1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০৬ অপরাহ্ন

বিদেশে কোনো প্রবাসীর বিচার শুরু হলে বাংলাদেশ সরকারের করণীয় কী?

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১০ Time View

গত ১৪ অক্টোবর সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। এ ঘটনার পর বিদেশে বিচারের মুখোমুখি বাংলাদেশি নাগরিকদের আইনি সহায়তা দেওয়া এবং তাদের সুরক্ষায় সরকারের দায়িত্ব কী, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

শনিবার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের কোনো নাগরিক অন্য দেশের আইন ভঙ্গ করলে সরকারের তেমন কিছু করার থাকে না। বিদেশে থাকা বাংলাদেশিদের জন্য এ ঘটনা একটি শিক্ষাও হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।

তবে বিদেশি আদালতের রায় বাতিল করার ক্ষমতা বাংলাদেশের না থাকলেও বিপদে পড়া নাগরিকদের আইনি সহায়তা দেওয়ার বিধান দেশের আইনে রয়েছে।

তাহলে বিদেশে গ্রেপ্তার হয়ে অন্য দেশের আইনে বিচারের মুখোমুখি হলে একজন বাংলাদেশি কী ধরনের সহায়তা পেতে পারেন? এ ক্ষেত্রে সরকারের দায়িত্ব কী এবং সেই দায়িত্ব পালনের প্রক্রিয়াই বা কতটা স্পষ্ট?

২০১৩ সালের বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইনের ২৭ ধারায় বিদেশে কর্মরত শ্রমিকদের যুক্তিসংগত আইনি সহায়তা পাওয়ার অধিকার স্বীকার করা হয়েছে। অভিবাসন-সংক্রান্ত প্রতারণার শিকার ব্যক্তিরাও এ সহায়তা পাওয়ার আওতায় রয়েছেন।

আইনের ২৯ ধারায় বিদেশে আটক, আটকে পড়া বা বিপদে থাকা অভিবাসী শ্রমিকদের বাংলাদেশ মিশনের সহায়তা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে এ ধারার মূল লক্ষ্য তাদের দেশে ফেরার অধিকার নিশ্চিত করা। অন্য দেশে ফৌজদারি মামলায় বিচারের মুখোমুখি কোনো ব্যক্তিকে সেই দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার অধিকার এ ধারা দেয় না।

বাংলাদেশের বিদেশি মিশনগুলোতে শ্রমকল্যাণ উইং রাখার বিধানও রয়েছে। এসব উইংয়ের কাজ শ্রমিকদের অধিকার ও কল্যাণ দেখা।

২০১৮ সালের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড আইনের ৮(৬) ধারায় নির্যাতন, অসুস্থতা, আঘাত বা অন্য সমস্যায় পড়া শ্রমিকদের উদ্ধার ও দেশে ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বোর্ডকে। প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের আইনি ও চিকিৎসাসহায়তা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

আইনের ৯ ধারায় নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে নারী অভিবাসী শ্রমিকদের বিশেষ সহায়তার বিধান রয়েছে। আর ১১ ধারায় জরুরি পরিস্থিতিতে বোর্ডের চেয়ারম্যানকে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। তবে পরে সেই সিদ্ধান্তের অনুমোদন নিতে হবে।

২০২৬ সালে সংশোধন করা ২০০০ সালের আইনগত সহায়তা প্রদান আইনের ৭(১)(ঙ) ধারায় বিদেশে থাকা নাগরিক ও অভিবাসী শ্রমিকদের প্রয়োজন অনুযায়ী আইনি সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা আছে। বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

আইনের ৭(১)(গ) ধারায় জরুরি আইনি সহায়তা ও পরামর্শের কথাও বলা হয়েছে। আর ৫(৪) ধারায় বাংলাদেশ মিশনগুলোতে আইনগত সহায়তা কর্মকর্তা নিয়োগের বিষয়ে সুপারিশ করার বিধান রয়েছে।

এসব বিধান শুধু অভিবাসী শ্রমিকদের জন্য নয়, বিদেশে থাকা অন্য বাংলাদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী, জেলা প্রবাসীকল্যাণ কার্যালয়, জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি কার্যালয় অথবা সরাসরি বোর্ডে আইনি সহায়তার আবেদন করা যায়। পরে আবেদনটি বাংলাদেশ মিশন বা সংশ্লিষ্ট স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়।

সরকারের মাইগভ প্ল্যাটফর্মেও বিনা মূল্যে আবেদন করা যায়। এ সেবায় আবেদন নিষ্পত্তির নির্ধারিত সময় ২০ কর্মদিবস।

তবে কোনো বন্দির পক্ষে আবেদন করা সব সময় সম্ভব নাও হতে পারে। তার স্বজনেরা হয়তো জানেন না, তিনি কোথায় আটক আছেন। এমনকি তার গ্রেপ্তারের খবরও পরিবারের কাছে না পৌঁছাতে পারে।

এখানে দায়িত্ব কার, সেই প্রশ্নও রয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিদেশে থাকা বাংলাদেশ মিশনগুলোর মাধ্যমে কনস্যুলার বিষয়গুলো দেখভাল করে। প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে রয়েছে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড ও শ্রমকল্যাণ উইং। অন্যদিকে, আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর আইন মন্ত্রণালয়ের অধীন।

এ অবস্থায় কোনো বন্দি আইনি সহায়তা পাওয়ার যোগ্য কি না, তা কে ঠিক করবে? সেই সহায়তার খরচ কে দেবে? কারও মৃত্যুদণ্ড হতে পারে, এমন পরিস্থিতিতে কি বিশেষ কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়?

প্রকাশ্যে পাওয়া বিধিবিধানে এসব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর নেই।

কনস্যুলার সম্পর্কবিষয়ক ভিয়েনা কনভেনশনের ৩৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো বিদেশি নাগরিককে আটক করা হলে তাকে কনস্যুলার যোগাযোগের অধিকার সম্পর্কে দ্রুত জানাতে হবে।

আটক ব্যক্তি অনুরোধ করলে সংশ্লিষ্ট দেশের কনস্যুলেটকেও দ্রুত জানাতে হবে। কনভেনশনের শর্ত মেনে কনস্যুলার কর্মকর্তারা আটক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ ও সাক্ষাৎ করতে এবং তার পক্ষে আইনি প্রতিনিধির ব্যবস্থা করতে পারেন।

তবে মৃত্যুদণ্ডের রায় বা তা কার্যকরের আগে সংশ্লিষ্ট দেশকে জানানোর বাধ্যবাধকতা কনভেনশনে স্পষ্টভাবে বলা নেই।

কোনো বাংলাদেশি কারাগারে আছেন, তা সংশ্লিষ্ট মিশন জানতে পারলেও তিনি মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি কি না, সে তথ্য অজানা থাকতে পারে।

২০১১ সালে সৌদি আরবে রুইয়াতি বিনতে সাতুবির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর ইন্দোনেশিয়া দেশটিতে গৃহকর্মী পাঠানো সীমিত করে। ২০১৫ সালে আরও দুটি মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার ২১টি দেশে গৃহকর্মীসহ অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিক পাঠানোর ওপর আরও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে দেশটি।

২০১৩ সালে সৌদি আরবে গৃহকর্মী রিজানা নাফিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর শ্রীলঙ্কা দেশটিতে গৃহকর্মী হিসেবে যেতে ইচ্ছুক নারীদের ন্যূনতম বয়স ২১ থেকে বাড়িয়ে ২৫ বছর করে। এ ধরনের কাজে নারী শ্রমিক পাঠানো ধীরে ধীরে বন্ধ করার পরিকল্পনার কথাও জানায় দেশটি।

রিজানার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে শ্রীলঙ্কা তার পক্ষে আপিলের ব্যবস্থা করে, ক্ষমার আবেদন জানায় এবং সৌদি আরবে মন্ত্রী পর্যায়ের প্রতিনিধিদল পাঠায়।

সম্প্রতি সৌদি আরবের সুপ্রিম কোর্ট শ্রীলঙ্কার অভিবাসী শ্রমিক আনোজান শিভারাসার মৃত্যুদণ্ডের রায় বাতিল করেন। গত ১৩ অক্টোবর এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। তবে মামলাটি পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য ফেরত পাঠানো হয়েছে।

আপিলে সহায়তা দিতে শ্রীলঙ্কা আইনি প্রতিনিধিদল পাঠিয়েছিল। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদকে জানিয়েছিলেন, সরকার আইনি খরচ বহন করবে।

সৌদি আরবে সম্প্রতি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির ক্ষেত্রে জেদ্দায় বাংলাদেশের কনস্যুলেট যথেষ্ট তথ্য পেয়েছিল কি না, কিংবা হস্তক্ষেপের সুযোগ ছিল কি না, সেটি আলাদা প্রশ্ন।

তবে শামা ওবায়েদ ইসলামের বক্তব্যের পর যে আইনি প্রশ্ন উঠেছে, তা শুধু এই দুই মৃত্যুদণ্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৬ প্রিয়দেশ