কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্সে জমা পড়া বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণ ও রুপার হিসাব চূড়ান্ত করা হয়েছে। গত ছয় বছরে সিন্দুকে জমা হওয়া বিভিন্ন সামগ্রী পরিমাপ ও গণনা শেষে দেখা গেছে, এতে মিলেছে ১ হাজার ৪৪ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, ১ হাজার ৮৮ ভরি রৌপ্যালঙ্কার এবং বিভিন্ন দেশের বিপুল পরিমাণ নোট ও ধাতব মুদ্রা।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল পৌনে ১০টা থেকে জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এসব মূল্যবান সামগ্রীর ওজন নির্ধারণ, স্বর্ণের ক্যারেট যাচাই ও বৈদেশিক মুদ্রা গণনা শুরু হয়। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে গঠিত নয় সদস্যের উপকমিটির অধীনে এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়, যেখানে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ, আনসার, ব্যাংক কর্মকর্তা ও স্বর্ণকারেরা সার্বিক সহায়তা দেন। জেলা জুয়েলারি সমিতির ১০ জন সদস্য অলঙ্কারের ওজন ও মান নির্ধারণ করেন। রুপা ও স্বর্ণের পরিমাণ সন্ধ্যার দিকে নির্ধারণ শেষ হলেও রাত সাড়ে ১০টার দিকে বৈদেশিক মুদ্রার চূড়ান্ত হিসাব বের হয়।
ট্রেজারিতে সংরক্ষিত ৯টি মাঝারি প্লাস্টিকের কনটেইনার এবং ৬টি সিলগালা খাম খুলে দেখা যায়, প্রাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রার মধ্যে রয়েছে ৮ হাজার ৫৭ আমেরিকান ডলার, ৫৭ হাজার ৪১৪ সৌদি রিয়াল, ৩৭ হাজার ৮৭৭ ভারতীয় রুপি, ২৯ হাজার ৬৬২ মালয়েশিয়ান রিংগিত, ১৪ হাজার ২৪০ আমিরাতের দিরহাম, ৭৬৭ কুয়েতি দিনার, ৮৮৮ ওমানি রিয়াল, ৭ হাজার ৯৭৩ কাতারি রিয়াল, ৩৩৩ বাহরাইনি দিনার, ১ হাজার ৭১৮ সিঙ্গাপুর ডলার, ১ হাজার ২২০ ব্রিটিশ পাউন্ড, ৫ হাজার ২৪৫ ইউরো, ৫৫৫ অস্ট্রেলিয়ান ডলার, ২৫ কানাডিয়ান ডলার, ৯০০ মালদ্বীপের রুফিয়া এবং ৩০৫ চীনা ইউয়ান। পাশাপাশি অচিহ্নিত বিভিন্ন দেশের ২ হাজার ৬৬৭টি ধাতব মুদ্রাও পাওয়া গেছে।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরশাদুল আহমেদ বলেন, গত ছয় বছরে দানবাক্সে জমা হওয়া স্বর্ণের মোট ওজন দাঁড়ায় ১২ কেজি ১৭৪ গ্রাম এবং রুপার ওজন ১২ কেজি ৬ ৯০ গ্রাম।
জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন বলেন, স্বর্ণ ও রুপার বাজারমূল্য যাচাইয়ের পর নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হবে এবং বৈদেশিক মুদ্রাগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিসিয়াল বিনিময় হার অনুযায়ী স্থানীয় মুদ্রায় নগদায়ন করা হবে।
এর আগে ২০২০ সালের ১১ মার্চ পাগলা মসজিদের দানসিন্দুক থেকে পাওয়া ৪২০ ভরি স্বর্ণ ও ১৮৮ ভরি রুপা নিলামে বিক্রি করে ১ কোটি ১৫ লাখ ৪ হাজার ১১০ টাকা এবং বৈদেশিক মুদ্রা বিক্রি করে ৭০ লাখ টাকা পাওয়া গিয়েছিল। চলতি বছরের ২৭ জুন সর্বশেষ দানবাক্স খোলার পর নগদ ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছিল, যার পর থেকে বাকি সামগ্রীর হিসাব নির্ধারণের কাজ শুরু হয়। এ ছাড়া মসজিদের নিজস্ব ওয়েবসাইট চালু হওয়ার পর অনলাইনে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ৩৯ লাখ ৩২ হাজার ১০৬ টাকা অনুদান পাওয়া গেছে।