অনলাইন বেটিং নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তে বড় ধরনের আর্থিক ধাক্কার মুখে পড়েছে ব্রাজিলের শীর্ষ ফুটবল ক্লাবগুলো। দেশটির শীর্ষ লিগের ২০ দলের মধ্যে ১৪টির প্রধান স্পনসরই বেটিং কোম্পানি। এসব চুক্তির সম্মিলিত মূল্য প্রায় ২০ কোটি মার্কিন ডলার এবং ২০২৫ সালে ক্লাবগুলোর বাণিজ্যিক আয়ের প্রায় ৩৪ শতাংশ এসেছে এই খাত থেকে।
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা গত ২৫ সেপ্টেম্বর অনলাইন বেটিং কোম্পানির বিরুদ্ধে একটি অস্থায়ী ব্যবস্থা জারি করেন। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ৫ অক্টোবরের পর বেটিং কোম্পানিগুলোর বিজ্ঞাপন সরিয়ে ফেলতে হবে। একই সঙ্গে বর্তমানে কার্যকর অনলাইন বেটিং লাইসেন্সগুলো বাতিল হবে, যদি না ১২০ দিনের মধ্যে কংগ্রেস সেগুলো অনুমোদন করে।
এই সিদ্ধান্তের সরাসরি প্রভাব পড়ছে ক্লাবগুলোর স্পনসরশিপ চুক্তিতে। ব্রাজিলের ফুটবলে বেটিং কোম্পানিগুলো গত কয়েক বছরে সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদারদের একটি হয়ে উঠেছিল। ফলে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে ক্লাবগুলোর সামনে একই সঙ্গে চুক্তি, ভবিষ্যৎ আয় এবং খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক সামলানোর প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সবচেয়ে বড় চুক্তিটি রয়েছে ফ্লামেঙ্গোর সঙ্গে। লাতিন আমেরিকার অন্যতম সফল এই ক্লাবের বেটানো স্পনসরশিপের বার্ষিক মূল্য প্রায় ৪ কোটি ৬০ লাখ ডলার। ক্লাবটির সভাপতি লুইজ এদুয়ার্দো বাতিস্তা নিষেধাজ্ঞার পর প্রশ্ন তুলেছেন, এই অর্থ না থাকলে উচ্চমূল্যের খেলোয়াড়দের চুক্তি ও পারিশ্রমিক কীভাবে সামলানো হবে।
ক্লাবগুলোর জন্য আরেকটি সমস্যা হলো- একই সময়ে বহু দলকে নতুন স্পনসর খুঁজতে হবে। ফ্লুমিনেন্সের সভাপতি মাতেউস মনতেনেগ্রো বলেছেন, এতগুলো ক্লাব একসঙ্গে বিকল্প স্পনসর খুঁজলে নতুন চুক্তির মূল্য কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ক্রীড়া ব্যবসা বিশেষজ্ঞদেরও ধারণা, অনিশ্চয়তার কারণে ক্লাবগুলোর বাণিজ্যিক মূল্যায়নে প্রভাব পড়তে পারে।
বেটিং খাতের সংগঠনগুলো অবশ্য সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে। ২৮ সেপ্টেম্বর কয়েকটি প্রধান বেটিং সংগঠন ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্টে নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের আবেদন করে। তাদের দাবি, সরকারের এই পদক্ষেপ সাংবিধানিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। বিষয়টি এখন আদালত ও কংগ্রেসের সিদ্ধান্তের ওপরও নির্ভর করছে।
ব্রাজিলের ফুটবলে বেটিং কোম্পানির প্রভাবও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দ্রুত বেড়েছে। ২০১৯ সালের পর থেকে তারা ক্লাবগুলোর বড় স্পনসর হয়ে ওঠে। এই সময়ে ব্রাজিলিয়ান ক্লাবগুলো দক্ষিণ আমেরিকার ক্লাব ফুটবলে ধারাবাহিক সাফল্য পেয়েছে। সর্বশেষ সাতটি কোপা লিবের্তাদোরেস শিরোপাই ব্রাজিলের ক্লাবগুলোর দখলে গেছে।
তবে নিষেধাজ্ঞার ফলে শুধু স্পনসরশিপ হারানোর বিষয় নয়, ব্রাজিলিয়ান ক্লাবগুলোর সাম্প্রতিক আর্থিক শক্তি ধরে রাখার সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। নতুন স্পনসর পাওয়া, পুরোনো চুক্তির আইনি পরিণতি এবং বেটিং নিষেধাজ্ঞা শেষ পর্যন্ত কীভাবে কার্যকর হয়- এসবের ওপরই এখন ক্লাবগুলোর আর্থিক পরিস্থিতি অনেকটা নির্ভর করছে।