প্রতিমন্ত্রী অমিত রিয়াদে এ সংক্রান্ত তিনটি বৈঠক করেছেন।
প্রতিমন্ত্রী অমিতের সঙ্গে সৌদি আরবের বিদ্যুৎবিষয়ক সহকারী মন্ত্রী নাসের আল-কাহতানি।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস
তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ প্রশ্নে কাতারের সঙ্গে সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির বিষয়ে আলোচনা করেছে বাংলাদেশ।
একইসঙ্গে জ্বালানি নিরাপত্তায় সৌদি আরবের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। দেশটির একটি কোম্পানি নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছে।
রোববার সৌদি আরবের রিয়াদে ১৭তম আন্তর্জাতিক জ্বালানি ফোরামের (আইইএফ) সম্মেলনের ফাঁকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত তিনটি বৈঠক করেন বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় বলছে, প্রতিমন্ত্রী অমিত সৌদি আরবের বিদ্যুৎবিষয়ক সহকারী মন্ত্রী নাসের আল-কাহতানি, কাতারের জ্বালানিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও কাতারএনার্জির প্রধান নির্বাহী সাদ শেরিদা আল-কাবি এবং সৌদি কোম্পানি অ্যাকওয়া পাওয়ারের সিইও সামির জে সেরহানের সঙ্গে বৈঠক করেন।
কাতারের জ্বালানিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান গ্যাসের চাহিদা ও বিদ্যমান এলএনজি আমদানি ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় নতুন দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে আগ্রহ দেখায় বাংলাদেশ। পাশাপাশি কাতারএনার্জির আন্তর্জাতিক কার্যক্রমের আওতায় বিভিন্ন উৎস থেকে এলএনজি সরবরাহ এবং পরিবহনপথে বৈচিত্র্য আনার বিষয়েও আলোচনা হয়।
বৈঠকে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বাণিজ্যিক ও কারিগরি আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন দুই প্রতিমন্ত্রী।
প্রতিমন্ত্রী অমিতের সঙ্গে কাতারএনার্জির প্রধান নির্বাহী সাদ শেরিদা আল-কাবি।
বাংলাদেশের এলএনজি আমদানির অন্যতম প্রধান উৎস কাতার। দেশটির সঙ্গে পেট্রোবাংলার দুটি দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ চুক্তি রয়েছে। তবে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের কারণে চলতি বছর কাতার থেকে এলএনজি সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
সৌদি আরবের বিদ্যুৎবিষয়ক সহকারী মন্ত্রী নাসের আল-কাহতানির সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহযোগিতা চান প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। এ সময় বাংলাদেশের ২০৩০ সালের জ্বালানি খাতের লক্ষ্য পূরণে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা, দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সরবরাহ, ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন এবং সমুদ্র ও স্থলভাগ থেকে গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
এসব বিষয়ে আলোচনার জন্য দুই দেশের প্রতিনিধিদল বিনিময় এবং একটি সমঝোতা কাঠামো তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সৌদি সহকারী মন্ত্রী বলেন, ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ সৌদি আরবের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সৌদি সরকারের বিদ্যমান সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন।
বৈঠকের শুরুতে রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতি বিদ্রোহীদের হামলায় নিহতদের জন্য শোক প্রকাশ করেন অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি হামলার নিন্দা জানিয়ে সৌদি সরকার ও জনগণের পাশে বাংলাদেশের থাকার কথা বলেন। পাশাপাশি সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রীকে পাঠানো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শোকবার্তার বিষয় অবহিত করেন।
প্রতিমন্ত্রী অমিতের সঙ্গে সৌদি কোম্পানি অ্যাকওয়া পাওয়ারের প্রতিনিধি দলের বৈঠক।
হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশির মরদেহ দেশে পাঠানো এবং আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সৌদি সরকারের সহযোগিতা চান প্রতিমন্ত্রী।
এদিকে সৌদি আরবের বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী কোম্পানি অ্যাকওয়া পাওয়ারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সামির জে সেরহানের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। এ খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করে কোম্পানিটি।
বাংলাদেশে বিনিয়োগ নিয়ে অ্যাকওয়া পাওয়ারের সঙ্গে আগেও সমঝোতা হয়েছে। ২০২২ সালে এক হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের বিষয়ে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করেছিল কোম্পানি।
রিয়াদের তিনটি বৈঠকেই বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল ও বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মদ, নাচানাচি ও রাষ্ট্রের নৈতিক পাহারাদারি
‘রাস্তা আছে যেখানে, অটো চলবে সেখানে’
তৌফিক ইমরোজ খালিদী: ডিজিটাল সংবাদপত্রের পথিকৃৎ