1. editor@priyodesh.com : editor : Mohammad Moniruzzaman Khan
  2. monirktc@yahoo.com : স্টাফ রিপোর্টার :
  3. priyodesh@priyodesh.com : priyodesh :
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৩ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
ফ্যাশন ও লাইফস্টাইল খাতে নতুন সম্ভাবনা, কৌশলগত অংশীদারত্বে হাল ফ্যাশন ও এনেক্স ঢাকাকে বাসযোগ্য করতে অভিযানে নামছে ২০ টিম : স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বিমান চলাচলে নতুন সম্ভাবনার পাশাপাশি বাড়ছে নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ: বিমান বাহিনী প্রধান আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞাকে ডিঙিয়ে যেভাবে মিয়ানমারে যায় ইরানের জেট ফুয়েল ‘প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী নগরী’ গড়তে জাপানের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী দোহায় বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরল ইনভেস্ট বাংলাদেশ ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সচিব কামাল হায়দার ওএসডি টেস্ট চ‍্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে চোখ রেখে সেরাটা দিতে প্রস্তুত বাংলাদেশ সোনালী‌তে শওকত পুনর্বহাল, জনতা-অগ্রণী ও বেসিকে নতুন এমডি নিয়োগ নানা আয়োজনে বিএমপির ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপিত

আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞাকে ডিঙিয়ে যেভাবে মিয়ানমারে যায় ইরানের জেট ফুয়েল

Reporter Name
  • Update Time : সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১১ Time View

মার্কিন সরকারের কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও আন্তর্জাতিক মহলের কড়া নজরদারিকে সম্পূর্ণ ফাঁকি দিয়ে সামরিক জান্তা নিয়ন্ত্রিত মিয়ানমার কীভাবে ইরান থেকে বিমানে ব্যবহৃত জ্বালানি (জেট ফুয়েল) আমদানি করে চলেছে, তার এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এনেছে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স। প্রাপ্ত নথিপত্র, ভূ-উপগ্রহ চিত্র এবং আন্তর্জাতিক শিপিং তথ্যের নিবিড় বিশ্লেষণের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এক জটিল আন্তর্জাতিক জালিয়াতির চিত্র। সাউথ আফ্রিকার ডিজেল আমদানির ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে কোটি কোটি ডলারের ইরানি বিমান জ্বালানি সংগ্রহ করেছে মিয়ানমার, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল দেশটির অভ্যন্তরে অব্যাহত বিমান হামলা চালিয়ে বিদ্রোহী দমন ও সাধারণ বেসামরিক নাগরিকদের ওপর দমন-পীড়ন বজায় রাখা।

প্রতিবেদনে প্রাপ্ত নথির বরাতে জানা যায়, বিগত ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা ‘রিফ’ নামক একটি বিশাল তেলবাহী জাহাজ প্রায় এক লাখ ১৩ হাজার ব্যারেল জ্বালানি নিয়ে মিয়ানমারের জলসীমায় নোঙর করে। জাহাজটির পেছনে কাগজপত্রের যে আইনি বুনিয়াদ দাঁড় করানো হয়েছিল, তা ছিল সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও সাজানো। মিয়ানমারভিত্তিক জ্বালানি খাতের মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান ‘ডায়নামিক ওয়েভ’ থাইল্যান্ডের ‘তাওয়ান-ওয়েল ট্রেডিং’-এর সাথে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে, যেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে দেখানো হয় যে মায়ানমার সাউথ আফ্রিকা থেকে প্রায় ১৫.৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের ডিজেল আমদানি করছে। কিন্তু পরবর্তীতে জাতিসংঘ এবং বিশ্বখ্যাত শিপিং ডেটা সংস্থা ‘ভোর্টেক্সা’-র তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সে সময় সাউথ আফ্রিকা ও মিয়ানমার; এই দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি তেল সংক্রান্ত এমন কোনো বৈধ বাণিজ্য সম্পাদনের সুনির্দিষ্ট রেকর্ডই ছিল না। বাস্তবে ‘সিনম্যাক্স ইন্টেলিজেন্স’-এর স্যাটেলাইট ট্র্যাকিং এবং বিশ্লেষণ নিশ্চিত করেছে যে, ‘রিফ’ নামক সেই ট্যাঙ্কারটি প্রকৃতপক্ষে ইরানের ‘বন্দর আব্বাস’ বন্দর থেকে রওয়ানা হয়ে বঙ্গোপসাগর পেরিয়ে মায়ানমারে প্রবেশ করেছিল এবং তাতে ডিজেল নয়, বরং বিমানের জ্বালানি পরিবাহিত হচ্ছিল।

আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে সৃষ্ট তীব্র সংকট কাটাতে মিয়ানমারের সামরিক জান্তা সরকার নিজ থেকেই এই জালিয়াতির পুরো প্রক্রিয়ায় সরাসরি মধ্যস্থতা ও সহযোগিতা করেছে। জাহাজটি বন্দরে পৌঁছানোর ঠিক কয়েক দিন আগে, ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর মিয়ানমারের বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত একটি অত্যন্ত গোপনীয় সরকারি চিঠি ইস্যু করা হয়। জান্তা পরিচালিত সার্ভার থেকে ফাঁস হওয়া এবং পরবর্তীতে ‘জাস্টিস ফর মায়ানমার’ নামক একটি মানবাধিকার সংগঠনের হাতে আসা সেই চিঠিতে দেখা যায়, দেশটির নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিল যে আগত এই জ্বালানির চালানের নথিপত্রে ‘জেট ফুয়েল’-এর পরিবর্তে ‘ডিজেল’ হিসেবে মিথ্যা পরিচয় লিপিবদ্ধ করতে হবে। এর পাশাপাশি, থাইল্যান্ডের সংস্থাটির পাওনা পরিশোধের সুবিধার্থে মায়ানমারভিত্তিক জাতীয় শক্তি সংক্রান্ত যৌথ সংস্থাকে অর্থ ছাড়ের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যাংক অনুমোদনও দেয় সেই নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

এই পুরো অনৈতিক বাণিজ্য কাঠামোর পেছনে একটি নির্দিষ্ট ব্যাংকিং চ্যানেল এবং সমন্বিত কৌশল কাজ করেছে। বিক্রয় চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ডায়নামিক ওয়েভকে তাদের জ্বালানি আমদানির সমস্ত অর্থ জমা দিতে বলা হয়েছিল থাইল্যান্ডের প্রাচীনতম ব্যাংক ‘সিয়াম কমার্শিয়াল ব্যাংক’ বা এসসিবি-তে থাকা তাওয়ান-ওয়েল ট্রেডিংয়ের একটি বিশেষ অ্যাকাউন্টে। অতীতেও আন্তর্জাতিক তদারকি সংস্থা ও জাতিসংঘের প্রতিবেদনে তাইওয়ান এবং এসসিবি ব্যাংকের নাম উঠে এসেছিল মায়ানমার সামরিক বাহিনীকে অস্ত্র ও কৌশলগত সামগ্রী সরবরাহের আর্থিক মাধ্যম হিসেবে। যদিও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ অতীতে দাবি করেছিল যে তারা সমস্ত আন্তর্জাতিক মানি লন্ডারিং বিরোধী আইন মেনে চলে, তবে এই সুনির্দিষ্ট চালানের বিষয়ে পুনরায় প্রশ্ন করা হলে কোনো পক্ষই ইতিবাচক কোনো জবাব দেয়নি।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের ঘটনাটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না বরং এটি একটি ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত সুপরিকল্পিত ব্যবস্থার অংশ। এর আগে ২০২৫ সালের মে মাসেও প্রায় ২০২,০০০ ব্যারেল জ্বালানি আমদানির জন্য একই রকম আরেকটি কৃত্রিম চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছিল, যেখানে মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল প্রায় ২৬ মিলিয়ন ডলার। রয়টার্সের হাতে আসা সেই চুক্তির প্রদেয় চালানে চোখ রাখলে জ্বালানির রাসায়নিক ঘনত্বের যে সূচক দেখা যায়, তা সাধারণ ডিজেলের সাথে কোনোভাবেই মেলে না, বরং সেটি বাণিজ্যিক ও সামরিক বিমানে ব্যবহৃত জ্বালানির বৈশিষ্ট্যের সাথে হুবহু মিলে যায়। অধিকন্তু, বিশ্ববাজারে তৎকালীন ডিজেলের যে বেঞ্চমার্ক মূল্য ছিল, ইনভয়েসে উল্লিখিত দাম তার চেয়ে প্রায় ৫০ শতাংশের বেশি রাখা হয়েছিল।

আন্তর্জাতিক ডেটা পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করে যে, ‘নোবেল’ নামের আরেকটি ট্যাঙ্কার জাহাজ প্রায় একই পদ্ধতিতে তেহরানের বন্দর থেকে জ্বালানি বোঝাই করে মায়ানমারের দিকে রওয়ানা দেওয়ার সময় নিজেদের সিগন্যালে গন্তব্য হিসেবে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বন্দরকে ভুয়া অবস্থান হিসেবে উপস্থাপন করেছিল, অথচ শেষ পর্যন্ত সেটি ইয়াঙ্গুন বন্দরেই ভিড়েছিল।

২০২১ সালে অং সান সু চির গণতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাত করে মায়ানমারের সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখলের পর থেকেই দেশটি এক ভয়াবহ গৃহযুদ্ধের মুখোমুখি হয়। গত কয়েক বছরে সামরিক জান্তা তাদের শাসন টিকিয়ে রাখতে বিদ্রোহীদের দমনের অজুহাতে দেশের সাধারণ জনগণের ওপর নির্বিচারে শত শত বিমান হামলা চালিয়েছে, যার ফলে হাজার হাজার বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন।

জাতিসংঘের তথ্য মতে, এই বিমান হামলায় ব্যবহৃত যুদ্ধবিমানগুলোর সচল থাকার মূল ভিত্তিই ছিল তেহরান থেকে গোপনে আসা এই বিমান জ্বালানি। সাম্প্রতিক এই তথ্য প্রমাণ করে যে, ওয়াশিংটন জান্তা সরকারের বিমানের জ্বালানি খাতের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা এবং তেহরানের ওপর সর্বাত্মক অর্থনৈতিক বাধা থাকা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার ফাঁকফোকর ও ছদ্মবেশী বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে ইরানি তেল মিয়ানমারে পৌঁছানো বন্ধ করা সম্ভব হয়নি।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© ২০২৬ প্রিয়দেশ