সাড়ে ৬ বছর পর একসঙ্গে তিন সেশনের জন্য প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদকপ্রাপ্তদের তালিকা প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি)। ২০১৯, ২০২০ ও ২০২১ সালের দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৬৯ জন শিক্ষার্থীর তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এরমধ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৮ জন শিক্ষার্থী এ স্বর্ণপদকের জন্য মনোনীত হয়েছেন।
সোমবার (৫ অক্টোবর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের তালিকায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯ সালের মনোনীত শিক্ষার্থীদের তালিকায় রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের শিক্ষার্থী হাসমতুল্লাহ, আইন বিভাগের আফসান এলাহী, পরিসংখ্যান বিভাগের মো. কাদেরী কিবরিয়া, ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের রমজান আলী, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের মোস্তাকিম খান, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের ইসরাত জাহান এলা, এগ্রোনমি এন্ড এগ্রিকালচার এক্সটেনশন বিভাগের সুমাইয়া আফসানা সুমি, ইনফরমেশন এন্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মো. শরীফুল ইসলাম, গ্রাফিক ডিজাইন, ক্রাফটস এন্ড হিস্টোরি বিভাগের মনিকা অ্যামেলিয়া।
২০২০ সালের তালিকায় রয়েছেন ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী শাহিদুল্লাহ, প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের মোছা. মরিয়ম খাতুন, মার্কেটিং বিভাগের শামীমা ফাসমিন শান্তা, অর্থনীতি বিভাগের মোছা. ইসরাত জাহান, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের মোবাশ্বিরা আনজুম,ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্স বিভাগের মোছা. আজমিরা খাতুন, ইনফরমেশন এন্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মো. জাবিদ হাসান,গ্রাফিক ডিজাইন, ক্রাফটস এন্ড হিস্টোরি বিভাগের খাদিজাতুল কুবরা, মেডিকেল সায়েন্সেস বিভাগের অতুল মহার্জন।
২০২১ সালের তালিকায় রয়েছেন সংগীত বিভাগের শিক্ষার্থী সমরেন্দ্র নাথ দাস, আইন বিভাগের মোছা. জান্নাতুন নাঈম মিতু, ফার্মেসি বিভাগের মোছা. জান্নাতুল মাওয়া, অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের মো. নাহিদ হাসান বাধন, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের মোছা. হোসনে আরা বেগম, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের আল-আমিন, ক্রপ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের রাবেয়া বসরী, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শেখ হাসিব চেরাগী, পেইন্টিং, ওরিয়েন্টাল আর্ট অ্যান্ড প্রিন্টমেকিং বিভাগের মুনমুন নাহার, মেডিকেল সায়েন্সেস বিভাগের সোমি রওনিয়ার।
নীতিমালা অনুযায়ী, মনোনীত শিক্ষার্থীদের প্রত্যেককে ২২ ক্যারেট মানের ৪.৫ গ্রাম স্বর্ণ ও ১০গ্রাম রৌপ্য দ্বারা নির্মিত একটি পদক এবং একটি সম্মাননাপত্র প্রদান করা হবে।
জানা গেছে , বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় মনোযোগ বৃদ্ধি ও ভালো ফলাফল অর্জনে উৎসাহিত করতে ২০০৫ সালে প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক পুরস্কারের চালু করা হয়। অনার্স স্তরে বিভিন্ন অনুষদে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করা শিক্ষার্থীদের এ পদক দিতে প্রতিবছর বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
ইউজিসি সূত্রে আরও জানা গেছে , শুধু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ২০০৫ সালে প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক পুরস্কারের চালু করা হয়। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক নীতিমালা সংশোধন করা হয়। এর মাধ্যমে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পাশাপাশি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও (স্থায়ী সনদপ্রাপ্ত) এ পুরস্কারের আওতায় আসে।
এবারও তালিকায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি রয়েছেন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও।