1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:১৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
খুলনা মহানগর বিএনপির গভীর শোক প্রাণ ফিরছে মাদারীপুরের ‘বরিশাল খালের’ নষ্ট রাজনীতি আতাউস সামাদকে স্পর্শ বা প্রভাবিত করতে পারেনি ওয়ানডে সিরিজ শুরুর আগে বেতন কমিয়ে দেয়া হলো ক্যারিবীয় ক্রিকেটারদের চীনে আন্তর্জাতিক যুব সংলাপ: বাংলাদেশসহ ২৫ দেশের অংশগ্রহণ স্পেনে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচন ঘিরে প্রস্তুতিসভা ঢাকায় পিএমআই বাংলাদেশের ‘সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড অ্যাওয়ার্ডস’ ঢাকার কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগারে অসুস্থ কয়েদির মৃত্যু খেলোয়াড়দের ভোটে ইসরায়েলের বিপক্ষে খেলার সিদ্ধান্ত আয়ারল্যান্ডের আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শক্তিকে রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নষ্ট রাজনীতি আতাউস সামাদকে স্পর্শ বা প্রভাবিত করতে পারেনি

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১১ Time View

# মৃত্যুবার্ষিকীর আলোচনায় নেতৃবৃন্দ #

খবর বিজ্ঞপ্তি ঃ রাজনীতিকে রাজনীতিবিদদের এবং মেধাবীদের হাতে ফিরিয়ে আনার জন্য সাংবাদিকদের কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম। তিনি বলেন, সাংবাদিক আতাউস সামাদ কী করবেন তা উনি নিজেই সিদ্ধান্ত নিতেন। কেউ উনাকে দিয়ে কোনো কিছু করাবে –এমন অবস্থা কারো ছিল না। দেখতে খুব নরম-সরম মানুষ হলেও উনি অত্যন্ত স্বাধীনচেতা ছিলেন। যেটা মনে করতেন সেটাই করতেন। সেই পথ থেকে তাকে সরানো যেত না। দেশের নষ্ট রাজনীতি কখনও তাঁকে স্পর্শ বা প্রভাবিত করতে পারেনি।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনী মিলনায়তনে বরেণ্য সাংবাদিক আতাউস সামাদের ১৪ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জার্নালিস্টস (বিএজে) আয়োজিত স্মরণসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, আজকে একটা নষ্ট রাজনীতির মধ্যে আমরা আছি। এতদিনেও রাজনীতি ও গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া যাচ্ছে না। স্বাধীনতার সময় থেকেই বিচ্যুতি ঘটছে। সেখানে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করার কথা সাংবাদিকদের। কিন্তু চলার পথে আপনারাও (সাংবাদিকরা) সেই রাজনীতির সংক্রামক ব্যাধিতে জড়িয়ে পড়েছেন, যার কারণে সমাজ ও গণতন্ত্র যতটা বিকশিত হওয়ার কথা ছিল, তা বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশ আবার একটি গণতান্ত্রিক পথে হাঁটা শুরু করেছে। এখানে অনেক ভুল-ত্রুটি থাকবে, তবুও ফাইনালি চেষ্টা করতে হবে যাতে এই গণতন্ত্রকে ধরে রাখতে পারি এবং সরকারের পরিবর্তন যেন নিয়মতান্ত্রিক পথেই নিশ্চিত হয়।

বিএজে’র সভাপতি এম আবদুল্লাহ’র সভাপতিত্বে সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বুরহান উদ্দিন ফয়সালের সঞ্চালনায় স্মরণসভায় আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ, সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম, জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ইশতিয়াক আজিজ উলফাৎ, এনর্টিভির সাবেক বর্তা প্রধান খায়রুল আনোয়ার মুকুল, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও টাইম অব বাংলাদেশে-এর উপদেষ্টা সম্পাদক ইলিয়াস খান, বিশিষ্ট লেখক ও টকশো ব্যক্তিত্ব সাখাওয়াত হোসেন শায়ন্ত, ডিইউজে’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, বিএফইউজে’র সহকারি মহাসচিব এহতেশামুল হক শাওন, ডেইউজে’র সাবেক নেতা বেলায়েত হোসেন, আমিরুল ইসলাম অমর, বিটিভি’র সাংবাদিক মোরশের আলম প্রিন্স প্রমুখ।

আবদুস সালাম আরো বলেন, সাংবাদিকতা বা সমাজ গঠনে, রাষ্ট্রের এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হলো সংবাদ ও সাংবাদিকতা। সেখানে আতাউস সামাদের মতো এই ধরনের মানুষ খুব বিরল, কিন্তু থাকাটা খুব জরুরি। যেমনি এখন একজন আছেন আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সাহেব। আল্লাহ তাআলা মানুষকে যা তৈরি করেছেন, তার মেধাটা সেভাবেই দিয়েছেন যে তিনি কোন সেক্টরে কাজ করবেন। কারণ আমি বিশ্বাস করি, আল্লাহ তাআ’লা প্রকৃতির প্রয়োজনে সমুদ্র, নদী, বাঘ, কেঁচো সবকিছু সৃষ্টি করেছেন। ঠিক তেমনি মানব সভ্যতার জন্য মানুষের মধ্যেও ভাগ করে দিয়েছেন কে রাজনীতিবিদ হবে, কে প্রকৌশলী হবে, কে সাংবাদিক হবে, কে ডাক্তার হবে। যখন আমরা সেটা না মেনে অন্য ক্ষেত্রে যাই, তখনই সমাজে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। প্রকৃতির ওপর হাত দিলে যেমন প্রকৃতি উল্টো আঘাত করে, ঠিক তেমনি ক্ষেত্র পরিবর্তন হলেও তার প্রভাব পড়ে। আজকে সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে ক্ষতি সম্পর্কে বলব যে, সমাজে এমন কিছু মানুষ থাকা দরকার যাদের সমস্ত কিছু বাদ দিয়ে নিজের ক্ষেত্র থেকে সমাজ ও মানুষের জন্য লড়াই করতে হবে।

রাজনীতিতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জীবন ও আদর্শ অনুসরণের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তিনি অল্প সময়ের রাজনীতিতে একজন মহান সংস্কারক ছিলেন। এই দেশের জন্য যে সংস্কার দরকার তিনি করে গেছেন। রাজনীতিতে জিয়াউর রহমানের সেই আদর্শ ও নীতি অনুসরণ করতে পারলে আমরা দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারব।

জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ বলেন, আতাউস সামাদের সাংবাদিকতার সবচেয়ে বড় গুণ ছিল সংবাদের তথ্যের নির্ভুলতা ও সত্যতা। সাবেক সামরিক শাসক হোসেন মোহাম্মদ এরশাদের বিসিআইসি ভবন পরিদর্শনের সময় কর্মচারীদের এরশাদবিরোধী স্লোগানের সঠিক খবর বিবিসিতে প্রচার করায় বাংলাদেশে বিবিসির কার্যালয় বন্ধ ও তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। কিন্তু তিনি ভুল স্বীকার না করে সত্যের পক্ষে অটল থাকেন। পাকিস্তান অবজারভারে থাকাকালে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা কভার করা, শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশনামা গোপন চিরকুটে মাওলানা ভাসানীর কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং ১৯৭০-এর শেষভাগে প্রেসক্লাব থেকে স্বাধীন বাংলাদেশের স্লোগান নিয়ে মিছিলের নেতৃত্ব দেওয়ার মতো ঐতিহাসিক ঘটনার সাথে তিনি যুক্ত ছিলেন। তিনি বার্তা সংস্থা, সংবাদপত্র, টেলিভিশন ও সাপ্তাহিক –সংবাদমাধ্যমের প্রায় সব শাখাতেই কাজ করেছেন। তাঁর নীতিভিত্তিক ব্যক্তিত্বের কারণে শীর্ষ রাজনৈতিক নেতারাও তাঁকে গভীরভাবে সম্মান ও সমীহ করতেন।

সভাপতির বক্তব্যে বিএজে সভাপতি ও আমার দেশ-এর যুগ্ম সম্পাদক এম আবদুল্লাহ বলেন, দীর্গদিন ধরে ওনার সাথে পরিচয়। তিনি জুনিয়র সাংবাদিক ও সহকর্মীদের সাথে বন্ধুর মতো আলোচনা করতেন। সেভাবেই সম্পর্ক রক্ষা করতেন। বয়সের ব্যবধানটা ঘুচে যেত ওনার সাথে দেখা হলে। তিনি সেভাবে সাংবাদিকদের সাথে মিশে কাজ করতেন এবং করাতেন।

আতাউস সামাদের ভাতিজা ও মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত বলেন, আতাউস সামাদ কেবল একজন প্রখ্যাত সাংবাদিকই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন অত্যন্ত সৎ, সাহসী ও সাধারণ জীবনযাপনে অভ্যস্ত মানুষ। কাজের প্রতি আতাউস সামাদের আন্তরিকতা ও সততা ছিল অকৃত্রিম। গভীর রাতে ফোন করলেও দেখা যেত তিনি রিপোর্ট ও পত্রিকা তৈরিতে মগ্ন থাকতেন। জ্যেষ্ঠ ও শিক্ষকদের প্রতি তাঁর অগাধ শ্রদ্ধা এবং সাহসিকতা আজকের তরুণ সাংবাদিকদের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব ও দ্যা ওয়াদা সম্পাদক শফিকুল আলম বলেন, নব্বইয়ের দশক-পরবর্তী দলীয় মেরুকরণের যুগে আতাউস সামাদ ছিলেন বাংলাদেশের সাংবাদিকতার ইতিহাসে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও স্বাধীন পেশাদারিত্বের এক বিরল প্রতীক। তিনি সেসময় বাংলাদেশের সবশেষ স্বাধীন সাংবাদিক ছিলেন। সরকারি প্লট বা আর্থিক সুবিধার মোহে পড়ে তিনি কখনো নিজের স্বাধীনতা বিকিয়ে দেননি। তথ্যের একুরেসি ও প্রত্যক্ষ সোর্সিং ছিল তাঁর সাংবাদিকতার মূল শক্তি।

সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট খাইরুল আনোয়ার মুকুল বলেন, শিক্ষক হিসেবে এবং পরবর্তীতে আমার দেশ ও এনটিভিতে সম্পাদক হিসেবে আতাউস সামাদকে পাওয়ার অভিজ্ঞতা অনন্য। সাংবাদিকতায় তিনি ছিলেন নিখুঁত পারফেকশনিস্ট। 'অজ্ঞাত সূত্র জানায়' কিংবা 'সংশ্লিষ্ট মহল' বলে অনুমাননির্ভর রিপোর্ট লেখা তিনি কঠোরভাবে অপছন্দ করতেন। বরং সুনির্দিষ্ট তথ্য, নাম ও দলিলের ভিত্তিতে নির্মোহ ভাষায় সংবাদ পরিবেশনের নির্দেশ দিতেন।

আমার দেশ এর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক জাহেদ চৌধুরী বলেন, আমার দেশকে একটি ব্র্যান্ডে ও জনপ্রিয় পত্রিকায় পরিণত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন আবদুস সামাদ ভাই। তিনি আমৃত্যু আমার দেশের সঙ্গে থেকে আমার দেশকে টিকিয়ে রেখে মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে রুপ দিতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। আমি আমার সাংবাদিকতার জীবনে সামাদ ভাইয়ের কাছ থেকে অনেক শিখতে পেরেছি, জানতে পেরেছি এবং উপক্রিত হয়েছি। তিনি শেষ দিন পর্যন্ত যেভাবে সাংবাদিকতার এক্যুরেসি মেনে চলেছেন তা আমাদের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক।

টাইমস অব বাংলাদেশ-এর উপদেষ্টা সম্পাদক ইলিয়াস খান বলেন, তিনি ছিলেন পারফেকশনিস্ট। তিনি ফাকি দেওয়াটা ধরে ফেলতেন। রিপোর্টের সুত্রকে স্পষ্ট করে বলতেন তিনি। তিনি শিক্ষক ও সাংবাদিক ও সম্পাদক হিসেবে আমাদের শিখিয়েছেন৷ তার মতো একজন সাংবাদিক আমাদের প্রয়োজন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৬ প্রিয়দেশ