আন্তঃবিভাগ ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান ও ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই বিভাগের দুই খেলোয়াড় আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় স্টেডিয়ামে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, নির্ধারিত সময়ে ১-১ গোলে ড্র হওয়ায় খেলা টাইব্রেকারে গড়ায়। এতে ইতিহাস বিভাগ ৩-১ গোলে জয়লাভ করে। ম্যাচ শেষে ইতিহাস বিভাগের খেলোয়াড়দের উদযাপনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের খেলোয়াড়দের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা এবং পরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ইতিহাস বিভাগের খেলোয়াড় জীম ও চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান বিভাগের তানভীর আহত হন।
ইতিহাস বিভাগের খেলোয়াড় সানাউল্লাহ রাফসান বলেন, ম্যাচের শুরু থেকেই চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান বিভাগের খেলোয়াড়রা আক্রমণাত্মক আচরণ এবং অকথ্য ভাষায় গালাগালি করছিলেন। আমরা সেটাকে ম্যাচেরই একটি অংশ হিসেবে ধরে নিয়েছিলাম। ম্যাচ জেতার পর আমরা যখন উদযাপন করছিলাম, তখন তারা সেটা মেনে নিতে পারেনি। চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান বিভাগের খেলোয়াড় হৃদয় আমাদের এক খেলোয়াড়কে বুট দিয়ে আক্রমণ করে। এতে তার মাথা ফেটে যায়। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান বিভাগের খেলোয়াড় তানভীর জামান বলেন, ইতিহাস বিভাগ ম্যাচ জিতেছে, আমরা তাদের অভিনন্দন জানাচ্ছি। কিন্তু ম্যাচ জেতার পরই ইতিহাস বিভাগের গ্যালারি থেকে আমাদের গোলকিপারের ওপর ইট নিক্ষেপ করা হয়। ইটটি গোলকিপার ইতিহাস বিভাগের অধিনায়ককে দেখাতে গেলে তারা দাবি করে, আমাদের খেলোয়াড় নাকি ইট নিয়ে তাদের মারতে গেছে। তখন তাদের সব খেলোয়াড় মিলে গোলকিপারের ওপর আক্রমণ করে। পরে আমরা ছুটে গেলে সেখানে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। তাদের বিভাগের শিক্ষার্থীরাও গ্যালারি ভেঙে দর্শকদের ওপর তেড়ে আসে। আমরা চাই, এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে বিচার করা হোক।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর গিয়াস উদ্দীন আহমেদ বলেন, খেলা শেষে মারামারির কথা শুনে দ্রুত স্টেডিয়ামে চলে আসি। খুব দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছি। স্টেডিয়াম এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। যারা মারামারিতে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।