ধারণ ক্ষমতার তিন গুণেরও বেশি রোগী নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে চিকিৎসার ভরসাস্থল নরসিংদীর ১০০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল। হাম, ডেঙ্গু, শিশু ও বয়স্ক রোগীদেরও সিট না পাওয়ায় বারান্দায় রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। আবার কেউ কেউ এক সিটে দুজন ভাগাভাগি করে সেবা নিচ্ছেন। কর্তৃপক্ষের দাবি কষ্ট হলেও সীমিত লোকবল দিয়েই চালাতে হচ্ছে হাসপাতালটি।
নরসিংদী জেলার রোগীদের হাতের নাগালে মানসম্মত চিকিৎসার ভরসাস্থল হাসপাতালটি ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে হওয়ায় প্রতিনিয়িত আসছে সড়ক দুর্ঘটনার রোগীও।
এছাড়া জেলার বৃহত্তর রায়পুরা উপজেলার বড় একটি অংশের রোগী এ হাসপাতাল থেকে সেবা নিচ্ছে। শুধু তাই নয়, যোগাযোগ ব্যবস্থা আর সেবার মান ভালো পাওয়ায় কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব থেকে কাঁচপুর পর্যন্ত এলাকার রোগী এখানে ছুটে আসেন। কিন্তু এতে করে সেবা দিতে গিয়ে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষেকে।
বর্তমানে ডেংগুর প্রকোপ একটি জাতীয় সমস্যা হিসেবে দাঁড়িয়েছে। এই অবস্থায় নরসিংদী জেলা কোনো অংশে কম নয়। জেলা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এক জরিপে নরসিংদীর শহর ও আশপাশের এলাকায় ডেংগুর প্রকোপ সবথেকে বেশি। এই অবস্থায় ডেঙ্গু ও হামের রোগীর পাশাপাশি শিশু ও বয়স্ক রোগীও ভর্তি হতে গিয়ে সিট না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে হাসপাতালের বারান্দার মেঝেতে রেখে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এছাড়া ভেতরে একটি রোগীর নির্ধারিত বিছানায় দুজন রোগী শুয়ে থেকেও চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে। এই অবস্থায় এখন ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল হলেও অধিকাংশ সময়ই দুই শতাধিকের উপর রোগী ভর্তি থাকে। দুই সপ্তাহ যাবৎ হাসপাতালে তিন শতাধিকের অধিক রোগী ভর্তি রয়েছে। সর্বশেষ গত সোমবার হাসপাতালে ৩৩৫ জন রোগী ভর্তি পাওয়া গেছে। এরমধ্যে পুরুষ ১০৫ নারী ১৩২ ও শিশু রোগীর সংখ্যা ৯৮ জন। এদের মধ্যে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ৩০ জন। যা এর আগের দিনও ছিল ৩১৩ জন ভর্তি রোগী। সীমিত আসন, নির্ধারিত জনবল ও সরঞ্জামাদি দিয়ে তিন গুণেরও বেশি রোগীকে সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। এই অবস্থায় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন হাসপাতালে ভর্তিকৃত নরংসিংদীর স্থানীয় বাসিন্দারা।
আমেনা বেগম নামে রায়পুারা থেকে ৬ মাসের এক শিশুকে নিয়ে হাসপাতালে এসেছেন দুদিন হয়। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস হাসপাতালে কোন সিট পাওয়া যায়নি। এক দিকে অর্থিনৈতিকভাবে দুর্বল অন্যদিকে ঢাকা যাওয়ার লোক নেই। এই হাসপাতালের সেবার মান ভালো, তাই সিট না পেলেও বারান্দার মেঝেতে রেখে চিৎিসা নিচ্ছি। তাতেই আগের তুলনায় একটু ভালো।
জেলার শিবপুর থেকে মোমেন খান নামে এক গণমাধ্যমকর্মী ডেঙ্গু আক্রন্ত হয়ে এই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। কিন্তু কোনো সিট না পেয়ে অন্য একটি পুরুষ রোগী বাইরে ঘুরতে গেছেন এই ফাঁকে তার বিছানায় শুয়ে শরীরে স্যালাইন নিচ্ছেন আর অপেক্ষা করছেন কখন একটি সিট খালি হবে আর তা তিনি ব্যবহার করবেন। তিনি বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কি করার আছে একশ সিটের হাসপাতালে রোগী সারে তিনশ প্রায়।
হাসপাতালের ল্যাব টেকনিশিয়ান শাহ আলম বলেন, হাসপাতালে ভর্তিকৃত রোগী ছাড়াও বাইরে থেকে আসা রোগীসহ অন্যান্য সময়ে যেখানে দৈনিক ৭০/৮০টি পরীক্ষা হতো সেখানে এখন দেড় থেকে শতাধিকের উপর পরীক্ষা হচ্ছে। এতে করে লোকবল কম থাকায় কিছুটা কষ্ট হচ্ছে।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মাজহারুল আলম জানান, হাসপাতালে ১০০ জন রোগীর ব্যবস্থা থাকলেও সীমিত লোকবল ও লজিষ্টিক দিয়ে তিন গুণের অধিক রোগীদের সেবা দিতে অনেক কষ্ট হচ্ছে তথাপী সেবা দিতে হচ্ছে।
নরসিংদী ১০০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. এ এন এম মিজানুর রহমান বলেন, হাসপাতালটি একশ শয্যার হলেও অধিক সময় দুই শতাধিকের অধিক রোগী ভর্তি থাকে। এখন প্রতিদিনই তিন শতাধিকের অধিক রোগী ভর্তি থাকে তথাপিও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের নিদের্শনা অনুযায়ী পরিচালিত হয়ে আসছে। এছাড়া তিনি ডেঙ্গু রোগীদের লক্ষণ দেখা মাত্রই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহবান জানান।
হাসপাতালে আসন সংখ্যা বৃদ্ধিসহ জনবল ও সরঞ্জমাদি বৃদ্ধির মাধ্যমে সেবার কেন্দ্রস্থল হবে হাসপাতালটি এমন প্রত্যাশা স্থানীয় বাসিন্দাদের।