত ‘ডিগার’-এর বিশ্বব্যাপী আয় ৪ কোটি ৬৪ লাখ ৫৮ হাজার ১২০ ডলার। এর মধ্যে উত্তর আমেরিকা থেকে এসেছে ১ কোটি ৭৬ লাখ ৫৮ হাজার ১২০ ডলার। আর আন্তর্জাতিক বাজার থেকে আয় হয়েছে ২ কোটি ৮৮ লাখ ডলার। সিনেমাটির মুক্তির প্রথম সপ্তাহান্তে আয় ছিল মাত্র ২ কোটি ডলার। (সূত্র: বক্স অফিস মোজো)
সিনেমাটির নির্মাণে ব্যয় হয়েছে আনুমানিক ১৬ থেকে ১৮ কোটি ডলার। এর সঙ্গে প্রচারণায় খরচ হয়েছে আরও প্রায় ১০ কোটি ডলার। ফলে মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ২৬ থেকে ২৮ কোটি ডলারে। তবে প্রেক্ষাগৃহের টিকিট বিক্রির পুরো অর্থ প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান পায় না। এর একটি অংশ চলে যায় হলমালিকদের কাছে। এ কারণে খরচ তুলতে সিনেমাটির আয় করতে হবে আরও অনেক বেশি।
ভ্যারাইটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ডিগার’-এর নির্মাণ ও প্রচারণার খরচ তুলতে বিশ্বব্যাপী প্রায় ৩৫ কোটি ডলার আয় করতে হতে পারে। তবে ওয়ার্নার ব্রাদার্সের এক মুখপাত্রের দাবি, ৩০ কোটি ডলার আয় করলেই সিনেমাটির খরচ উঠে আসবে। দুই হিসাবের কোনোটির কাছাকাছিও পৌঁছাতে পারেনি সিনেমাটি।
সিনেমাটির ব্যর্থতার পেছনে কয়েকটি কারণ দেখছেন বিশ্লেষকেরা। প্রথমত, টম ক্রুজের পরিচিত অ্যাকশনধর্মী সিনেমার সঙ্গে ‘ডিগার’-এর গল্পের বড় পার্থক্য রয়েছে। এতে তিনি অভিনয় করেছেন ডিগার রকওয়েল নামের এক খামখেয়ালি তেল ব্যবসায়ীর চরিত্রে। পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কাকে ঘিরে নির্মিত সিনেমাটি মূলত রাজনৈতিক ব্যঙ্গাত্মক কমেডি। চরিত্রটির প্রয়োজনে টম ক্রুজের চেহারায়ও আনা হয়েছে বড় পরিবর্তন। ফলে তাঁর পরিচিত দর্শকদের একটি অংশ সিনেমাটির প্রতি আগ্রহ দেখায়নি বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দ্বিতীয়ত, সিনেমাটির প্রচারণায় গল্প ও ঘরানা স্পষ্টভাবে তুলে ধরা কঠিন হয়ে পড়ে। ভ্যারাইটির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, টম ক্রুজের তারকাখ্যাতি ও পরিচালকের পরিচিতি থাকলেও সিনেমাটির অদ্ভুত গল্প এবং ব্যঙ্গাত্মক উপস্থাপনা সাধারণ দর্শকের কাছে সহজে পৌঁছায়নি। প্রচারণায় টম ক্রুজের পরিচিত অ্যাকশন সিনেমার দৃশ্যও ব্যবহার করা হয়। কিন্তু তাতে দর্শকের আগ্রহ বাড়েনি।
তৃতীয়ত, সমালোচক ও দর্শকের প্রতিক্রিয়া ছিল মিশ্র। সিনেমাস্কোরে ‘ডিগার’ পেয়েছে ‘সি প্লাস’ গ্রেড। রটেন টমেটোজে সমালোচকদের মূল্যায়নও ছিল বিভক্ত। ভ্যারাইটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেতিবাচক সমালোচনা ও দর্শকের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়া প্রতিক্রিয়া সিনেমাটির ব্যবসায় প্রভাব ফেলেছে। ওয়ার্নার ব্রাদার্স প্রচারণায় সমালোচকদের নেতিবাচক মন্তব্যও ব্যবহার করে দর্শকদের উদ্দেশে বলেছিল, ‘নিজেই দেখে সিদ্ধান্ত নিন’। তবে এই কৌশলও বক্স অফিসে সাফল্য এনে দিতে পারেনি।
চতুর্থত, আন্তর্জাতিক বাজারেও সিনেমাটি প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। সাধারণত টম ক্রুজের সিনেমার বড় অংশের আয় আসে উত্তর আমেরিকার বাইরের বাজার থেকে। কিন্তু ‘ডিগার’ মুক্তির প্রথম সপ্তাহে ৭৩টি আন্তর্জাতিক বাজার থেকে আয় করে মাত্র ১ কোটি ২০ লাখ ডলার। ফলে আন্তর্জাতিক বাজার থেকেও প্রত্যাশিত সাড়া পায়নি সিনেমাটি।
সব মিলিয়ে ‘ডিগার’ থেকে বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা করছে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান। বিবিসির ১২ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়, সিনেমাটির সম্ভাব্য লোকসান ২৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ৯০০ কোটি টাকা, যদি প্রতি ডলারের বিনিময়মূল্য ১১৮ টাকা ধরা হয়। তবে এটি সম্ভাব্য লোকসানের হিসাব, চূড়ান্ত আর্থিক ফল নয়। প্রেক্ষাগৃহের বাইরে ডিজিটাল স্বত্ব, স্ট্রিমিং ও অন্যান্য আয় বিবেচনায় সিনেমাটির প্রকৃত লোকসানের পরিমাণ পরিবর্তিত হতে পারে।