ভারতের উত্তর প্রদেশে টাকার বিনিময়ে দেড় মাস বয়সি সন্তানকে বিক্রি করে অপহরণের নাটক সাজানোর অভিযোগ উঠেছে এক নারীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শিশুটির মা, এক চিকিৎসক, তার স্ত্রী এবং আরও এক দম্পতিসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। উদ্ধার করা হয়েছে শিশুটিকে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) এ তথ্য জানিয়েছে উত্তর প্রদেশের পুলিশ।
কাসগঞ্জের পুলিশ সুপার ও পি সিং জানান, দেড় মাস বয়সি শিশুটিকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। শিশুটির বাবা অরবিন্দের অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাটি তদন্তে নামে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ফরিদাবাদের একটি কারখানায় কর্মরত অরবিন্দের স্ত্রী গত ১৬ অক্টোবর ছেলের ওষুধ আনতে কাসগঞ্জে যান। অভিযোগ অনুযায়ী, কাসগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে শিশুটিকে এক অপরিচিত নারীর কাছে রেখে শৌচাগারে যান তিনি। ফিরে এসে ওই নারী ও শিশুটিকে আর খুঁজে পাননি বলে দাবি করেন।
তবে তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, অপহরণের ঘটনা সাজিয়ে মূলত শিশুটিকে বিক্রির বিষয়টি আড়াল করার চেষ্টা করেছিলেন তার মা। অভিযোগ রয়েছে, ডা. অরুণ কুমার ও তার স্ত্রীর সহযোগিতায় শিশুটিকে হাতরস জেলার এক দম্পতির কাছে বিক্রি করা হয়।
পুলিশ সুপার ও পি সিংয়ের নির্দেশে গত শনিবার চাঁদপুরা-গাউপুরা মোড়ের কাছে একটি যাত্রী ছাউনি থেকে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন শিশুটির মা, চিকিৎসক ডা. অরুণ কুমার, তার স্ত্রী এবং হাতরস জেলার বাসিন্দা মহিপাল ও তার স্ত্রী।
জিজ্ঞাসাবাদে শিশুটির মা স্বীকার করেছেন, সন্তানকে বিক্রির বিনিময়ে তিনি ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা পেয়েছিলেন। এর মধ্যে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা তার ব্যাংক হিসাবে জমা করা হয় এবং বাকি ১০ হাজার টাকা নগদ নেন তিনি।
অন্যদিকে, হাতরসের ওই দম্পতি পুলিশকে জানিয়েছেন, ডা. অরুণ কুমার ও তার স্ত্রীর মাধ্যমে এবং শিশুটির মায়ের সম্মতিতে ২ লাখ টাকার বিনিময়ে শিশুটিকে কিনেছিলেন তারা।
এ ঘটনায় সোরন থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা ও জুভেনাইল জাস্টিস অ্যাক্টের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।