নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন সুবিধা নিশ্চিত করতে বরিশাল জেলার ১০ উপজেলা ও সিটি করপোরেশন এলাকায় বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (ডিপিএইচই)।
সমগ্র দেশের নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্পের আওতায় জেলার প্রতিটি ইউনিয়নে গভীর নলকূপ স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গ্রামীণ স্যানিটেশন প্রকল্পের আওতায় হতদরিদ্র পরিবারের জন্য প্রায় ৬ হাজার স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট নির্মাণ করা হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে জেলার প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের নিরাপদ পানির প্রাপ্যতা বাড়ার পাশাপাশি নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর স্যানিটেশন ব্যবস্থারও উন্নতি হবে।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলার প্রতিটি ইউনিয়নে আটটি করে গভীর নলকূপ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। পানির স্তর, এলাকার প্রয়োজনীয়তা ও মানুষের চাহিদা বিবেচনা করে এসব নলকূপ স্থাপন করা হবে।
বরিশাল জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর জানায়, সাধারণ টিউবওয়েলের ক্ষেত্রে গ্রাহকের খরচ হবে ৭ হাজার টাকা এবং সাবমার্সিবল ব্যবস্থায় খরচ হবে ১০ হাজার টাকা। একটি গভীর নলকূপ স্থাপনে সরকারের ব্যয় হবে প্রায় ৮৫ হাজার টাকা। আর সাবমার্সিবল গভীর নলকূপ স্থাপনে সরকারের ব্যয় হতে পারে দুই লাখ টাকারও বেশি।
বরিশালের বিভিন্ন গ্রাম ও প্রত্যন্ত ইউনিয়নে নিরাপদ পানির সংকট এখনও রয়েছে। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে গেলে অনেক এলাকায় সাধারণ নলকূপে পর্যাপ্ত পানি পাওয়া যায় না। নদী ও চরাঞ্চলের কিছু এলাকায় লবণাক্ততা এবং পানির উৎস দূষণের কারণেও নিরাপদ পানি পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
এদিকে, বরিশাল নগরীতেও নিরাপদ পানি সরবরাহ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নগরীর পানির চাহিদা পূরণে রূপাতলী ও বেলতলা এলাকায় সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট নির্মাণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রূপাতলী-১ প্ল্যান্ট সম্প্রতি পুনরায় চালু করা হয়েছে।
অন্যদিকে, পানির গুণগত মান পরীক্ষার সরকারি সক্ষমতা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের আঞ্চলিক গবেষণাগারে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির সংকটের কারণে দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত পানির মান পরীক্ষা ব্যাহত হচ্ছে বলে জানা গেছে।
স্যানিটেশন পরিস্থিতিও বরিশালের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। জাতীয় পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে বরিশাল বিভাগ দেশের অন্যান্য বিভাগের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে। নদীমাতৃক ও দুর্যোগপ্রবণ হওয়ায় বর্ষা ও জলোচ্ছ্বাসের সময় গ্রামীণ এলাকার অনেক ল্যাট্রিন তলিয়ে যায়। এতে মলমূত্র পানির সঙ্গে মিশে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা থাকে।
এ পরিস্থিতিতে গ্রামীণ স্যানিটেশন প্রকল্পের আওতায় জেলার প্রায় ৬ হাজার হতদরিদ্র পরিবারের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি টয়লেট নির্মাণে ব্যয় হবে প্রায় ৬৫ হাজার টাকা। এর মধ্যে উপকারভোগী পরিবারকে ৫ হাজার টাকা সার্ভিস চার্জ দিতে হবে।
বরিশাল জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইমরান তরফদার বলেন, নিরাপদ পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন মানুষের মৌলিক প্রয়োজন। যেসব এলাকায় পানির সংকট রয়েছে এবং যেসব দরিদ্র পরিবার এখনও স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন সুবিধার বাইরে রয়েছে, তাদের অগ্রাধিকার দিয়ে কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি বলেন, প্রকল্পের আওতায় জেলার প্রতিটি ইউনিয়নে প্রয়োজন অনুযায়ী গভীর নলকূপ স্থাপনের পাশাপাশি হতদরিদ্র পরিবারের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট নির্মাণ করা হবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রকল্পের সফলতা অনেকাংশে নির্ভর করবে সঠিক স্থান নির্বাচন, প্রকৃত উপকারভোগী নির্বাচন এবং নির্মিত অবকাঠামোর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের ওপর। পাশাপাশি বরিশালের নদী ও চরাঞ্চলের জন্য জলবায়ু সহনশীল পানি ও স্যানিটেশন অবকাঠামো গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
নিরাপদ পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন নিশ্চিত করা গেলে বরিশালের প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের পাশাপাশি পানিবাহিত বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। সূত্র: বাসস