২০৩০ এর দশকেবিশ্বজুড়ে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যসেবীর ঘাটতি দেখা দিতে পারে বলেসতর্ক করেছেবিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সংস্থাটি জানিয়েছে, আগামী এক দশকের মধ্যে এক-চতুর্থাংশ চিকিৎসক অবসরে যেতে চলেছেন।
১০০টিরও বেশি দেশের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে কর্মী-সংক্রান্ত প্রবণতা বিষয়ক একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদনের সাথে দেওয়া বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, অনেক দেশেই সাধারণ জনগণ এবং স্বাস্থ্যকর্মী উভয় অংশের মানুষেরই বয়স বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে ২০৩০ সাল নাগাদ স্বাস্থ্যকর্মী ১ কোটি ১১ লাখের (১১.১ মিলিয়ন) ঘাটতির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, এটি আরও তীব্র হবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে ৬৭টি দেশে চিকিৎসা সেবার বর্তমান মান বজায় রাখার মতো পর্যাপ্ত কর্মী থাকবে না। জনসংখ্যার অনুপাতে চিকিৎসা কর্মীদের বর্তমান হার বজায় রাখতে আরও ৮ লাখ ৩২ হাজার স্বাস্থ্যকর্মীর প্রয়োজন হবে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, জনবলের অভাবে দরিদ্র দেশগুলোর বিদেশি স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর নির্ভরতা বাড়তে পারে, যা সেখানকার চিকিৎসা সেবার মানের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
ইউরোপের অনেক দেশসহ উচ্চ আয়ের দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, কারণ এসব দেশে বয়োজ্যেষ্ঠ স্বাস্থ্যকর্মীর সংখ্যা বেশি। এতে আরও বলা হয়, এসব দেশে আগামী দশ বছরের মধ্যে প্রতি তিনজন চিকিৎসকের মধ্যে একজন অবসরে যাবেন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা একাডেমির ‘হেলথ ওয়ার্কফোর্স পলিসিস অ্যান্ড ডেটা’ ইউনিটের ভারপ্রাপ্ত প্রধান ড. খাসুম ডিয়ালো ব্যাখ্যা করেন, স্বাস্থ্যকর্মী তৈরি এবং তথ্য প্রদানের ক্ষেত্রে অগ্রগতি সত্ত্বেও, স্বাস্থ্য ও সেবা কর্মীদের ক্ষেত্রে অসমতা এবং তীব্র ঘাটতি রয়ে গেছে। এছাড়া স্বাস্থ্যকর্মীদের ঘনত্বের সাথে জাতীয় আয়ের একটি শক্তিশালী সম্পর্ক বিদ্যমান। ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই বৈষম্যগুলো দূর করা অপরিহার্য।
গেল বছরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ৯০ শতাংশেরও বেশি সদস্য রাষ্ট্র সক্রিয়ভাবে স্বাস্থ্যকর্মী বিষয়ক তথ্য প্রদান করেছে। সামগ্রিকভাবে ২০১৭ সালে এনএইচডব্লিউএ কার্যক্রম শুরুর পর থেকে স্বাস্থ্যকর্মী বিষয়ক তথ্যের প্রাপ্যতা প্রায় ২০ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এটি স্বাস্থ্যকর্মী বিষয়ক তথ্য ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে অর্জিত অগ্রগতিকেই তুলে ধরে।