মাদারীপুর প্রতিনিধি ঃ দখল, দূষণ ও পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়া মাদারীপুরের ‘বরিশাল খাল’ ফিরে পাচ্ছে প্রাণ। এক সময় যে খালের বুক চিরে ছুটত নৌকা, যার পানির সঙ্গে জড়িয়ে ছিল মাদারীপুরের মানুষের জীবন-জীবিকা; সেই ঐতিহ্যবাহী বরিশাল খালে আবারও প্রাণ ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খালটির পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে মাদারীপুর পৌরসভার ইটেরপুল এলাকায় বরিশাল খালের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. জাহান্দার আলী মিয়া। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুর জেলা প্রশাসক (ডিসি) মর্জিনা আক্তার, মাদারীপুর পৌরসভার প্রশাসক জেসমিন আক্তার বানু, পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার আবু আহমদ ফিরোজ ইলিয়াসসহ সংশ্লিষ্টরা। পুনঃখনন শুরু হওয়ায় দীর্ঘদিন পর খালটির হারানো চেহারা ফিরে পাওয়ার আশায় স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে স্বস্তি। তাদের প্রত্যাশা, খালটি আবার সচল হলে বর্ষা মৌসুমে শহরের জলাবদ্ধতা কমবে, পানি নিষ্কাশনের পথ সহজ হবে এবং পরিবেশের ভারসাম্যও ফিরবে। ইটেরপুল থেকে পাথুরিয়ারপাড় পর্যন্ত প্রায় আট কিলোমিটার দীর্ঘ বরিশাল খালটি একসময় ছিল মাদারীপুরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ। নৌপথে পণ্য পরিবহন ও মানুষের যাতায়াত ছিল নিয়মিত। খালের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষিরও নানা প্রয়োজন। কালের পরিক্রমায় সেই চিত্র বদলে যায়। দখল, ভরাট, পলি ও ময়লা-আবর্জনায় খালের অনেক অংশ সংকুচিত হয়ে পড়ে। কোথাও কোথাও পানির প্রবাহ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। এক সময় যে খাল ছিল শহরের পানি নিষ্কাশনের অন্যতম পথ, সেটিই পরিণত হয় জলাবদ্ধতা ও দুর্গন্ধের অন্যতম কারণ হিসেবে। ২০২৫ সালের ২৭ জুন মাদারীপুর পৌরসভার উদ্যোগে ও জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ইটেরপুল এলাকায় বরিশাল খালের পুনঃখনন শুরু হয়েছিল। এবার নতুন করে পুনঃখনন কাজের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে খালটিকে আরও কার্যকরভাবে সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হলো। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, খালটির প্রাণ ফিরলে শুধু জলাবদ্ধতার সমস্যাই কমবে না, শহরের পরিবেশও বদলে যাবে। তবে তাদের দাবি, খননের পর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে। পাশাপাশি খালের জায়গা দখল ও ময়লা ফেলার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য মো. জাহান্দার আলী মিয়া বলেন, মাদারীপুর শহরের জলাবদ্ধতা নিরসন ও পরিবেশ রক্ষায় খালগুলোকে সচল রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধু খনন করলেই হবে না, খাল যাতে আবার দখল ও দূষণের কবলে না পড়ে, সেদিকেও নজর দিতে হবে। পৌরসভার প্রশাসক জেসমিন আক্তার বানু বলেন, মাদারীপুর শহরের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থায় বরিশাল খালের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। পুনঃখননের মাধ্যমে খালটির পানিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে এটি সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। মাদারীপুর ডিসি মর্জিনা আক্তার বলেন, খাল পুনঃখননের পাশাপাশি এর স্বাভাবিক প্রবাহ ও পরিবেশ বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। খালে ময়লা-আবর্জনা না ফেলা এবং অবৈধ দখল প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান রইলো।