চীন ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর প্রচেষ্টার মধ্যে নতুন সেতু পেরিয়ে চীনের সীমান্তবর্তী শহর দানদং সফর করেছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন।
শনিবার নিউ ইয়ালু নদী সেতু দিয়ে চীনে প্রবেশ করেন তিনি। দীর্ঘদিনের বিলম্বের পর চলতি মাসে সেতুটি চালু হয়েছে। এর মাধ্যমে দুই দেশের বাণিজ্যিক যোগাযোগ আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। খবর রয়টার্সের।
চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, সফরকালে কিমের সঙ্গে ছিলেন দেশটির চতুর্থ সর্বোচ্চ পদমর্যাদার কর্মকর্তা ওয়াং হুনিং। তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের শুভেচ্ছা কিমের কাছে পৌঁছে দেন।
দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের এক কর্মকর্তা জানান, নতুন সেতু দিয়ে দানদংয়ে পৌঁছান কিম। তবে প্রকাশ্যে কথা বলার অনুমতি না থাকায় নাম প্রকাশ করতে চাননি তিনি।
চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভির প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, সেতুতে পতাকা হাতে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের সারির মধ্য দিয়ে হেঁটে উত্তর কোরিয়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন কিম।
বাণিজ্য সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ সেতু
৩ কিলোমিটার দীর্ঘ নিউ ইয়ালু নদী সেতুটি চীন ও উত্তর কোরিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থলসীমান্ত সংযোগপথ। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও যোগাযোগ পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্য নিয়ে এটি চালু করা হয়েছে। করোনা মহামারি ও দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনে দুই দেশের বাণিজ্যিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছিল।
সেতুটি চালুর ফলে উত্তর কোরিয়ায় ভারী যন্ত্রপাতি, কাঁচামাল ও জ্বালানি পণ্য পরিবহন সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
১৯৫০-১৯৫৩ সালের কোরীয় যুদ্ধে উত্তর কোরিয়ার পক্ষে লড়াই করেছিল চীন। বর্তমানে দেশটি পিয়ংইয়ংয়ের প্রধান অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সমর্থক। উত্তর কোরিয়ার আনুষ্ঠানিক বাণিজ্যের বড় অংশই হয় চীনের সঙ্গে।
তবে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন শুরুর পর মস্কোর সঙ্গে পিয়ংইয়ংয়ের সামরিক সহযোগিতা বেড়েছে। এতে চীনের ওপর উত্তর কোরিয়ার নির্ভরতা কমছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্লেষকেরা।
নেদারল্যান্ডসের লেইডেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোরিয়াবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ক্রিস্টোফার গ্রিন বলেন, নতুন সেতু পেরিয়ে চীনে প্রবেশের মধ্য দিয়ে কিম দুই দেশের বাণিজ্যের প্রতি তাঁর সমর্থন জানিয়েছেন। সেতুটি চালু হতে দীর্ঘ বিলম্ব হওয়া দুই দেশের সম্পর্কের অকার্যকর অবস্থারও ইঙ্গিত দেয়।
শনিবারের বৈঠকে ওয়াং বলেন, সেতুটি চালুর সুযোগ কাজে লাগিয়ে চীন দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ এবং অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা বাড়াতে প্রস্তুত।
চীনের সরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান লিয়াওনিং একাডেমি অব সোশ্যাল সায়েন্সেসের বিশেষজ্ঞ লু চাও বলেন, কিমের এ সফর দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করা এবং উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ বাড়ানোর ধারার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
তিনি বলেন, সেতুটি চালুর ফলে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিবহনসংক্রান্ত বড় বাধা দূর হয়েছে। এতে দুই দেশের বাণিজ্য আরও বাড়তে পারে।
সিনহুয়ার তথ্য অনুযায়ী, সফরে দানদংয়ের একটি কোরীয় যুদ্ধ স্মৃতিসৌধে গিয়ে চীনের পিপলস ভলান্টিয়ার আর্মির সেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান কিম। ওই যুদ্ধে সেনারা উত্তর কোরিয়ার পক্ষে লড়াই করেছিলেন। এ ছাড়া শহরটির একটি গাড়ি কারখানাও পরিদর্শন করেন তিনি।
সর্বশেষ ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে চীন সফর করেছিলেন কিম। সে সময় বেইজিংয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের বিরুদ্ধে বিজয়ের ৮০তম বার্ষিকী উদ্যাপনে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। এর আগে জুনে উত্তর কোরিয়া সফর করেছিলেন চীনা প্রেসিডেন্ট।
উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরু করতে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে শুক্রবার রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বছর কিমের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা কমে এসেছে বলে মনে করছেন যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তারা।
আগামী মাসে চীনের শেনজেনে এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন (এপেক) ফোরামের শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে ট্রাম্পের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
While most comments will be posted if they are on-topic and not abusive, moderation decisions are subjective. Published comments are readers’ own views and The Business Standard does not endorse any of the readers’ comments.