ইরানের সামরিক বাহিনীকে সহায়তার অভিযোগে চীন, পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবসহ কয়েকটি দেশের ১০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার এই নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেয়।
এক বিবৃতিতে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে ইরানের সামরিক বাহিনীর জন্য অস্ত্র এবং যন্ত্রাংশ সংগ্রহের অভিযোগ রয়েছে। তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে তিনটি ইরানেই অবস্থিত।
মন্ত্রণালয় বলেছে, 'আজকের এই পদক্ষেপ অস্ত্র কর্মসূচি পুনর্গঠনে ইরানি সরকারের সক্ষমতাকে আরও সংকুচিত করবে। একই সঙ্গে তেহরানের সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহে সহায়তা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য খরচ বাড়াবে।'
'অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট' কর্মসূচির আওতায় এসব নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। গত আগস্টে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট কর্মসূচিটি ঘোষণা করেন। এর লক্ষ্য, ইরানের বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশ সীমিত করে যুদ্ধ বন্ধে সমঝোতায় যেতে দেশটির ওপর চাপ বাড়ানো।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই অভিযানের মাধ্যমে 'নজিরবিহীন মাত্রায় অর্থনৈতিক যুদ্ধ ও বিচ্ছিন্নতা' তৈরি করা হবে। ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা যেকোনো দেশকে 'ভয়াবহ' পরিণতির মুখে পড়তে হবে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।
নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে হংকংভিত্তিক ইসি মোজো টেকনোলজি কোম্পানি লিমিটেড ও এর প্রতিনিধি লি ফেন রয়েছেন। অর্থ বিভাগের দাবি, ইসি মোজো ইরানের সামরিক বাহিনীকে 'ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ সরবরাহ করেছে' এবং লি নিষেধাজ্ঞা ও রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ এড়ানোর চেষ্টা করেছেন।
সৌদি আরবভিত্তিক ক্যাভালিয়ার ডায়নামিকস ফর টেকনোলজিস কোম্পানিকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে। মার্কিন অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে 'সৌদি সরকারের অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করে'।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনীর লজিস্টিক বিভাগের (এমওডিএএফএল) জন্য অস্ত্র ও যন্ত্রাংশ সংগ্রহে জড়িত বলে অভিযোগ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
ইরানের সামরিক খাতের পাশাপাশি অন্যান্য অর্থনৈতিক খাতেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞায় কয়েকটি এয়ারলাইনস ফ্লাইট বাতিল করায় অনেক যাত্রী আটকা পড়েছেন।
তবে নতুন নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা। দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় থাকা ইরানের ওপর যুদ্ধের কারণে অর্থনৈতিক চাপ আরও বেড়েছে। মঙ্গলবার দেশটির মুদ্রার দর ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে।
যুক্তরাষ্ট্র-চীনের সম্পর্ক কিছুটা উষ্ণ হলেও নতুন নিষেধাজ্ঞায় কয়েকটি চীনা প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। এর আগে চীনের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিতে দেরি করা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে বেসেন্ট বলেছিলেন, 'আমরা সবাইকে খারাপ আচরণ সংশোধনের সুযোগ দিচ্ছি। আমি কেন বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থাকে ধ্বংস করতে চাইব?'
While most comments will be posted if they are on-topic and not abusive, moderation decisions are subjective. Published comments are readers’ own views and The Business Standard does not endorse any of the readers’ comments.