গাড়ির টায়ার, ভারি যন্ত্রপাতি, ফার্নিচার কিংবা খাবার দোকান; বৈধ সীমানা ছাড়িয়ে ফুটপাত দখল করে চলছে বেশির ভাগ ব্যবসা। এতে বছরের পর বছর ধরে হাঁটার পথটুকুও পাচ্ছেন না রাজধানীবাসী। এবার পরিস্থিতি বদলাতে আজ বুধবার থেকে বৈধ সীমানার বাইরে ফুটপাত দখলকারী সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযানে নামছে পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির ডিসি মিডিয়া তালেবুর রহমান। তিনি জানান, গত ২৩ মার্চ ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার স্বাক্ষরিত এক গণ-বিজ্ঞপ্তিতে অনতিবিলম্বে অপসারণের নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। সেই নির্দেশ মোতাবেক অভিযান শুরু হবে।
নির্বিকার ব্যবসায়ীরা : চারদিকে সারি সারি টায়ার আর যন্ত্রাংশ। এ যেন গ্যারেজের অন্দরমহল। চেনারই উপায় নেই হাঁটার পথ। ফুটপাত দখল করে এভাবেই চলছে ব্যবসা। রাজধানীর ধোলাইখালের ফুটপাত পুরোপুরি এভাবেই দখলের কারণে পথচারীদের ভোগান্তি তৈরি হলেও নির্বিকার ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, এটা নতুন কিছু নয়, বহু বছর ধরেই চলছে। যদি পণ্যটা বাইরে না রাখা হয়; তাহলে অন্য দোকান কাস্টমার নিয়ে নেবে। কাস্টমার গোডাউনে কম যায়, তাই পণ্য বাইরে রাখতে হয়।
পথচারীদের ভোগান্তি : শুধু ধোলাইখালই নয়, নগরীর অন্যান্য এলাকায়ও একই চিত্র। দোকানের সামনে ফুটপাত জুড়ে রাখা হচ্ছে ফার্নিচার, খাবার ও মুদিপণ্যের মালামাল। এতে চলাচলে পথচারীরা প্রতিদিনই ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। পথচারীরা বলেন, বেশির ভাগ মুদি দোকানের সামনে আইসক্রিমের ফ্রিজ রেখে দেয়, রাস্তা দিয়ে হাঁটা যায় না। ফুটপাতের জায়গা না থাকায় বাধ্য হয়ে রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হয়। বিগত দিনে অনেকেই বলেছে ফুটপাত দখলমুক্ত করা হবে, কিন্তু বাস্তবে কিছুই হয়নি।
অভিযান প্রস্তুতি : ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান জানিয়েছেন, বৈধ সীমানার বাইরে ফুটপাত দখল করে রাখা সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে। যেসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তাদের বৈধ জায়গার বাইরে অতিরিক্ত আকারে ফুটপাত দখল করে ব্যবহার করছে, আমরা এবার তা দখলমুক্ত করবো। এছাড়া, হকারদের জন্য নির্ধারিত এলাকায় শিগগিরই হলিডে ও নাইট মার্কেট চালুর প্রস্তুতিও চলছে।
ডিএমপি কমিশনারের বিজ্ঞপ্তি : গত ২৩ মার্চ ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার স্বাক্ষরিত এক গণ- বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো নিজস্ব সীমানার বাইরে ফুটপাত ও সড়কের অংশ দখল করে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর ফলে পথচারীদের চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে তাদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ছে। রেস্টুরেন্টের রান্নার সরঞ্জাম, গ্রিল ও কাবাব মেশিন, মোটর ওয়ার্কশপের টায়ার ও যন্ত্রপাতি, ওয়েল্ডিং সামগ্রী, পোশাক ও আসবাবপত্রের দোকানের প্রদর্শনী সামগ্রীসহ বিভিন্ন মালামাল ফুটপাত ও রাস্তায় রাখা হচ্ছে। এমনকি অনেক মোটরগাড়ির ওয়ার্কশপ রাস্তার এক লেন দখল করে মেরামতের কাজ পরিচালনা করছে।
এসব অবৈধ দখলের কারণে পথচারীরা বাধ্য হয়ে সড়কে চলাচল করছে, যা যানজট বৃদ্ধির পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে সব ব্যবসায়ীকে দ্রুত ফুটপাত ও রাস্তা থেকে তাদের মালামাল সরিয়ে নেয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। নির্দেশনা অমান্য করলে স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্টেট ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড ও মালামাল জব্দসহ কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।