ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. আলমগীর হোসেন বলেন, রোগীর নিরাপত্তা একটি মৌলিক অধিকার এবং নিরাপদ, কার্যকর ও মানসম্মত ঔষধ নিশ্চিত করা ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। বাজারজাতকরণের পর ঔষধের নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ, বিরূপ প্রতিক্রিয়া দ্রুত শনাক্তকরণ এবং প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা গ্রহণে ফার্মাকোভিজিল্যান্স কার্যক্রমকে আরও জোরদার করা হবে বলেও জানান তিনি। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিশ্ব রোগী নিরাপত্তা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের (ডিজিডিএ) ফার্মাকোভিজিল্যান্স বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি। ‘সেফ কেয়ার ফর ননকমিউনিকেবল ডিজিজ” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বাংলাদেশে দিবসটি পালন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে সকালে র্যালি, আলোচনা সভা, ওপেন ডিসকাশন ও লাইভ কিউআর কুইজের আয়োজন করা হয়। তিনি বলেন, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, ক্যান্সার ও দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসতন্ত্রের রোগের মতো অসংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত রোগীদের দীর্ঘমেয়াদি এবং অনেক ক্ষেত্রে একাধিক ঔষধ সেবন করতে হয়। ফলে ঔষধের সঠিক ব্যবহার, সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও ঔষধের পারস্পরিক ক্রিয়া পর্যবেক্ষণ রোগী নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মহাপরিচালক চিকিৎসক, ফার্মাসিস্ট, নার্স, ঔষধ শিল্পের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং রোগীসহ সকল অংশীজনকে ঔষধের কোনো বিরূপ প্রতিক্রিয়া বা অপ্রত্যাশিত ঘটনা পরিলক্ষিত হলে তা দ্রুত রিপোর্ট করার আহ্বান জানান। তিনি নিরাপদ ঔষধ ব্যবহারের ক্ষেত্রে সঠিক রোগী, সঠিক ঔষধ, সঠিক ব্যবহার/প্রয়োগ, সঠিক মাত্রা ও সঠিক সময় নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠানে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক (ফার্মাকোভিজিল্যান্স) ড. মো: আকতার হোসেন বলেন , কোনো পার্শ্ব বা বিরূপ প্রতিক্রিয়া (এডিআর) পরিলক্ষিত হলে দ্রুত রিপোর্টিং, তথ্য বিশ্লেষণ ও ঝুঁকি মূল্যায়নের মাধ্যমে ঔষধজনিত সম্ভাব্য ঝুঁকি শনাক্ত করা এবং রোগীর নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে ফার্মাকোভিজিল্যান্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে ডাক্তার, নার্স, ফার্মাসিষ্ট, একাডেমিশিয়ান ও ঔষধ শিল্পের সাথে সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য প্রদান করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. মো. সেলিম রেজা, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক মো: শফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির কোষাধ্যক্ষ মো. মিজানুর রহমান। এ ছাড়াও ঢাকা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, নিপসম, জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট, সাহিক, আইসিডিডিআরবি ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দসহ সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, চিকিৎসক, ফার্মাসিস্ট, ঔষধ উৎপাদন ও আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের ফার্মাকোভিজিল্যান্স ফোকাল পার্সন, মডেল ফার্মেসির ফার্মাসিস্ট এবং গণমাধ্যমকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। আলোচনা সভায় নিরাপদ স্বাস্থ্যসেবা ও ঔষধের নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করতে সকল অংশীজনের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে এডিআর রিপোর্টিং বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশে রোগী নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।