ইসরায়েলের অব্যাহত আগ্রাসনের মুখে যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিনের গাজার পরিস্থিতি নিয়ে আবারও সরব হয়েছেন হলিউডের তারকা অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। এই মার্কিন অভিনেত্রীযুদ্ধবিধ্বস্ত এই অঞ্চলের ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র তুলে ধরতে স্যাটেলাইট ছবি শেয়ার করেছেন।
ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে জোলি গাজার স্যাটেলাইট ছবি শেয়ার করেন, যেখানে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের ফলে সৃষ্ট ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের আগের ও পরের দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি সেখানকার বাসিন্দাদের জন্য মানবিক সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান জানান। গুগল আর্থ থেকে নেওয়া স্যাটেলাইট ছবিগুলোর পাশাপাশি এই হলিউড তারকা জাতিসংঘের বিভিন্ন পরিসংখ্যান ও তথ্যও তুলে ধরেন।
জোলি বলেন, গুগল আর্থের মাধ্যমে গাজার ধ্বংসযজ্ঞের ভয়াবহতা দেখা যাচ্ছে; সেখানে পুরো এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, বাড়িঘর, স্কুল, হাসপাতাল, রাস্তাঘাট এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
হলিউড তারকা বলেন, পুরো এলাকা ধ্বংসস্তূপের স্তূপে পরিণত হয়েছে। তিনি জাতিসংঘের পরিসংখ্যান উদ্ধৃত করে জানান, গাজার ৮২ শতাংশ ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দুই-তৃতীয়াংশের বেশি ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। শীতকাল ঘনিয়ে আসার প্রেক্ষাপটে মানবিক পরিস্থিতির অবনতির বিষয়টিও জোলি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, তীব্র শীতের আগেই গাজার ৯৪ শতাংশ মানুষের জন্য আশ্রয় ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী প্রয়োজন। অথচ মানবিক সহায়তা, তাবু এবং আশ্রয়ের অন্যান্য উপকরণ পৌঁছাতে বিলম্ব হচ্ছে।
এই অভিনেত্রী বলেন, স্যাটেলাইট ছবির মাধ্যমে ভৌত ধ্বংসযজ্ঞের ব্যাপকতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া গেলেও, এই ধ্বংসলীলা থেকে বেঁচে যাওয়া পরিবারগুলোর মানসিক আঘাত বা ট্রমার বিষয়টি এতে ফুটে ওঠে না। জোলি এর আগেও সংঘাতের শিকার বেসামরিক নাগরিকদের সমর্থনে কথা বলেছেন।
চলতি বছরের শুরুর দিকে তিনি মিশরের রাফাহ সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করেন; সেখানে তিনি মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন এবং গাজার জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।