বিশ্ব মুসলিমের হৃদয়ের স্পন্দন মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারাম। সারা বছরই এখানে লাখো ধর্মপ্রাণ মুসলমানের সমাগম ঘটে, বিশেষ করে হজ ও রমজানের মৌসুমি মুসল্লিদের উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি হয়। এমন বিশাল জনসমাগম নিরাপদ ও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। আর সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় মসজিদুল হারাম গ্রহণ করেছে অত্যাধুনিক স্মার্ট প্রযুক্তি।
মসজিদের প্রতিটি প্রবেশদ্বার, প্রস্থানপথ ও করিডরে স্থাপন করা হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসংবলিত সেন্সরভিত্তিক গণনাব্যবস্থা। এই সেন্সরগুলো রিয়াল-টাইমে হাজিদের চলাচল পর্যবেক্ষণ করে এবং নির্ভুলভাবে মানুষের প্রবাহ গণনা করে। ফলে কোথায় কত মানুষ প্রবেশ করছে, কোথায় ভিড় বাড়ছে— সব তথ্য মুহূর্তেই নিয়ন্ত্রণকক্ষে পৌঁছে যায়।
ফলে নিয়ন্ত্রণকক্ষের দায়িত্বশীলরা সে তথ্য বিশ্লেষণ করে মাঠ পর্যায়ের সমন্বয় টিমকে দ্রুত ও কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে নির্দেশনা দিতে পারে।
কোনো এলাকায় ভিড়ের ঘনত্ব বেড়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে বিকল্প পথ খুলে দেওয়া হয়, প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা বা নিরাপত্তা টিম মোতায়েন করা সম্ভব হয়। এতে সংকট তৈরি হওয়ার আগেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সহজ হয়ে যায়।
এই প্রযুক্তির মাধ্যমে মসজিদের বিশাল প্রাঙ্গণ ও পথঘাটে মানুষের চলাচল ও অবস্থান ভারসাম্যপূর্ণভাবে বণ্টন করে দেওয়া হয়। ফলে হাজিরা স্বাচ্ছন্দ্যে ইবাদত করতে পারেন, অপ্রয়োজনীয় ভিড় ও বিশৃঙ্খলা এড়ানো সহজ হয়।
সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো সম্ভাব্য ভিড়ের স্থানগুলো আগেভাগেই শনাক্ত করা যায়। কোনো এলাকায় মানুষের জমায়েত অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে শুরু করলে সিস্টেম তা শনাক্ত করে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করে। এতে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আগেই ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়। এই ব্যবস্থাপনা শুধু যান্ত্রিক নয়, এটি প্রযুক্তিগত নজরদারি ও মাঠ পর্যায়ের প্রস্তুতির সমন্বিত প্রয়াস। নিয়ন্ত্রণকক্ষের তথ্য ও ময়দানের কর্মীদের তৎপরতা একসঙ্গে কাজ করে হাজিদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করছে।
সূত্র : দি ইসলামিক ইনফরমেশন ডটকম