বিলের ওপর বক্তব্য দিয়ে সংসদে 'গালাগালির' শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে নির্বাচিত স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ অভিযোগ করেন।
ব্যাংক রেজল্যুশন বিল নিয়ে গতকাল বক্তব্য দেওয়ার সময় রুমিন ফারহানা বিএনপি সরকারের আমলের গ্যাস-বিদ্যুৎ-সার সংকট ও দুর্নীতি নিয়ে কথা বললে, এর তীব্র বিরোধিতা করেন বিএনপির সংসদ সদস্যরা।
আজ বক্তব্য দেওয়ার সময় ওই প্রসঙ্গ তুলে রুমিন ফারহানা বলেন, 'বিলের ব্যাপারে কথা বলতে গিয়ে গতকাল আমি যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছি, তাতে এই সংসদে ভিন্নমত উপস্থাপন (ডিসেন্ট ভয়েস রেইজ) করা যায় বলে আমার মনে হয়নি।'
'আমি কথা বলার পর সংসদে যে ধরনের আচরণ লক্ষ্য করেছি, সেটা কোনো গণতান্ত্রিক দেশের সংসদে হয় না। আমার কথার যদি কোনো কাউন্টার দেওয়ার থাকতো, সেটা দাঁড়িয়ে বলা যেত। আমি বক্তব্য শেষ করবার পর বক্তব্য দেওয়া যেত,' বলেন তিনি।
এই স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য বলেন, 'শুধু তাই নয় এই মহান সংসদে সংসদ সদস্যরা অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেছেন। এটা কোনো সংসদীয় রীতিনীতির মধ্যে পড়ে না।'
তখন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, 'আপনি আমি সংসদে বাকস্বাধীনতার পক্ষে। আমি কামনা করি এবং আশা করব প্রত্যেক সদস্য তিনি ট্রেজারি বেঞ্চের হোক কিংবা বিরোধী দলের হোক, বক্তব্যের সময় অন্য পক্ষ থেকে বা প্রতিপক্ষ থেকে কোনো ধরনের বাধা দেওয়া হবে না।'
তিনি আরও বলেন, 'গতকাল যা হওয়ার হয়ে গেছে, আমরা ভবিষ্যতের দিকে তাকাতে চাই…ইতোমধ্যে আপনি আপনার অনুভূতি প্রকাশ করেছেন।'
এরপর তিনি রুমিন ফারহানাকে এপিবিএন বিল নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানান।
বিল নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার শুরুতে আবারও রুমিন ফারহানা বলেন, 'সংসদে সরকারি দল থাকবে, বিরোধী দল থাকবে, স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরাও থাকবেন। একেকজনের একেক রকম মত থাকতে পারে। সেটা প্রকাশ করবার স্বাধীনতা প্রত্যেকের থাকা উচিত।'
'এর আগে আওয়ামী লীগের আমলে যখন কথা বলেছিলাম, তখনো আমাকে এমন জঘন্য পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল। এরপর কয়েক হাজার মানুষের প্রাণের বিনিময়ে আমরা ভোটের মাধ্যমে সংসদ আনলাম। সেখানে যদি ন্যূনতম কোনো পরিবর্তন না হয়, তাহলে এই সংসদে বিরোধী দল সেজে শুধু "না" ভোট দেওয়ার জন্য থাকার দরকার আছে বলে মনে করি না,' বলেন তিনি।