ব্রাজিলকে মনেপ্রাণে ভালোবাসেন চুয়াডাঙ্গার আন্নাফি মালিক সরল। পেলে, নেইমার, রোনালদো ও ভিনিসিয়াসদের খেলা দেখার নেশায় এবার সুদূর বাংলাদেশ থেকে কলকাতায় ছুটে এসেছেন তিনি। কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ব্রাজিল ও ভারতের আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ দেখতে ১৮ হাজার রুপিতে ভিআইপি টিকিট কিনেছেন আন্নাফি।
ভারতীয় সময় সন্ধ্যা ৭টায় শুরু হওয়ার কথা ব্রাজিল-ভারত ম্যাচ। ম্যাচ ঘিরে কলকাতায় ইতিমধ্যে উৎসবের আমেজ। স্থানীয় দর্শকদের পাশাপাশি বাংলাদেশসহ বিভিন্ন স্থান থেকে ফুটবলপ্রেমীরা এসেছেন খেলা দেখতে।
আন্নাফি জানান, প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতের প্রতি তার আলাদা ভালোবাসা রয়েছে। তবে ব্রাজিলের সমর্থক হিসেবে আজ তিনি চান প্রিয় দলই জিতুক। জীবনে প্রথমবার মাঠে বসে ব্রাজিলের খেলা দেখতে এসে নিজের মধ্যে বাড়তি উত্তেজনা কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
ম্যাচ শুরুর আগে ভিআইপি গেটের সামনে দেখা যায় নোয়াখালী থেকে আসা আরেক বাংলাদেশি ফুটবলপ্রেমী তূর্যকে। ভিনিসিয়াসের খেলা দেখতে কলকাতায় এসেছেন তিনি। প্রিয় দলের সমর্থনে ব্রাজিলের স্লোগানে গলা মেলান তূর্য।
ব্রাজিলের সমর্থনে বাংলাদেশিদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে স্লোগান দিতে দেখা যায় রানাঘাটের মাজদিয়ার বাসিন্দা সুবোধ বিশ্বাসকেও। ঘরে টেলিভিশনের পর্দায় ব্রাজিলের খেলা দেখলেও এবার প্রথমবার মাঠে বসে প্রিয় দলের খেলা উপভোগ করতে এসেছেন তিনি। সুবোধ বলেন, খেলায় হার-জিত থাকবেই। যে দলই জিতুক, ম্যাচটি উপভোগ্য হোক—এটাই তার প্রত্যাশা।
স্টেডিয়ামের ভিআইপি গেটের সামনে ম্যাচের আগেই বিক্রি হচ্ছে দুই দলের জার্সি, পতাকা ও স্কার্ফ। ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যেও এসব সামগ্রী কেনার আগ্রহ দেখা গেছে।
ভারতের ফুটবল ইতিহাসে এই প্রথম ব্রাজিল জাতীয় দলের মুখোমুখি হচ্ছে ভারত। ফলে ম্যাচটি ঘিরে ক্রীড়ামহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে।
ভারতের সাবেক জাতীয় ফুটবলার সুব্রত পালের ছেলে স্ট্রাইকার স্মিতব্রত পালও মায়ের সঙ্গে মাঠে এসেছে। তার জন্য ম্যাচটি আরও বিশেষ। দুই দলের খেলোয়াড়েরা মাঠে নামার সময় যেসব জুনিয়র খেলোয়াড় তাদের সঙ্গে থাকবে, সেই তালিকায় স্মিতব্রতের নাম রয়েছে। পাশাপাশি মাঠে বসে ম্যাচ দেখারও সুযোগ পাচ্ছে সে।
গত বৃহস্পতিবার কলকাতায় পৌঁছায় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল দল। বিমানবন্দর থেকে তারা সরাসরি হোটেলে যায়। এরপর বৃহস্পতিবার রাত ও শুক্রবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে অনুশীলন করেন ভিনিসিয়াস-এনদ্রিকরা।
ঐতিহাসিক এই ম্যাচ ঘিরে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন এলাকায় কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গত বছরের লিওনেল মেসির কলকাতা সফরের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে প্রশাসন এবারও সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করেছে। স্টেডিয়াম এলাকায় প্রায় দুই হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। ৩২টি ব্লকেই রয়েছে বিশেষ পুলিশি নজরদারি।
স্টেডিয়ামে বাজি, অস্ত্র, লেজার, খাবার, পানির বোতল, ছাতা ও ধারালো বস্তু নেওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ বিষয়ে মাইকিং করে দর্শকদেরও সতর্ক করা হচ্ছে।