রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত এক বছরে অন্তত এক হাজার দুই শত জন স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীর অস্ত্রোপচার হয়েছে, যা হাসপাতালটির সার্জারি বিভাগের মোট অস্ত্রোপচারের মধ্যে সর্বাধিক। তবে অজ্ঞতা ও সামাজিক সংকোচের কারণে অনেক রোগী সময়মতো চিকিৎসা নিতে না আসায় অকালেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছেন।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রংপুর মেডিকেল কলেজের সার্জারি বিভাগ আয়োজিত ‘স্তন ক্যানসার সচেতনতা মাস’ উপলক্ষে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা এ তথ্য জানান।
সকালে রংপুর মেডিকেল কলেজ প্রাঙ্গণে বেলুন উড়িয়ে দিনব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধন করেন কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. আনোয়ার হোসেন। পরে এক সচেতনতামূলক শোভাযাত্রা ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে। শোভাযাত্রা শেষে কেক কাটা ও কলেজের অডিটোরিয়ামে বৈজ্ঞানিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. শরিফুল ইসলাম নন্তুর সঞ্চালনায় সেমিনারে বক্তব্য দেন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান, উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. জহিরুল হক এবং সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সৈয়দা শাহনাজ নাসরুল্লাহ ইলোরা। সেমিনারে সার্জারির মাধ্যমে ক্যানসার মুক্ত হয়ে সুস্থ জীবনযাপন করা কয়েকজন নারীও নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।
আলোচনা সভায় চিকিৎসকেরা জানান, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে স্তন ক্যানসারের চিকিৎসায় বহির্বিভাগে পৃথক একটি ক্লিনিক চালু করা হয়েছে। যেখানে বিনামূল্যে স্ক্রিনিংসহ স্তন ক্যানসার প্রতিরোধ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়ে বলেন, ৩০ থেকে ৫০ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সের নারীদের স্তনে কোনো গুটি, চাকা কিংবা অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে এবং মাসিক ঋতুচক্র শেষ হওয়ার পরও তা স্থায়ী থাকলে দ্রুত কোনো সার্জন বা ক্যানসার বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে। রোগীদের একটি বড় অংশ একদম শেষ পর্যায়ে হাসপাতালে আসায় শতচেষ্টাতেও তাদের সুস্থ করে তোলা সম্ভব হয় না। প্রাথমিক অবস্থায় রোগ শনাক্ত হলে সঠিক চিকিৎসায় পুরোপুরি সুস্থ হওয়া সম্ভব।