1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৫৬ পূর্বাহ্ন

বিশ্বকাপে ইতালিয়ান ট্র্যাজেডির ‘হ্যাটট্রিক’

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৯ Time View

বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা ৪-১ ইতালি (টাইব্রেকার)

বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা ১-১ ইতালি (অতিরিক্ত সময়)

জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা তখন নিশ্চল-পাথর। মাথায় হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে। একটু দূরে গ্যালারির দর্শকদের সঙ্গে উৎসবে মেতেছেন এসিমির বাজরাকতারভিচ। কয়েক মুহূর্ত আগে টাইব্রেকারে তাঁর গোলেই লেখা হয়েছে বিশ্বকাপে ইতালিয়ান ট্র্যাজেডির ‘তৃতীয় কিস্তি’।

জেনারো গাত্তুসোর চোয়াল শক্ত। ক্যারিয়ারজুড়ে লৌহকঠিন ফুটবল খেলার মতোই ভেতরের আবেগ বুঝতে দিলেন না ইতালি কোচ। শিষ্যদের সান্ত্বনা দিচ্ছিলেন। কিন্তু সবাই গাত্তুসো নন। কেউ কেউ আলেসান্দ্রো বাস্তোনিও হন। ইতালি সেন্টার ব্যাক নিজেকে কী বলে সান্ত্বনা দেবেন! ১-০ গোলে এগিয়ে থাকতে প্রায় নিশ্চিত গোল বাঁচাতে ফাউল করে দেখেছেন লাল কার্ড। ধারাভাষ্যকার তখন বলছিলেন, এটাই কি শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ‘টার্নিং পয়েন্ট হয়ে দাঁড়াবে?’

বাস্তোনি বের হয়ে আসার পর একজন বেশি নিয়ে বসনিয়া তারপর দিয়েছে মরণকামড়। দুই প্রান্ত থেকে একের পর এক ক্রস ফেলেছে ইতালির বক্সে। ৭৯ মিনিটে বসনিয়ার হয়ে হারিস তাবাকোভিচের সমতাসূচক গোলটি তো তারই ফল। কে জানে, বাস্তোনি থাকলে হয়তো ১২ বছরের বিশ্বকাপ-বিরহ ইতালি কাটাতে পারত!

কিন্তু ৪১ মিনিটে আমর মেমিচকে বাস্তোনি ট্যাকল করে না থামালে সমতাসূচক গোলটি বসনিয়া তখনই হয়তো পেয়ে যেত। বাস্তোনির কাছে অন্তত এতটুকু সান্ত্বনা তবু আছে। পিও এসপোসিতো ও ব্রায়ান ক্রিস্তান্তের তাও নেই। টাইব্রেকারে তাঁরা লক্ষ্যভেদ করতে পারেননি। এসপোসিতো মারেন পোস্টের ওপর দিয়ে। ক্রিস্তান্তের শট ক্রসবারে লেগে ফেরে। ইতালি তবু দোন্নারুম্মায় ভরসা রেখেছিল।

ক্যারিয়ারে পেনাল্টি শুটআউটে তাঁর হার মাত্র একটি, ম্যাচেও ছয়-সাতটি দারুণ সেভ করেছেন দোন্নারুম্মা। কিন্তু ইতালির ফেরার আশায় তিন কাঠির নিচে শেষ ‘ভরসা’ হিসেবে দাঁড়ানো দোন্নারুম্মাও পারলেন না। বসনিয়ার চারটি লক্ষ্যভেদ যেন ইতালিয়ান ট্র্যাজেডির শেষ পরিচ্ছেদ।

জেনিকার বিলিনো পোলজে স্টেডিয়ামে প্লে অফের এই ফাইনালে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত স্কোরলাইন ছিল ১-১। অতিরিক্ত সময়েও তাই। টাইব্রেকারে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার ৪-১ গোলের এই জয়ে বলকান অঞ্চলের দেশটির শুধু বিশ্বকাপে খেলাই নিশ্চিত হয়নি, ইতালিকেও মেনে নিতে হয়েছে এক নিদারুণ বাস্তবতা। বিশ্বকাপে সাবেক চ্যাম্পিয়নদের মধ্যে ইতালিই একমাত্র দেশ, যাঁরা টানা তিনবার এই আসরে খেলার যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ হলো। বাস্তোনি, এসপোসিতো ও ক্রিস্তান্তেদের দুঃখটা তাই আসলে অমোচনীয়। তাঁরা জানেন, রোমে অনেকেরই এখন বিশ্বাস করতে কষ্ট হয় ইতালি চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন!

এমন নয় যে ইতালি বাজে খেলেছে। ১৫ মিনিটে বসনিয়ার গোলকিপার নিকোলা ভাসিল চাপ সইতে না পেরে ভুল জায়গায় পাস দেন। নিকোলা বারেল্লা সেটা ধরে সামনে ফাঁকা জায়গায় ময়েজ কিনকে পাস দিতেই ঠান্ডা মাথায় ফিনিশ করেন ইতালিয়ান স্ট্রাইকার। ইতালির হয়ে টানা ছয় ম্যাচে গোল করলেন কিন। বাস্তোনি লাল কার্ড দেখার পর ৭৯ মিনিটে হজম করা গোলটিতে ভাগ্য সহায় হয়নি ইতালির। জটলার মধ্যে দোন্নারুম্মা গোললাইন থেকে সেভ করলেও ফিরতি বলে পয়েন্ট ব্লাঙ্ক রেঞ্জ শটে গোল করেন তাবাকোভিচ। এই গোল আসলে হওয়ারই কথা ছিল। ১০ জন নিয়ে কতক্ষণ একের পর এক ক্রস ঠেকানো যায়! বসনিয়া কখন, কেমন খেলেছে সেটি একটি পরিসংখ্যানেই পরিস্কার। এডেন জেকোরা শট নিয়েছেন মোট ৩০টি, এর মধ্যে ১১টি পোস্টে, বাস্তোনি লাল কার্ড দেখার আগে যেটা মাত্র ২টি।

২০১৭ সালে সুইডেনের বিপক্ষে প্লে অফে হেরে পরের বছর বিশ্বকাপ খেলা হয়নি ইতালির। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে খেলতে পারেনি উত্তর মেসিডোনিয়ার বিপক্ষে হারে। এবার ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে ৭১ তম বসনিয়ার কাছে হেরে বিশ্বকাপে ফেরা হলো না ‘আজ্জুরি’দের। অপেক্ষা করতে হবে ২০৩০ সাল পর্যন্ত। তবে বিশ্বকাপে এবারও ইতালির নীল উৎসব না থাকলেও নীল রংটা কিন্তু থাকছে। ঘরের মাঠে নীল জার্সি পরে নামা বসনিয়া বিশ্বকাপে ফিরল ১২ বছর পর। ইতালির মতোই ২০১৪ আসরে সর্বশেষ খেলে তাঁরা। সেটা তাঁদের অভিষেক বিশ্বকাপ। অর্থাৎ বসনিয়া দীর্ঘ এক যুগের অপেক্ষা ঘোচাতে পারল, কিন্তু ইতালি পারল না!

গাত্তুসো এসব ভেবেই সম্ভবত শেষ পর্যন্ত হয়তো আর চোখের পানি আটকাতে পারেননি। ভেজা চোখে ইতালি কোচ বলেন, ‘এটা কষ্টের। কারণ এটা (বিশ্বকাপে ওঠা) আমাদের নিজেদের জন্য, গোটা ইতালির জন্য প্রয়োজন ছিল। এই ধাক্কা হজম করা সত্যিই কঠিন।’

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৫ প্রিয়দেশ