ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছেন হাজারো মানুষ। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামলার আগে নিরাপত্তা ব্যর্থতার তদন্তে স্বাধীন কমিশন গঠনের দাবিতে শনিবার তেল আবিবের হোস্টেজেস স্কয়ারে জড়ো হন তারা। আগামী মঙ্গলবার দেশটিতে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। গাজায় বন্দিদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে গঠিত সংগঠন অক্টোবর কাউন্সিল এ বিক্ষোভের আয়োজন করে। ৭ অক্টোবরের হামলা ঠেকাতে সরকারের ব্যর্থতার জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবিতে সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছে। বিক্ষোভের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে অক্টোবর কাউন্সিল জানায়, ‘নির্বাচনের তিন দিন আগে আমরা সত্য উদ্ঘাটন, জবাবদিহি নিশ্চিত এবং রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠনের দাবিতে তিন বছরের সংগ্রামের সমাপনী কর্মসূচি পালন করব।’ ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থানেও সরকারবিরোধী বিক্ষোভ হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম হারেৎজ। বিক্ষোভে অংশ নেন বিরোধী দলগুলোর শীর্ষ নেতারা। তাদের মধ্যে ছিলেন ইয়াশার পার্টির গাদি আইজেনকোট। তাকে নেতানিয়াহুর প্রধান মধ্য ডানপন্থী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ ছাড়া ডেমোক্র্যাটস পার্টির নেতা ইয়ার গোলানও বিক্ষোভে উপস্থিত ছিলেন। দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেল আবিবে আইজেনকোটকে স্বাগত জানিয়ে বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দেন, ‘কে আসছেন? পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী।’ আরও পড়ুন ভোটে নেতানিয়াহুবিরোধী জোটে কারা, কতটা বদলাবে ইসরায়েলের নীতি ১৯ অক্টোবর ২০২৬ ইসরায়েলের নাগরিক ও আইনজীবী ড্যান আদিন এক্সে দেওয়া এক পোস্টে লেখেন, ‘রাবিন স্কয়ার থেকে হোস্টেজেস স্কয়ার পর্যন্ত ডেমোক্র্যাটসের মিছিলে মানুষের ঢল নেমেছে। পরিবর্তনের জন্য, আশার জন্য, বিপ্লবের জন্য। কী অসাধারণ উদ্দীপনা! এবার পুরোপুরি আমাদের পালা!’ মঙ্গলবারের নির্বাচন সামনে রেখে পরিচালিত জনমত জরিপে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ২০২২ সালের শেষ দিক থেকে ক্ষমতায় থাকা নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোটের সঙ্গে আইজেনকোটের জোটের ব্যবধান খুবই কম। বর্তমানে কোনো জোটই ইসরায়েলের পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার মতো অবস্থানে নেই। নির্বাচনের ফলাফলের ওপর নির্ভর করতে পারে ইরানে ইসরায়েলের নতুন করে হামলা চালানোর সিদ্ধান্তও। আইজেনকোট প্রধানমন্ত্রী হলে ইরানের বিরুদ্ধে আবার সামরিক অভিযান শুরু করার বিষয়ে তুলনামূলকভাবে কম আগ্রহী হবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে পররাষ্ট্রনীতির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ইসরায়েলের প্রধান রাজনৈতিক দল ও নেতাদের মধ্যে ঐকমত্য রয়েছে। এর মধ্যে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিরোধিতাও রয়েছে। বিক্ষোভের আগে সরকারপন্থী ব্যক্তিদের সম্ভাব্য উসকানি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক করে অক্টোবর কাউন্সিল। সংগঠনটি এক্সে জানায়, ‘জোট সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আজ রাতের সমাবেশে বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টার বিষয়ে সতর্কবার্তা পাওয়ার পর আমরা পুলিশ কমিশনারের কাছে জরুরি চিঠি পাঠিয়েছি।’ ৭ অক্টোবরের হামলার জন্য দায়ী বলে বিবেচিত ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা অক্টোবর কাউন্সিলের অন্যতম লক্ষ্য। তবে নেতানিয়াহুর জোট সরকার স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। এর পরিবর্তে সরকার একটি ‘রাজনৈতিক’ কমিশন গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। ওই কমিশনের অর্ধেক সদস্য নিয়োগ করবে সরকার এবং বাকি সদস্যদের নিয়োগ দেবেন বিরোধী আইনপ্রণেতারা। বিরোধী নেতারা জানিয়েছেন, রাজনীতিবিদদের নিয়োগ দেওয়া কোনো কমিশনে তারা অংশ নেবেন না। ফলে ৭ অক্টোবরের হামলার নিরাপত্তা ব্যর্থতা নিয়ে স্বাধীন তদন্তের দাবি ইসরায়েলের নির্বাচনের আগে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। সূত্র : আল জাজিরা ও এএফপি