সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, দেশি ও বিদেশি কোম্পানি গঠন, বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণ, অর্থপাচারসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে আসিফ মাহমুদসহ তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দেশ-বিদেশের ব্যাংক হিসাব ও সম্পদের তথ্য চেয়েছে দুদক। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সংস্থার প্রধান কার্যালয় থেকে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) পরিচালক বরাবর এ-সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়।
আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে যেসব দেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে, প্রয়োজনে সেখানে তথ্য চেয়ে চিঠি দেওয়া হবে বলে এর আগে গত ১৫ সেপ্টেম্বর জানান দুদক সচিব সাইদুর রহমান খান। তিনি আরও বলেন, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে অভিযোগ মনগড়া নয়।
বিএফআইইউতে দেওয়া চিঠিতে বলা হয়, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, দেশীয় কোম্পানি গঠন, বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণ, অর্থপাচারসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য একজন অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তার নেতৃত্বে অনুসন্ধান টিম গঠন করা হয়েছে।
বিএফআইইউর চিঠিতে, অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে আসিফ মাহমুদ এবং তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির বিভিন্ন আর্থিক ও সম্পদসংক্রান্ত তথ্য চাওয়া হয়েছে।
দুদকের চিঠিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের আওতাধীন বিভিন্ন ব্যাংক ও নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানে থাকা হিসাব, ক্রেডিট কার্ড ও ডেবিট কার্ড, নগদ, বন্ড, শেয়ার, সম্পদ, এফডিআর, ডিপিএস, ঋণ হিসাব এবং পরিশোধিত ঋণের তথ্য দিতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, দুবাই, সিঙ্গাপুর, সুইজারল্যান্ডসহ বিদেশে জমি ক্রয়, অর্থপাচার, শেল কোম্পানি গঠনসহ বিভিন্ন ধরনের লেনদেন ও সম্পদ অর্জনের তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র চাওয়া হয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, বিএফআইইউর সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে এসব তথ্য সংগ্রহ করে আসিফ মাহমুদ ও তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানগুলোর দেশ-বিদেশে বিনিয়োগ, ব্যাংক হিসাবসহ অন্যান্য আর্থিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
দুদকের একটি সূত্র জানায়, আসিফ মাহমুদ ও তার সংশ্লিষ্ট একজন ব্যক্তির তথ্য চাওয়া হয়েছে বিএফআইইউতে। ওই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আসিফ মাহমুদের ‘পরিবারের একজন’ বলে জানা গেছে।
এ জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর নামে থাকা ব্যাংক হিসাব ও বিনিয়োগসংক্রান্ত তথ্য, প্রয়োজনীয় রেকর্ডপত্র এবং অন্যান্য আর্থিক তথ্য দুদকের অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তার কাছে সরবরাহের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে গত ২ সেপ্টেম্বর আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। এছাড়া গত ১৩ সেপ্টেম্বর তার বিরুদ্ধে নিয়োগ, বদলি ও পদায়নে কোটি কোটি টাকা লেনদেন এবং বিদেশে টাকা পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করার কথা জানায় দুদক। নতুন অভিযোগটি চলমান অনুসন্ধানের সঙ্গে যুক্ত করে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।
অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে দুদক।