কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে ফের অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। এ সময় ৩৬৩ জনকে আটক করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাতভর জেলার ১৮ থানায় একযোগে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানের নেতৃত্বে জেলা ও গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ একযোগে এ অভিযান চালায়। আজ শনিবার বিষয়টি জানিয়েছেন কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ড. নাহিদা বেগমের ১৩ বছর বয়সী সন্তান অপ্রতিমের খুনের ঘটনার পর কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এতে নড়েচড়ে বসে পুলিশ-প্রশাসন। শুক্রবার পঞ্চম বারের মতো কিশোর গ্যাং এবং বখাটেদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর জানিয়েছেন, অভিযানে কুমিল্লা নগরীর বিভিন্ন স্থানসহ প্রত্যেকটি থানা এলাকার বিভিন্ন স্থানে, যেখানে কিশোর বয়সী বখাটেদের উৎপাত রয়েছে সেই সব স্থানে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এ অভিযানে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরাসরি অংশ নেন। আটক ৩৬৩ জনের অপরাধের সম্পৃক্ততা যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আরও পড়ুন কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ৪১৫ ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২০২২ সালে কুমিল্লা নগরীর মিশনারি স্কুলের সামনে কিশোর গ্যাংয়ের ঈগল গ্রুপ ও রতন গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ হয়। এতে মো. শাহাদাত নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। এ হত্যা মামলার প্রধান আসামি রতন গ্রুপের প্রধান রতনকে এ অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রতনের বিরুদ্ধে এ হত্যা মামলা ছাড়াও অস্ত্র ও অন্যান্য অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে। ‘পুলিশের এ অভিযান কিশোর অপরাধী ও তাদের পরিবারের জন্য একটি সতর্কতামূলক বার্তা। ভবিষ্যতে কারও সন্তান যাতে বিপথগামী হতে না পারে এ জন্য সন্তানের মা-বাবাসহ পরিবারের দায়িত্বশীলদের নজরদারি থাকতে হবে। উঠতি বয়সী কিশোররা যেন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হতে না পারে সেজন্য জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নিয়মিত এ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। কোনো নিরপরাধ মানুষ যেন এ অভিযানে হয়রানির শিকার না হন; এ বিষয়েও কঠোর মনিটরিং করা হচ্ছে,’ বললেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।