1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১৩ পূর্বাহ্ন

বিদায়ী ম্যাচেও মেসির গোল

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৯ Time View

নক্ষত্রেরও একদিন পতন হয়, কিংবদন্তিরও একদিন শেষ ম্যাচ খেলতে হয়। যে মানুষটি বছরের পর বছর কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে স্বপ্ন হয়ে জ্বলেছেন, তাকেও একদিন বিদায়ের মঞ্চে দাঁড়াতে হয়। সময় থেমে থাকে না, মহাকাব্যের শেষ অধ্যায়ও একদিন লিখে ফেলতে হয়।

কিন্তু কিছু বিদায় থাকে, যেগুলো শুধুই বিদায় নয়, হয়ে ওঠে একেকটি ইতিহাস। লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ফুটবলের শেষ ম্যাচটিও যেন ঠিক তেমনই এক গল্প। জাতীয় দলের জার্সিতে শেষবার মাঠে নামা, গ্যালারিজুড়ে আবেগ, সতীর্থদের চোখে শ্রদ্ধা আর সামনে নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ ৯০ মিনিট। আর সেই শেষ অধ্যায়কেও নিজের মতো করেই রাঙিয়ে দিলেন ফুটবলের এই মহাতারকা।

বিদায়ের মঞ্চে এর চেয়ে সুন্দর গল্প আর কী-ই বা হতে পারত! শেষ ম্যাচে মেসি করলেন এক গোল, সঙ্গে দুটি অ্যাসিস্ট। তার জাদুকরী পারফরম্যান্সে বেনিনকে ৩-০ গোলে হারিয়ে জয় দিয়েই আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।

প্রথমার্ধে একের পর এক সুযোগ তৈরি করেও গোলের দেখা পাচ্ছিল না আর্জেন্টিনা। সময় যত গড়াচ্ছিল, ততই যেন বাড়ছিল উৎকণ্ঠা। বিদায়ী ম্যাচে কি তবে গোল না করেই মাঠ ছাড়বেন মেসি?

না, সেই গল্প মেসি অসম্পূর্ণ রাখতে চাননি।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই নিজের উপস্থিতির জানান দিলেন তিনি। ম্যাচের ৪৮ মিনিটে মেসির নেওয়া কর্নার থেকে গোল করে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন নিকোলাস ওটামেন্দি। ডান দিক থেকে মেসির নিখুঁত কর্নার কিক দারুণভাবে কাজে লাগিয়ে কাছ থেকে ভলিতে বল জালে পাঠান এই ডিফেন্ডার।

গোলটি ওটামেন্দির নামে লেখা হলেও তার পেছনের কারিগর ছিলেন সেই চিরচেনা মেসি। জাতীয় দলের জার্সিতে এটি ছিল তার ৬৮তম অ্যাসিস্ট।

একটি বিদায় যেন ধীরে ধীরে রূপ নিচ্ছিল মহাকাব্যে। এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করে নেয় আর্জেন্টিনা। ৬১ মিনিটে আবারও মেসির জাদু। বক্সের বাইরে থেকে নিকো পাজের দিকে বল বাড়িয়ে দেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। মেসির বাড়িয়ে দেওয়া সেই বল পেয়ে বক্সের প্রান্ত থেকে দুর্দান্ত বাঁকানো শটে বল জালে জড়িয়ে দেন পাজ।

গোলরক্ষকের নাগালের বাইরে দিয়ে বল জালে জড়াতেই আর্জেন্টিনা এগিয়ে যায় ২-০ ব্যবধানে। দুটি গোলে অবদান রাখার পর যেন বাকি ছিল শুধু নিজের নামটাও স্কোরশিটে তুলে দেওয়া। সেটিও করলেন মেসি।

৬৯ মিনিটে বেনিনের এক ডিফেন্ডারের ফাউলে পেনাল্টি পায় আর্জেন্টিনা। স্পট কিকের সামনে দাঁড়ালেন সেই মানুষটি, যার পায়ের দিকে তাকিয়ে বছরের পর বছর কোটি কোটি চোখ।

৭০ মিনিটে ডান পায়ের নিখুঁত শটে বল পাঠিয়ে দিলেন গোলের ওপরের কোণায়। বেনিনের গোলরক্ষক বুঝে ওঠার আগেই বল জড়িয়ে গেল জালে।

সতীর্থরা ছুটে গেলেন মেসির দিকে। আর মনুমেন্টালের গ্যালারি যেন মুহূর্তেই পরিণত হলো আবেগের সমুদ্রে। হাজার হাজার মানুষ চিৎকার করছে, করতালি দিচ্ছে, ভালোবাসা উজাড় করে দিচ্ছে তাদের প্রিয় ১০ নম্বরকে।

হয়তো সবাই জানত, এই দৃশ্য আর কখনো দেখা যাবে না। জাতীয় দলের জার্সিতে মেসির শেষ গোল। শেষবার সতীর্থদের সঙ্গে সেই উদযাপন। শেষবার গ্যালারির ভালোবাসায় ভেসে যাওয়া।

এরপর আর গোল হয়নি। ম্যাচ শেষ হয়েছে ৩-০ ব্যবধানে। তবে আসল গল্পটা ছিল স্কোরলাইনের বাইরেও।

ম্যাচের দশম মিনিটেই থেমে গিয়েছিল খেলা। মেসির ১০ নম্বর জার্সির প্রতি সম্মান জানাতে রেফারি খেলা থামালে পুরো স্টেডিয়াম দাঁড়িয়ে করতালিতে অভিবাদন জানায় আর্জেন্টাইন কিংবদন্তিকে।

মেসিও হাত নেড়ে সেই ভালোবাসার জবাব দেন। কী অদ্ভুত সুন্দর এক মুহূর্ত!

যে ১০ নম্বর জার্সি একসময় ছিল শুধু একটি নম্বর, মেসির ছোঁয়ায় সেটিই হয়ে উঠেছে একটি যুগের প্রতীক। যে মানুষটি আর্জেন্টিনার জন্য কেঁদেছেন, হেরেছেন, আবার ফিরেছেন, শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ জিতেছেন, কোপা আমেরিকা জিতেছেন, সেই মানুষটিই আজ বিদায়ের দরজায় দাঁড়িয়ে।

নক্ষত্রেরও একদিন পতন হয়। কিন্তু সব নক্ষত্র হারিয়ে যায় না।

কিছু নক্ষত্র আকাশ থেকে সরে গেলেও মানুষের হৃদয়ে আলো হয়ে থেকে যায়। লিওনেল মেসিও হয়তো আর জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে নামবেন না, কিন্তু তার গল্প শেষ হবে না কখনো। কারণ কিছু কিংবদন্তি ফুটবল ছেড়ে যান না। তারা ফুটবলের ইতিহাস হয়ে থেকে যান।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৬ প্রিয়দেশ