২০২৯-৩১ চক্র থেকে জিম্বাবুয়ে, আয়ারল্যান্ড এবং আফগানিস্তানকে আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে।
গত টেস্টে চ্যাম্পিয়নশিপ জেতার পর দক্ষিণ আফ্রিকা অধিনায়ক টেম্বা বাভুমার এক হাতে তার ছেলে, আরেক হাতে ট্রফি। ছবি: রয়টার্স।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী টড গ্রিনবার্গ আভাস দিয়েছেন যে, ১২ দলের বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ (ডব্লিউটিসি) এখন বাস্তবায়নের অনেকটাই কাছাকাছি চলে এসেছে। যদিও নিজের আগের বিশ্বাসে অটল থেকে তিনি আবার বলেছেন যে, এই সংস্করণের দীর্ঘমেয়াদী ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে কম সংখ্যক দেশের অংশগ্রহণের ওপর।
ক্রিকেট বিশ্বের বিভিন্ন বোর্ড এবং আইসিসি বর্তমানে পরবর্তী ভবিষ্যৎ সফর সূচি (এফটিপি) চূড়ান্ত করার পর্যায়ে রয়েছে। পাশাপাশি আলোচনা চলছে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের নানা দিক নিয়েও।
২০১৯ সালে শুরু হওয়ার পর থেকে ৯ দল নিয়ে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ হয়ে আসছে। প্রতিটি দল দুই বছরের মধ্যে ছয়টি টেস্ট সিরিজ (তিনটি ঘরের মাঠে এবং তিনটি প্রতিপক্ষের মাঠে) খেলে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে অংশ নেয়। এই সিরিজগুলো ন্যূনতম দুই টেস্ট ম্যাচের হয়ে থাকে।
কিন্তু ভবিষ্যৎ মডেল, যা ২০২৯-৩১ সালের চক্র থেকে কার্যকর হবে, সেখানে এক ম্যাচের টেস্টও বিবেচনার অনুমতি দেওয়া হতে পারে, যাতে জিম্বাবুয়ে, আয়ারল্যান্ড এবং আফগানিস্তানকে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে অন্তর্ভুক্ত করা যায়।
আগামী মাসে ইন্দোনেশিয়ার বালিতে আইসিসির বৈঠকে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
১২ দলের মডেলটি অনুমোদন পেতে পারে কি না, জানতে চাইলে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী গ্রিনবার্গ বলেন, “আমার মনে হয়, পরের দুই বছরের জন্য এমন কিছুই দেখা যাবে।”
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার সিরিজ শুরুর আগে ডারবানে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে গ্রিনবার্গ বলেন, আইসিসির সিদ্ধান্তের কারণ তারা বুঝতে পারছেন। তবে একটি সতর্কবার্তাও তিনি দিয়ে রাখলেন।
“টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পরবর্তী চক্রের জন্য এই সংখ্যাটি (১২ দল) কেন রাখা হয়েছে, তা বুঝতে পারছি। কারণ তারা প্রতিটি টেস্ট খেলুড়ে দেশকে সুযোগ দিতে চায়। কিন্তু, শেষ পর্যন্ত, দেশগুলোকেই নিজেদের কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কারণ আমরা যে পরিমাণে আয় করে এসেছি, সেই পরিমাণে যদি আইসিসি থেকে রাজস্ব আসা অব্যাহত না থাকে, অথবা তারা যদি নিজেদের এফটিপি ব্যবস্থা তৈরি করতে না পারে, তাহলে শেষ পর্যন্ত যেকোনো ব্যবসার ক্ষেত্রেই—আমাদের ব্যবসার ক্ষেত্রেও একই—আপনি প্রতি বছর যা আয় করেন তার চেয়ে বেশি বিতরণ চালিয়ে যেতে পারবেন না। কিন্তু বিশ্ব ক্রিকেট কিছু কিছু অংশে এখন এই অবস্থাতেই রয়েছে।”
টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে দলসংখ্যা বাড়ানো হলেও গ্রিনবার্গ বেশ আগেই বলেছেন, টেস্ট খেলুড়ে দেশের সংখ্যা কমে যেতে পারে। নির্দিষ্ট করে কোনো দলের নাম তিনি উল্লেখ করেননি। তবে আর্থিক সঙ্কটে ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ যে ধুঁকছে, সেটা সবারই জানা। কিছু দিন আগে তারা আইসিসি থেকে মোটা অঙ্কের ঋণ নিয়েছে। সম্প্রতি ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক ২৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়েছে এবং ঘরোয়া একাধিক টুর্নামেন্ট বাতিল করেছেন। তাদের সাম্প্রতিক মৌসুমে শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে সম্প্রচার স্বত্ব থেকে আয় এত কম হয়েছে, বোর্ডের প্রধান নির্বাহী এটিকে বলেছেন, “মৃত্যু, ধ্বংস এবং মহাপ্রলয়ের মতো।”
নিজের আগের কথাটি মনে করিয়ে দিয়ে গ্রিনবার্গ বললেন, বাস্তবতার কারণেই টেস্ট ক্রিকেট আয়োজন থেকে সরে আসতে পারে অনেক দেশ।
“যখন টেস্ট ক্রিকেট নিয়ে আমি যখন ওই কথাটি (কম দেশে খেলবে) বলেছিলাম, তখন অনেকেরই তা ভালো লাগেনি। কিন্তু আমি এখনও বলছি, এটা একটা বাস্তব সত্য যে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সব দেশের জন্য টেস্ট ক্রিকেট খেলা আরও কঠিন হয়ে উঠছে, কারণ এটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল।
ব্যয়বহুল মানে স্রেফ একটি টেস্ট ম্যাচ বা সিরিজ আয়োজন করাই নয়। এটা হলো লাল বলের ক্রিকেটারদের জন্য অবকাঠামো তৈরি করতে দেশের ক্রিকেট সিস্টেমে বিনিয়োগ করার সামর্থ্য। কোনো জাদুবলে তো টেস্ট ক্রিকেট খেলার জন্য ১১ জন খেলোয়াড় খুঁজে পাবেন না, একটা কাঠামো থাকতে হবে।”
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহীর ধারণা, এমনও হতে পারে, টেস্ট আয়োজনের আর্থিক চাপ এড়াতে কিছু দেশ শুধু প্রতিপক্ষের মাঠেই টেস্ট খেলতে চাইতে পারে।
“এমন একটা পরিস্থিতি আসতে পারে, যখন অনেক দেশই টেস্ট ক্রিকেট খেলবে না, অথবা নিজেদের দেশে টেস্ট ক্রিকেটকে বাঁচিয়ে রাখতে এবং এই সংস্করণটি চালু রাখতে ঘরের মাঠের চেয়ে দেশের বাইরেই বেশি টেস্ট ক্রিকেট খেলতে চাইতে পারে।
আমার মনে হয়, বিষয়টি আমাদের ভিন্নভাবে ভাবতে হবে। এই পারস্পরিক আদান-প্রদানের বিষয়টিই সম্ভবত কিছু দেশকে দেউলিয়া করে দিচ্ছে।”
ওয়ানডে ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়েও গত কয়েক বছরে আলোচনা হয়েছে অনেক। ওয়ানডে ক্রিকেটকে আরও প্রাসঙ্গিকতা দেওয়ার লক্ষ্যে ত্রিদেশীয় বা চারদেশীয় সিরিজগুলো আবার চালু করার আলোচনা হয়েছে গত সপ্তাহে দুবাইতে আইসিসির কর্মশালায়। আন্তঃমহাদেশীয় কাপ নিয়েও আলোচনা হয়েছে, যেখানে সেরা মহাদেশীয় দলগুলো পরস্পরের মুখোমুখি হবে।
চার বছরে একবার বিশ্বকাপ আয়োজনের বাইরেও এই সংস্করণে আরও নতুনত্বের প্রয়োজন বলে মনে করেন গ্রিনবার্গও।
গ্রিনবার্গ আইসিসির এই বৃহত্তর অবস্থানের সঙ্গে একমত হয়েছিলেন যে, প্রতি জানা গেছে যে সূচিতে কতগুলো নতুন টুর্নামেন্ট অন্তর্ভুক্ত করা যাবে তা নিয়ে সংশয় ছিল।
“চ্যালেঞ্জটি হলো, কীভাবে এটি করা হবে এবং পাশাপাশি এফটিপি চুক্তির আওতায় বাণিজ্যিক আয়ও বজায় রাখা যাবে। আমার মনে হয়, এ ব্যাপারে আমাদের কিছু কাজ করার আছে। এমন একটা চার বছরের চক্র থাকতে পারে, যেখানে আমরা কিছুটা কম ওয়াডে খেলব, বিশ্বকাপের আগে বেশি খেলব এবং শেষের বছরগুলোতে হয়তো কম খেলব। টি-টোয়েন্টি এবং ওয়ানডে ক্রিকেটের মধ্যে এটা এক ধরনের উত্থান-পতনের ভারসাম্যমূলক ব্যবস্থা হতে পারে।
“হাই পারফরম্যান্স ক্রিকেটের সঙ্গে সম্পৃক্ত সবাই আমাকে বলেন যে, প্রতিভা বিকাশের পথে ক্রিকেটার তৈরির ক্ষেত্রে ওয়ানডে ক্রিকেট কতটা গুরুত্বপূর্ণ। আইসিসি পর্যায়ের সবাই আমাকে বলেন যে, বিশ্ব ক্রিকেটের বাণিজ্যিক ফলাফলের জন্য ওয়ানডে বিশ্বকাপ কতটা মৌলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এই বিষয়গুলো সত্যিই খুব গুরুত্বপূর্ণ। যদি এই দুটি নীতিকে ভিত্তি করা হয়, তাহলে শুধু সেই ম্যাচগুলোকে অর্থবহ করে তোলার উপায় খুঁজে বের করতে হবে।”
প্রত্যাশা ও বাস্তবতার ব্যবধান: ঝুঁকির মুখে বিএনপির জনআস্থা
এল চ্যাপো টু পিচ্চি রাজা: মাদকের টাকায় খুলে যায় কারাগারের তালা
তৌফিক ইমরোজ খালিদীকে আমরা কতটা চিনি
কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে দায়িত্ব নেবে কে?