পুর্ণশক্তির দল নিয়ে এবার এশিয়ান গেমসে খেলতে গিয়েছিল বাংলাদেশ পুরুষ ক্রিকেট দল। লক্ষ্য ছিল–স্বর্ণ জয়। যাওয়ার আগে এবং পরে দু’দফা অধিনায়ক লিটন দাসও সেই কথাই বলেছিলেন। কিন্তু বাজে ব্যাটিংয়ের মূল্য চুকিয়ে এশিয়ান গেমস থেকে খালি হাতেই ফিরতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। কোনো পদকই জিততে পারেনি লিটন দাসরা।
র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকায় এবারের এশিয়ান গেমসে সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে কোন বল না খেলেই সেমিফাইনালে উঠে বাংলাদেশ। সেমিফাইনালে নিদারুণ ব্যাটিং-বোলিংয়ে পাকিস্তানের কাছে ৬ উইকেটে হেরে স্বর্ণের স্বপ্ন ভঙ্গ হয়। সেই ম্যাচে লিটন দাসের রান ছিল মাত্র ২।
এরপর আজ শনিবার (৩ অক্টোবর) শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল ব্রোঞ্জ জয়ের লক্ষ্যে। এ ম্যাচে শ্রীলঙ্কার দ্বিতীয় সারির দলের বিপক্ষে ১৬৬ রান তাড়া করতে নেমে ১০২ রানেই গুটিয়ে গেছে বাংলাদেশ। হেরেছে ৬৩ রানের বড় ব্যবধানে। এই হারে শেষ হয়েছে ব্রোঞ্জের আশাও। এ ম্যাচে লিটনের ব্যাট থেকে শূণ্য রান।
পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে প্রশ্ন উঠেছে লিটন দাসের ক্যাপ্টেন্সি নিয়েও। এমন ব্যর্থতার পর সাংবাদিকেরা প্রশ্ন তুলেছেন, লিটন অধিনায়কের পদ থেকে পদত্যাগ করবেন কি না? উত্তরে লিটন জানান, পদত্যাগ করার মতো কিছু হয়নি। তিনি বলেন, ‘না, রিজাইন (পদত্যাগ) করতে চাই না। ক্রিকেটে উত্থান-পতন থাকে। একদিন ভালো হবে, একদিন খারাপ হবে। এখানে রিজাইনের তো কিছু নেই।’
লিটনের এমন জবাবে সন্তুষ্ট হননি সাংবাদিকেরা। তাই কিছুক্ষণ পর আবারও একই প্রশ্ন করে বসেন লিটনকে। এবার অনেকটা ক্ষুব্ধ হয়েই লিটন বলেছেন, ‘পদত্যাগ করে দিব? আচ্ছা, এশিয়ান গেমস থেকে পদত্যাগ করলাম। দয়া করে পরের প্রশ্ন।’
শ্রীলঙ্কার কাছে ৬৩ রানের বাজে হার নিয়ে লিটন বলেছেন, ‘হারের ব্যাখ্যা আমরা ভালো ক্রিকেট খেলিনি।’
এর কারণ ব্যখ্যা করতে গিয়ে বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয়েছে প্রথম ৮ ওভার খুবই ভালো বোলিং করেছি। এরপর আপনারা দেখেছেন যে, একজন ব্যাটার এসে যেরকম শট খেলেছে এই উইকেটে, খুবই ডিফিকাল্ট। বাট সে এক্সট্রাঅর্ডিনারি ব্যাটিং করায় আমাদের বোলাররা কোনো ক্লু পায় নাই এখান থেকে কীভাবে কামব্যাক করবে।’
‘এরপর আমরা যখন ব্যাটিংয়ে গিয়েছি, কোনোভাবেই ওটা কাভার আপ করতে পারিনি। আমাদের ব্যাটিংয়ের হিসেবে আমরা আজকে আপ টু দ্য মার্ক ছিলাম না।’-যোগ করেন লিটন।
এশিয়ান গেমসের সর্বশেষ তিন আসরে কোনো না কোনো পদক জিতেছে বাংলাদেশ। এবার পদক জিততে না পারা নিয়ে লিটন বলেছেন, ‘ব্রোঞ্জ জিততে না পারায় খারাপ লাগছে। এখানে ফাইনালের টার্গেট নিয়ে এসেছিলাম। সেটা যখন হয়নি, তারপর আরেকটা অপশন ছিল। সুযোগটা আমরা মিস করেছি।’