পুরান ঢাকার চকবাজারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতি কমাতে মার্কেট ও বাসাবাড়িতে অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। একই সঙ্গে রাস্তা ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা এবং অগ্নিকাণ্ডের সময় ফায়ার সার্ভিসের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।
সোমবার (১২ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে পুরান ঢাকার ছোট কাটারায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডিএসসিসি প্রশাসক এসব কথা বলেন।
প্রশাসক বলেন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়িতে অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম রাখা শুধু আইনগত বাধ্যবাধকতা নয়, বরং নিজেদের জীবন ও সম্পদ রক্ষার জন্যও জরুরি। আজকের ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে আশপাশের মার্কেট ও ভবনগুলোতে যথাযথ অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক কমানো সম্ভব হতো। তিনি আরও বলেন, চকবাজারের রাস্তাঘাট দখলমুক্ত থাকলে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি আরও দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারত। তাই অবৈধভাবে রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে দোকান না বসানোর পাশাপাশি জরুরি সেবা ও সাধারণ মানুষের চলাচলের পথ উন্মুক্ত রাখতে স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। এ বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরিতে গণমাধ্যমের সহযোগিতাও কামনা করেন।
অগ্নিকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আবদুস সালাম বলেন, আগুন লাগার প্রকৃত কারণ তদন্ত শেষে জানা যাবে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম চলমান রয়েছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ব্যাগ তৈরির একটি কারখানা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। এর আশপাশে তৈরি পোশাকের একাধিক দোকান ও কারখানা ছিল। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুর্ঘটনাস্থলে অযথা ভিড় না করে উদ্ধার ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে নিয়োজিত কর্মীদের কাজ করার সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন।
পুরান ঢাকায় বারবার অগ্নিকাণ্ড এবং অগ্নিনির্বাপণে পানির স্বল্পতা প্রসঙ্গে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, এলাকার বর্তমান অবকাঠামোগত সংকট একদিনে তৈরি হয়নি। উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া এসব সমস্যা সমাধানে বর্তমান প্রশাসন আন্তরিকভাবে কাজ করছে। তিনি জানান, পুরান ঢাকার পুকুরগুলো সংরক্ষণ ও সংস্কারে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এলাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থার সার্বিক সংস্কারকাজও হাতে নেওয়া হয়েছে। চকবাজারে কেমিক্যালজনিত অগ্নিকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে তিনি আরও বলেন, সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে কেমিক্যালের লাইসেন্স দেওয়া বন্ধ রাখা হয়েছে। এর ফলে কেমিক্যাল-সংশ্লিষ্ট বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা আগের তুলনায় অনেকটাই কমেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে সমবেদনা জানান প্রশাসক। তিনি বলেন, আল্লাহর রহমতে বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তবে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের বিষয়ে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সোমবার বিকেলে চকবাজারের ছোট কাটারায় এসি মসজিদের পাশে অবস্থিত ‘মনজুর খান প্লাজা’র ছয়তলায় একটি দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ শুরু করে।
পরবর্তী সময়ে আগুন পাশের আরেকটি ভবনে ছড়িয়ে পড়লে ফায়ার সার্ভিসের মোট ১০টি ইউনিট সমন্বিতভাবে কাজ করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।