নাটোরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক লিটন কুমার এবং বিকুল কুমারকে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে ইমিগ্রেশনে চিঠি দিয়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস
নাটোরে সোনালী ব্যাংকের একটি শাখায় জালিয়াতি করে এক কোটি ২৭ লাখ ৩৬ হাজার টাকা আত্মসাৎ, ভুয়া ও মিথ্যা ঋণ এবং অতিরিক্ত আমানত বৃদ্ধি দেখানোসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
এসব ঘটনায় নাটোরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক লিটন কুমার এবং বিকুল কুমার পালকে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে বিভিন্ন ইমিগ্রেশনে চিঠি দিয়েছে সোনালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
এ ছাড়া চারজন শাখা ব্যবস্থাপকসহ পাঁচ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্তের পাশাপাশি তাদেরকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে ব্যাংকের প্রধান শাখায় সংযুক্ত করা হয়েছে।
সোনালী ব্যাংকের জেনারেল ম্যানেজার ইনচার্জ মো. শওকত জামান স্বাক্ষরিত চিঠিতে দুই কর্মকর্তাকে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। সেইসঙ্গে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও স্থলবন্দরের সব ইমিগ্রেশনকে একটি চিঠি দিয়েছে সোনালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
২২ ও ২৩ সেপ্টেম্বর সোনালী ব্যাংকের ভিজিল্যান্স অ্যান্ড কমপ্লেইন্ট ম্যানেজমেন্ট ডিভিশন নাটোর ও নওগাঁর প্রধান শাখাকে গোপনীয়তার সঙ্গে চিঠি দিয়ে এ নির্দেশনা দিলেও সোমবার বিষয়টি জানাজানি হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সম্প্রতি সোনালী ব্যাংকের নাটোর শহরের বাসস্ট্যান্ড শাখা (পুরাতন মহিলা শাখা), স্টেশন বাজার শাখা, গুরুদাসপুর এবং চাঁচকৈড় শাখায় অভ্যন্তরীণ বিশেষ অডিট পরিচালনা করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
এতে শাখাটির সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক বর্তমানে নওগাঁ প্রধান শাখার সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার লিটন কুমার জালিয়াতি করে ব্যাংকের ৯২ লাখ সাত হাজার টাকা এবং একই শাখার সাবেক প্রিন্সিপাল অফিসার বর্তমানে নওগাঁর টিটিডিসি শাখা ব্যবস্থাপক বিকুল কুমার পাল ৩৫ লাখ ২৮ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন।
সেইসঙ্গে সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার লিটন কুমার সেরা শাখা ব্যবস্থাপক হয়ে পুরস্কার পাওয়ার জন্য তিন কোটি ১১ লাখ ২৫ হাজার ৫০০ টাকার ভুয়া, মিথ্যা ঋণ ও অতিরিক্ত আমানত দেখিয়েছেন। এগুলোসহ আরও বিভিন্ন গ্রাহকের নামে অর্থ আত্মসাতে বাসস্ট্যান্ড শাখার সাবেক শাখা প্রধান লিটন কুমারকে একই শাখার সাবেক প্রিন্সিপাল অফিসার বিকুল কুমার সহযোগিতা করেন।
অডিটে নাটোর স্টেশন বাজার শাখার সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক বর্তমানে প্রধান শাখার সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার এএইচএম রোকনুজ্জামান ৪৭ লাখ ৩৬ হাজার টাকার ভুয়া ঋণ ও অতিরিক্ত আমানত বৃদ্ধি, একই অভিযোগে গুরুদাসপুর শাখার সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক বর্তমানে প্রধান শাখার সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার মনিরুজ্জামান ৭৭ লাখ ৯৯ হাজার টাকা এবং চাঁচকৈড় শাখার সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক বর্তমানে বড়াইগ্রাম শাখার প্রিন্সিপাল অফিসার হাফিজুর রহমান দুই কোটি ৮৮ লাখ টাকার ভুয়া, মিথ্যা ঋণ ও অতিরিক্ত আমানত বৃদ্ধি দেখিয়ে সেরা শাখা ব্যবস্থাপক হওয়ার পাশাপাশি ব্যাংকের ক্ষতি করেছেন।
এ ধরনের জালিয়াতিমূলক কর্মকাণ্ডের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পাঁচজন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে সোনালী ব্যাংক পিএলসি কর্তৃপক্ষ।
এ ছাড়া এক কোটি ২৭ লাখ ৩৬ হাজার টাকা আত্মসাৎতের অভিযোগে নাটোরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড শাখার সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক লিটন কুমার এবং বিকুল কুমার পালকে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।
এসব বিষয়ে জানতে লিটন কুমার ও বিকুল কুমারকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তারা ধরেননি।
পরে সোনালী ব্যাংকের নাটোর আঞ্চলিক কার্যালয়ের এজিএম ও ইনচার্জ আহসান রেজার কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি সিনিয়র কর্মকর্তাদের অনুমতি ছাড়া কোনও কথা বলতে রাজি হননি।
মদিনার মিষ্টান্ন, শ্রী ঘোষের দধি: সম্প্রীতির যে রেখা চোখে পড়ে না
ডিজিটাল কলোনিয়ালিজম: আত্মপরিচয়ের সংকট ও লিঙ্গভিত্তিক সংঘাত
রাড্ডাকাণ্ড: আট মাস না পেরোতেই বড় প্রশ্নের মুখে বিএনপি
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন: অনুকম্পা নয়, সুযোগ কাজে লাগানোর সময় এখনই