1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:১৮ পূর্বাহ্ন

এক দশকে ঢাকার মানচিত্র থেকে সবুজ কমেছে ৩১%

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৭ Time View

“২০ বছরে লাগানো গাছগুলো যদি বাস্তবে থাকত তাহলে বাংলাদেশ আমজন বন, সুন্দরবনের মত থাকত সব জায়গায়। কিন্তু একই জায়গায় এক-দুই বছর পর আবার দ্বিগুণ গাছ লাগানোর রেকর্ডও অতীতে দেখছি,” বলেন ক্যাপসের চেয়ারম্যান কামরুজ্জমান মজুমদার।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

ঢাকা মহানগরে ইটপাথরের অবকাঠামো দ্রুত বাড়ার সঙ্গে কমছে গাছপালা, জলাশয় ও পতিত জমি; যা নগরীর উষ্ণায়ন ও দূষণ বৃদ্ধিসহ নানা ঝুঁকির বার্তা দিচ্ছে।

এ অবস্থায় সরকারের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও পরিকল্পনা সঠিকভাবে বাস্তবায়নের তাগিদ দিচ্ছেন নগর পরিকল্পনা ও পরিবেশবিদরা।

বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস) বলছে, এক দশক আগের তুলনায় ঢাকা শহরে গাছপালা আচ্ছাদিত এলাকা ৩১ শতাংশ কমেছে। সেইসঙ্গে জলাশয় কমেছে ৪৭ শতাংশ, আর নির্মাণ এলাকা বেড়েছে ৫০ শতাংশ।

ক্যাপসের ‘ঢাকা শহরের ভূমি ব্যবহার ও ভূমি আচ্ছাদনের পরিবর্তন বিশ্লেষণ: ২০১৫–২০২৫’ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৫ সালে ঢাকা শহরে গাছপালা আচ্ছাদিত এলাকা ছিল ৩ হাজার ৭৮৪ দশমিক ১৯ হেক্টর, যা মোট আয়তনের ১২ দশমিক ৫২ শতাংশ।

২০২৫ সালে তা কমে ২ হাজার ৬০৮ দশমিক ৯৯ হেক্টরে নেমে এসেছে, যা মোট আয়তনের ৮ দশমিক ৬৩ শতাংশ।

মানচিত্র ও সংশ্লিষ্ট পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে ঢাকা শহরের ভূমি ব্যবহার ও ভূমি আচ্ছাদনের পরিবর্তন বিশ্লেষণ করে গত অগাস্টে ওই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বেসরকারি এ গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি।

ক্যাপসের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার বলেন, নির্মাণ এলাকা, জলাশয়, গাছপালা আচ্ছাদিত এলাকা, পতিত জমি এবং তৃণভূমি–এসবের মধ্যে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটেছে। বিশেষ করে নির্মাণ এলাকার দ্রুত সম্প্রসারণের বিপরীতে জলাশয়, গাছপালা আচ্ছাদিত এলাকা এবং পতিত জমির পরিমাণ কমে গেছে।

“জলাশয় ও গাছপালা আচ্ছাদিত এলাকা কমার ফলে জলাবদ্ধতা বৃদ্ধি, নগর তাপমাত্রা বৃদ্ধিসহ নানা ঝুঁকি বাড়বে। তাই ভবিষ্যৎ নগর পরিকল্পনায় অপরিকল্পিত নগর সম্প্রসারণ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বিদ্যমান জলাশয় ও গাছপালা আচ্ছাদিত এলাকা সংরক্ষণ, নতুন উন্মুক্ত ও সবুজ স্থান সৃষ্টি এবং পরিবেশবান্ধব ভূমি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের শিক্ষক সফি উল্লাহ ও শিক্ষার্থী ইসমত ইনানের একটি গবেষণা নিবন্ধ প্রকাশিত হয় ২০১৯ সালে। সেসময় সফি উল্লাহ ছিলেন সহযোগী অধ্যাপক, আর ইনান ছিলেন এমএসএস শিক্ষার্থী।

‘ল্যান্ড ইউজ অ্যান্ড ল্যান্ড কভার চেইঞ্জ ইন ঢাকা মেট্রোপলিটন এরিয়া ডিউরিং ১৯৯১-২০২২’ শিরোনামের সেই গবেষণা অনুযায়ী, ঢাকা মহানগরে ২০১৬ সালে গ্রিন কভারেজ বা গাছপালা আচ্ছাদিত এলাকা ছিল ৩ হাজার ৮০০ দশমিক ১৬ হেক্টর।

তার আগে ২০১১ সালে ৪ হাজার ৯০০ দশমিক ২৭ হেক্টর, ২০০১ সালে ছিল ৭ হাজার ২০০ হেক্টর। তারও এক দশক আগে ১৯৯১ সালে ছিল ৫ হাজার ৮০০ দশমিক ৬৪ হেক্টর।

ঢাকা মহানগরের ৩৯ হাজার হেক্টর এলাকা বিশ্লেষণ করে ‘গ্রিন কাভারেজ’ এলাকার চিত্র তুলে ধরেন তারা।

গবেষণা নিবন্ধটির প্রসঙ্গ টেনে বর্তমানে অধ্যাপক সফি উল্লাহ বলেন, “গাছে আচ্ছাদিত যে এলাকাগুলো এখনো আছে, সেগুলো ঢাকার পূর্ব অংশে, যেটা একটু নিচু এলাকা। ১৯৯১ সালে তো অনেক জায়গায় ওয়াটার বডি ছিল, গ্রিন ল্যান্ড ছিল। ওই জায়গাগুলো তো এখন হাউজিং, বিল্ডিং, সব কংক্রিট হয়ে গেছে।”

তিনি বলেন, “এখন যেটুকু সবুজ দেখা যায় সেটা রোড ডিভাইডারে গাছগাছালি, কিছু আছে আবাসিক এলাকাতে। সংরক্ষিত এলাকা থাকলেও তা সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা করা হয় না।

“সামনে ওপেনল্যান্ড, অ্যাগ্রিকালচার, বুশল্যান্ড (ঝোপঝাড় বা বুনো গাছপালায় ঘেরা অনাবাদী এলাকা) এগুলো থাকবে না। এটাও মারাত্মকভাবে কমে যাচ্ছে। বসিলার দিকে তাকালে একসময় ওয়াটার বডি ছিল, নীল ছিল। এখন পুরোটা বসতি হয়ে গেছে। নীল ও সবুজ এলাকা দরকার, এখন সবুজের জন্য নতুন গাছটা কোথায় লাগাবে? এজন্য গভীর পরিকল্পনা লাগবে, ফ্রেমওয়ার্ক লাগবে।”

এ অধ্যাপক বলেন, “পুরনো গাছ রক্ষার পাশাপাশি নতুন বৃক্ষরোপণের জন্য ‘ব্রিদিং স্পেস’ বের করতে হবে। জলাশয়, খাল, নদীর পাড় উদ্ধারে নজর দিতে হবে।”

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক এম শফিক-উর রহমানও মনে করেন, গাছ আচ্ছাদিত এলাকা বছর বছর কমে আসায় বিপদ ঘনাচ্ছে।

“স্বাধীনতার পর থেকেই প্রতি বছর সবুজের পরিমাণ ও জলাভূমির পরিমাণ কমেছে। প্রতি বছর আমাদের যেরকম মানুষ বাড়ছে, তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এগুলো কমছে। গেল ১০-১৫ বছরে আরও কমেছে।

“বনভূমি, যেমন গাজীপুর বন, গজারি বন এবং সুন্দরবনের পথ সেগুলোতেও কিন্তু পরিমাণ কমেছে। ঢাকা শহরে তো আরো অনেক বেশি কমেছে। কারণ অপরিকল্পিত নগরায়নে ভবন বেশি তৈরি হয়েছে।”

গাছ লাগানোর ক্ষেত্রে বড় শহরগুলোতে মনোযোগ দেওয়ার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, “ঢাকা, চট্টগ্রাম বা রাজশাহীর মত বড় শহরগুলোতে কংক্রিটের পরিমাণ বেশি, তাই নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ নিয়ে মার্কেটের পাশে, রাস্তার পাশে, সড়ক বিভাজকে, নদীর পাড়ে গাছ লাগাতে হবে।

“কংক্রিটের নগরীতে ইতোমধ্যে তাপমাত্রা বাড়ার প্রবণতা থাকায় অস্বস্তিকর গরমও বিরাজ করছে। সবুজ বাড়লে স্বস্তিও আসবে ধীরে ধীরে।”

যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সহায়তায় স্যাটেলাইট চিত্র ব্যবহার করে ২০০০-২০১৪ সাল পর্যন্ত দেশের বৃক্ষ আচ্ছাদন এলাকা পরিমাপ করে বন অধিদপ্তর। পরে একইভাবে ২০১৪ থেকে ২০২০ সালের গাছপালা আচ্ছাদিত এলাকার হ্রাস-বৃদ্ধি খুঁজে দেখা হয়।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন বলেন, সবশেষ জরিপ অনুযায়ী ২০২০ সালে দেশে গাছপালা আচ্ছাদিত এলাকা ছিল মোট আয়তনের ২৪ দশমিক ৪০ শতাংশ। আর ২০২৪ সালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের গাছ আচ্ছাদিত এলাকা কমে হয়েছে ১০ দশমিক ৫০ শতাংশ; ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১০ দশমিক ৮০ শতাংশ।

সবুজায়ন বাড়াতে সরকারের চলমান বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির কথা তুলে ধরে এ কর্মকর্তা বলেন, এ বছর প্রায় ৫ কোটি ১৫ লাখের মত গাছ লাগানোর লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। মধ্য ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫ অগাস্ট পর্যন্ত দেশে ২ কোটি ৮২ লাখের বেশি গাছ লাগানো হয়েছে। সে হিসাবে অগ্রগতি ৫৪ দশমিক ৪৬ শতাংশ।

পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগাতে গত ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খানকে প্রধান করে আট সদস্যের একটি সেল গঠন করা হয়। অগাস্টে প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু বিষয়ক বিশেষ সহকারীকে প্রধান করে ওই সেলকে সহায়তায় ১৪ সদস্যের পরামর্শক পুল গঠন করা হয়।

গত ২৮ অগাস্ট পরামর্শ পুলের সদস্য সচিব মেহেদী হাসান খান বলেন, “সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা করে গাছ লাগিয়েছি। কিছু কিছু কারিগরি বিষয় প্রক্রিয়াধীন আছে, মনিটরিংটা সার্থক করতে যেভাবে সরকার চাচ্ছে, সেভাবে করা সম্ভব হবে।”

রোপণ করা প্রতিটি গাছের জিপিএসভিত্তিক অবস্থান, প্রজাতি, রোপণের তারিখ, জিও-ট্যাগযুক্ত ছবি ও পরিচর্যার তথ্য ডিজিটালভাবে সংরক্ষণের জন্য ‘ট্রি মনিটরিং অ্যাপ’ তৈরির কাজ চলছে।

ঢাকাসহ সারাদেশে গাছ রোপণের ক্ষেত্রে তিনটা পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৬ প্রিয়দেশ