প্রায় তিন বছর পর আবারও প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে ফিরেছে ফিলিস্তিন। পশ্চিম তীর, গাজা এবং লেবাননে থাকা ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরগুলোতে শুরু হয়েছে সংগঠিত ফুটবল। এই প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ বিরতির পর মাঠে ফিরেছেন শত শত খেলোয়াড়।
বেথলেহেমের আল-খাদার স্টেডিয়ামে ‘থাউজ্যান্ড মার্টিয়ার্স কাপ’ দিয়ে শুরু হয়েছে এই যাত্রা। স্টেডিয়ামের গ্যালারি ছিল দর্শকে পূর্ণ। মাঠে মুখোমুখি হয় আরব অর্থোডক্স বেইত জালা ও দেহেশেহ ইয়ুথ। খেলোয়াড়দের লড়াই আর দর্শকদের উচ্ছ্বাসে কয়েক ঘণ্টার জন্য স্বাভাবিক জীবনের আবহ ফিরে আসে।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় যুদ্ধ এবং পশ্চিম তীরে চলমান নানা বিধিনিষেধের কারণে ফিলিস্তিনি ফুটবল কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছিল। ফিলিস্তিনি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (পিএফএ) মহাসচিব ফিরাস আবু হিলাল বলেন, চেকপোস্ট, চলাচলে বিধিনিষেধ, স্থাপনায় হামলা এবং খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তারের কারণে ফুটবল আয়োজন কঠিন হয়ে পড়েছিল।
পিএফএর হিসাবে, ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর নিহত ১ হাজার ১৪ জন ক্রীড়াবিদের স্মরণে ‘থাউজ্যান্ড মার্টিয়ার্স কাপ’ নাম রাখা হয়েছে। যুদ্ধের মধ্যে জাতীয় দলের ফরোয়ার্ড সুলাইমান আল-ওবেইদ এবং অলিম্পিক দলের কোচ হানি আল-মাসদারসহ অনেক ক্রীড়াবিদ প্রাণ হারিয়েছেন।
বর্তমানে পশ্চিম তীর, গাজা ও লেবাননের ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবির মিলিয়ে ২০০টির বেশি ক্লাব আবার ফুটবল খেলছে। তবে মাঠে ফিরলেও আগের মতো সহজ হয়নি তাদের পথচলা।
পশ্চিম তীরে দীর্ঘ দূরত্বের যাতায়াত কমাতে দলগুলোকে কাছাকাছি এলাকার ভিত্তিতে ভাগ করা হয়েছে। এরপরও সামরিক চেকপোস্ট ও সড়কের গেট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ম্যাচে পৌঁছাতে সমস্যা হচ্ছে। পিএফএ জানিয়েছে, এসব কারণে ম্যাচ স্থগিত হতে পারে, তবে টুর্নামেন্ট বন্ধ হবে না।
যুদ্ধের কারণে আর্থিক সংকটও তৈরি হয়েছে। অনেক ক্লাব খেলোয়াড়দের বেতন দিতে না পারায় পেশাদার ফুটবলাররা অপেশাদার পর্যায়ে ফিরে গেছেন। প্রায় তিন বছর প্রতিযোগিতা না থাকায় অনেক খেলোয়াড়ের ক্যারিয়ারও থমকে গেছে।
বেথলেহেমের আয়দা শরণার্থী শিবিরে আলাদা চ্যালেঞ্জের মধ্যে অনুশীলন করছে তরুণ ফুটবলাররা। সেখানকার একটি ফুটবল মাঠ ভেঙে ফেলার আদেশও দেওয়া হয়েছিল। আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার পর সেই আদেশ স্থগিত হলেও মাঠটি পুরোপুরি নিরাপদ কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
তারপরও মাঠে ফিরতে পেরে আশাবাদী খেলোয়াড়রা। পিএফএ জানিয়েছে, ‘থাউজ্যান্ড মার্টিয়ার্স কাপ’ নিয়মিত আয়োজন করা হবে। তাদের কাছে ফুটবল শুধু খেলা নয়, দীর্ঘ প্রতিকূলতার মধ্যেও স্বাভাবিক জীবন ও স্বপ্ন ধরে রাখার একটি মাধ্যম।