1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২৮ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
বিশ্বব্যাংকের কাছে ১০ বিলিয়ন ডলার চায় বাংলাদেশ সৌদি আরবের বিমানবন্দর বন্ধে ঢাকা থেকে ৬১ ফ্লাইট ব্যাহত, ভোগান্তিতে ৯,২৬৯ যাত্রী ঘর থেকেই শুরু হোক দুর্যোগসহনশীল বাংলাদেশ গড়ার লড়াই পাটে শুল্কের খড়্গ বসিয়ে ঢাকার কাছে ফলে ছাড় চায় ভারত দুর্গাপূজায় টানা ৫ দিন ব্যাংক বন্ধ, খোলা থাকবে বন্দরে আজকের দিনটি ব্যর্থদের জন্য বিশ্বজুড়ে প্রবৃদ্ধি কমার পূর্বাভাস, মূল্যস্ফীতি ৪.৭ শতাংশে ওঠার শঙ্কা আইএমএফের কুমিল্লায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে পড়েছিল দম্পতির লাশ পাগলা মসজিদের দানবাক্সে রেকর্ড পরিমাণ স্বর্ণ, রুপা ও বিদেশি মুদ্রা দেশজুড়ে নিত্যপণ্যের বাজারে অভিযান, ৪২ জেলায় ১২০ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

পাটে শুল্কের খড়্গ বসিয়ে ঢাকার কাছে ফলে ছাড় চায় ভারত

Reporter Name
  • Update Time : মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১১ Time View

বাংলাদেশি পাট ও পাটজাত পণ্যের ওপর একের পর এক বাণিজ্য-প্রতিকারমূলক শুল্ক আরোপের উদ্যোগ নিচ্ছে ভারত। অথচ একই সময়ে বাংলাদেশের বাজারে কমলা, আম, কলা, মাল্টাসহ বিভিন্ন ফলের আমদানি শুল্ক কমানো বা প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়েছে দেশটি।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশি পাটপণ্যে টনপ্রতি সর্বোচ্চ ৪৪৫ ডলার অ্যান্টি ডাম্পিং শুল্ক আরোপের পর নতুন করে কাউন্টারভেইলিং ডিউটি এবং পাটপণ্যের প্যাকেজিংয়ে ব্যবহৃত পিইটি ফিল্মে অ্যান্টি ডাম্পিং শুল্কের সুপারিশ করা হয়। প্রস্তাবিত শুল্ক কার্যকর হলে সংশ্লিষ্ট পণ্যে অতিরিক্ত শুল্কের চাপ টনপ্রতি ৫৮৫ ডলার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। ঠিক সে সময়ে ফলের ওপর শুল্ক কমানো বা প্রত্যাহারের আবদার করেছে ভারত। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, সম্প্রতি ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশন থেকে এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছে। সেখানে শুল্ক কমানোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। পরবর্তী সময়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জাতীয় স্বার্থ ও সার্বিক দিক বিবেচনায় তা পর্যালোচনার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ভারত মূলত কমলা, কিন্নো, আম, খেজুর, কলা ও মাল্টাসহ বিভিন্ন তাজা এবং প্রক্রিয়াজাত ফলের ওপর শুল্ক ছাড়ের দাবি জানিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা আমার দেশকে বলেন, এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দেশের বাজারে এর প্রভাব নিবিড়ভাবে মূল্যায়ন করা হবে।

বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ভারতীয় ফলের ওপর শুল্কছাড় দেওয়ার যে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দেশের ফল উৎপাদক, আমদানিকারক, সাধারণ ভোক্তা এবং সরকারের রাজস্ব আয়ের ওপর এর কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, তা গভীরভাবে বিবেচনা করতে হবে। একই সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের বৃহত্তর স্বার্থের বিষয়টিও মাথায় রাখা জরুরি।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভারতীয় অনুরোধটি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরীক্ষা করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার তাগিদ দিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত প্রস্তাবিত শুল্ক হ্রাসের কোনো নির্দিষ্ট হার উল্লেখ করা হয়নি এবং সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়নি।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের (র‍্যাপিড) চেয়ারম্যান ড. এমএ রাজ্জাক আমার দেশকে বলেন, ভারত আমাদের দেশের পাট ও পাটপণ্যের ওপর অ্যান্টিডাম্পিং শুল্কারোপ করে রেখেছে, যা দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করার কথা। কিন্তু আমাদের ফার্মগুলো সঠিকভাবে তথ্য সরবরাহ করতে না পারায় সুবিধা পাওয়া যায় না। ফলের শুল্ক কমানোর বিষয়েও দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হতে পারে।

অন্যদিকে গত ৮-৯ অক্টোবর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-ভারত যৌথ বাণিজ্য ওয়ার্কিং গ্রুপের ১৬তম বৈঠকে ঢাকা এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) থেকে উত্তরণের পরও অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা অব্যাহত রাখার দাবি জানায়। একই সঙ্গে স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য রপ্তানির ওপর ভারতের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, বাংলাদেশি পাটপণ্য ও পিইটি ফিল্মের ওপর থেকে অ্যান্টি ডাম্পিং শুল্ক প্রত্যাহার এবং সব ধরনের অশুল্ক বাধা দূর করার জোরালো আহ্বান জানায় বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল।

তবে এর বিপরীত চিত্রও রয়েছে। ভারতের ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ট্রেড রেমেডিস (ডিজিটিআর) সম্প্রতি বাংলাদেশি পিইটি ফিল্মের ওপর অ্যান্টি ডাম্পিং শুল্ক আরোপের সুপারিশ করেছে। একই সঙ্গে ভারতীয় বাজারে অন্যায্যভাবে কম দামে তা বিক্রি হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে নতুন করে তদন্ত শুরু হয়েছে। এর আগে পাটের সুতা, টোয়াইন, হেসিয়ান কাপড় এবং বস্তার মতো ঐতিহ্যবাহী পাটপণ্যের ওপর প্রতি টনে ৪৪৫ ডলার পর্যন্ত অ্যান্টি ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করেছিল ভারত।

জানা গেছে, দেশে আপেল, মাল্টা, কমলা, আঙুর ও খেজুরের বাজার প্রায় পুরোটাই আমদানিনির্ভর। এসব ফলের অভ্যন্তরীণ চাহিদার ৯৫-৯৯ শতাংশই আমদানির মাধ্যমে পূরণ হয়। উচ্চ কর-শুল্ক, শুল্কায়নযোগ্য মূল্য নির্ধারণ এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের সীমাবদ্ধতাকে ফলের উচ্চমূল্য ও বাজার অস্থিতিশীলতার কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন।

ট্যারিফ কমিশনের তথ্যানুসারে, বিদ্যমান কাঠামোয় ফল আমদানির ওপর ২৫ শতাংশ কাস্টমস ডিউটি, ২০-৩০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক, ১৫ শতাংশ ভ্যাট, পাঁচ শতাংশ অগ্রিম আয়কর, ২০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক ও পণ্যের ধরন অনুযায়ী সর্বোচ্চ সাড়ে সাত শতাংশ অগ্রিম কর রয়েছে। সব মিলিয়ে আমদানি পর্যায়ে মোট কর-শুল্ক গুনতে হয় ৯৬.১০ থেকে ১২১.৭৮ শতাংশ পর্যন্ত।

বেনাপোল বন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান আমার দেশকে বলেন, বেনাপোল বন্দর দিয়ে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৮-১০ হাজার টন ফল আমদানি হয়েছিল। তখন প্রতিদিন ৩০ ট্রাক ফল আমদানি হতো। এখন সেটি কমে দিনে চার থেকে পাঁচ ট্রাকে নেমে এসেছে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৬ প্রিয়দেশ