1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০২:০৮ অপরাহ্ন

স্ক্রলের আড়ালে বাড়ছে মানসিক রোগ, নেই প্রকৃত তথ্য

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৭ Time View

ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার এখন দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবে এর অতিরিক্ত ব্যবহারে মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর যে প্রভাব পড়ছে দেশে ক্রমেই তা ব্যাপক উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বিশেষত শিশু ও তরুণরা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।

তারা আরও উল্লেখ করেছেন, জাতীয় পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক নীতিনির্ধারণী আলোচনা ও গবেষণায় বিষয়টি খুব কমই গুরুত্ব পেয়েছে।

পরিস্থিতির আরও অবনতি ঠেকাতে নীতিনির্ধারণ পর্যায় থেকে শুরু করে পরিবার—সব পর্যায়েই উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

সর্বশেষ ২০১৯ সালে পরিচালিত জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য জরিপে উঠে আসে, প্রাপ্তবয়স্কদের (১৮ বছর বা তার বেশি) ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ ও শিশুদের (৭ থেকে ১৭ বছর বয়সী) ১২ দশমিক ৬ শতাংশ মানসিক ব্যাধিতে ভুগছিল।

সম্প্রতি আর কোনো জরিপ পরিচালিত হয়নি। ফলে বর্তমানে এ ধরনের মানসিক ব্যাধির প্রকোপ কতটা, তা জানা যায়নি।

বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, দেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। ফলে মানসিক স্বাস্থ্য সংকটও বাড়তে পারে।

দেশে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসার সীমিত সুযোগ নিয়েছে রয়েছে উদ্বেগ।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট পরিচালিত ওই জরিপে আরও দেখা যায়, ৯১ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানসিক রোগের চিকিৎসা পাননি। অর্থাৎ, মানসিক ব্যাধিতে আক্রান্ত প্রাপ্তবয়স্কদের মাত্র ৯ শতাংশ চিকিৎসাসেবা পেয়েছিলেন।

আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা বাড়লে চিকিৎসার বাইরে থেকে যাওয়া মানুষের সংখ্যাও বাড়বে, সতর্ক করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

আজ শনিবার বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস। ‘জীবনের কথা শুনি, বাস্তব পরিবর্তন আনি’—প্রতিপাদ্য নিয়ে দেশে ও বিদেশে দিবসটি পালিত হচ্ছে।

একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী নিয়াজ আহমেদ জানান, তিনি প্রতিদিন প্রায় ছয় ঘণ্টা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যয় করেন। প্রায়ই গভীর রাত পর্যন্ত ফেসবুক ও ইউটিউব ব্যবহার করেন তিনি।

‘আমার ঘুম কমে যাচ্ছে, আর দিন দিন অল্পেই বিরক্ত হয়ে যাচ্ছি। কখনো কখনো নতুন কিছু গ্রহণ করতেও আমার অসুবিধা হয়,’ দ্য ডেইলি স্টারকে বলছিলেন নিয়াজ।

বাংলাদেশি একদল গবেষক সম্প্রতি ছোট পরিসরের একটি গবেষণা চালায়। তাতে দেখা গেছে, দিনে চার ঘণ্টার বেশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করার সঙ্গে তরুণ-প্রাপ্তবয়স্কদের বিষণ্নতা (ডিপ্রেশন) ও উদ্বেগে (অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডার) আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি থাকার সম্পর্ক রয়েছে।

‘সোশ্যাল মিডিয়া ইউজ টাইম অ্যান্ড মেন্টাল হেলথ অব ইয়াং অ্যাডাল্টস: আ ক্রস-সেকশনাল স্টাডি ইন বাংলাদেশ’ শিরোনামের সেই গবেষণাপত্রটি গত বছরের জুলাইয়ে চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী উইলির হেলথ সায়েন্স রিপোর্টস-এ প্রকাশিত হয়।

গবেষকেরা ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে ঢাকা ও কুমিল্লার ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী ৪৪০ জন তরুণ-প্রাপ্তবয়স্কের কাছ থেকে ক্রস-সেকশনাল তথ্য সংগ্রহ করেন।

গবেষণাপত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে এর অন্যতম লেখক আবদুল্লাহ আল জুবায়ে এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘যারা দিনে ৪ ঘণ্টার বেশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করেন, তাদের বিষণ্নতায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি দিনে ২ ঘণ্টার কম সময় ব্যবহারকারীদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।’

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করলে ‘উদ্বেগে’ আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে—সেটিও গবেষণায় উঠে এসেছে।

মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইন্টারনেট ব্যবহারে আসক্তি ঘুমের সমস্যা, মনোযোগের ঘাটতি, খিটখিটে মেজাজ ও মানসিক স্বাস্থ্যের অন্যান্য সমস্যার কারণ হতে পারে।

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এমএমএ সালাহউদ্দিন কাউসার বিপ্লব বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়ার প্রবণতা রয়েছে। এসব মানুষকে বিভ্রান্ত করে এবং ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে সমস্যা তৈরি করে। আর ইন্টারনেটে আসক্তিও বাড়ছে।’

তিনি বলেন, মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সুস্পষ্ট প্রভাব রয়েছে। একে আলাদা কোনো বিষয় হিসেবে না দেখে মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত সমস্যা হিসেবেই স্বীকৃতি দেওয়া উচিত।

‘আমরা যদি বিভিন্ন বিষয় ভুলে যাই, কাজে মনোযোগ দিতে না পারি, ঘুম কমে যায় ও খিটখিটে মেজাজের হয়ে যাই, তাহলে আমাদের মানসিক স্বাস্থ্য যে প্রভাবিত হচ্ছে তা নিশ্চিত,’ বলেন এই বিশেষজ্ঞ।

‘শিশুদের মানসিক সুস্থতা, ঘুমের ধরন ও মনোযোগের ওপরও প্রভাব ফেলছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরিক্ত ব্যবহার,’ ডেইলি স্টারকে বলেন জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের কমিউনিটি অ্যান্ড সোশ্যাল সাইকিয়াট্রি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুনতাসির মারুফ।

তিনি আরও বলেন, হাতে হাতে স্মার্টফোন, পারিবারিক সম্পর্কের পরিবর্তন ও সামনাসামনি সামাজিক মেলামেশার সুযোগ কমে যাওয়ার কারণে শিশুরা অনলাইনে বেশি সময় কাটাচ্ছে। এই কারণগুলো কখনো কখনো শিশুকে আসক্তির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ব্যাপারটা শিশুরা প্রায় বুঝতে পারে না।’

তিনি আরও বলেন, অনলাইনে স্বীকৃতি পাওয়ার বিষয়টি কিশোর-কিশোরীদের আবেগকে প্রভাবিত করতে পারে।

অভিভাবকদের এ ব্যাপারে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মারুফ বলেন, ঘরে ফোন ব্যবহারের সময়সীমা নির্ধারণ, শিশুদের খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করা এবং অনলাইনে তাদের অভিজ্ঞতা নিয়ে নিয়মিত কথা বলার আহ্বান জানান।

‘স্কুলগুলোরও এসব ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের স্বাস্থ্যকর ব্যবহার উৎসাহিত করা উচিত।’

অধ্যাপক সালাহউদ্দিন কাউসার বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব নিয়ে ক্রমেই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা বাড়ছে।

‘কিন্তু বাংলাদেশে বিষয়টি এখনো একাডেমিক ও পেশাগত আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এটি যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি,’ যোগ করেন তিনি।

এই বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, ‘কী ঘটছে, তা বোঝার জন্য আমাদের আরও গবেষণা প্রয়োজন।’

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৬ প্রিয়দেশ