প্রথমবারের মতো ফাইনালে খেলার সম্ভাবনা বাঁচিয়ে রাখতে ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই ম্যাচে জয় ছাড়া আর কিছু ভাবছেন না বাংলাদেশ কোচ ফিল সিমন্স।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টের আগে প্রস্তুতি সারছে বাংলাদেশ দল। ছবি: বিসিবি
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস
আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলে দুই দলের অবস্থান পুরোপুরি বিপরীত। বাংলাদেশ দলের সামনে প্রথমবারের মতো ফাইনাল খেলার হাতছানি। অন্যদিকে শেষ সিরিজটিতে ভালো করে আগের চেয়ে ভালো অবস্থানে শেষ করার লক্ষ্য ওয়েস্ট ইন্ডিজের। দুই দলের কোচই তাই মনে করেন, সামনের সিরিজটি হতে পারে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ।
টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে এখন পর্যন্ত তিন সিরিজের ছয় ম্যাচের মধ্যে তিনটি জিতেছে বাংলাদেশ আর ড্র করেছে একটি টেস্ট। সব মিলিয়ে ৫৫.৫৬ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে আপাতত টেবিলের চার নম্বরে রয়েছে বাংলাদেশ। তাদের সামনে বাকি আছে আর ছয়টি টেস্ট।
প্রথমবারের মতো ফাইনাল খেলার জন্য ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চারটি টেস্টই জিততে হবে বাংলাদেশের। আর মাঝে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে গিয়ে ড্র করতে হবে অন্তত একটি টেস্ট। এর সঙ্গে বাকি সিরিজগুলোর ফল পক্ষে এলেই অবিস্মরণীয় সাফল্য সঙ্গী হবে নাজমুল হোসেন শান্তর দলের।
সেই অভিযানের শুরুটা ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে সিরিজ দিয়ে। মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বুধবার শুরু হবে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্ট। এর আগে সোমবারের সংবাদ সম্মেলনে নিজেদের সম্ভাব্য সুযোগ কাজে লাগানোয় জোর দিলেন দলের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স।
“আমার মনে হয়, সবাই টেস্ট ম্যাচের দিকেই পুরোপুরি মনোযোগী। আবু ধাবিতেও আমার মনে হয়েছিল, সবাই ম্যাচটা ও সামনে যা আছে, সেদিকেই মনোযোগী ছিল।
“বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে (ফাইনালে) খেলার একটা লক্ষ্য ও আকাঙ্ক্ষা সবার মধ্যে রয়েছে। এবারই প্রথম আমাদের সেখানে পৌঁছানোর সুযোগ এসেছে। তাই আমার বিশ্বাস, টেস্ট ম্যাচগুলোতে সবাই নিজেদের সেরাটা দিতে প্রস্তুত থাকবে।”
টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের এবারের চক্রে এখন পর্যন্ত পাকিস্তানের বিপক্ষে দুটি ও অস্ট্রেলিয়ার মাঠে গিয়ে ঐতিহাসিক জয়ের স্বাদ পেয়েছে বাংলাদেশ। এছাড়া শ্রীলঙ্কার সঙ্গে ড্র করেছে একটি ম্যাচ। সেগুলোর ধারাবাহিকতা ধরে রেখেই এবার নিজেদের প্রস্তুত রাখার কথা বললেন সিমন্স।
“প্রতিটি সিরিজই গুরুত্বপূর্ণ। এই দুই বছরের চক্রের শুরুতে আমরা যে সিরিজগুলো খেলেছি, সেগুলোও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কিন্তু আসল বিষয় হলো, আমরা কীভাবে নিজেদের কাজটা করি এবং সিরিজের জন্য কীভাবে প্রস্তুতি নিই।
“আমার মনে হয়, গত তিন-চার দিনে এখানে যে দলটা ছিল, তারা দারুণ কাজ করেছে। তারা নিজেদের প্রস্তুতি চালিয়ে গেছে। এখন পুরো দল একসঙ্গে যোগ দিচ্ছে। আগামী দুই দিনে আমরা কী করি, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। বাইরে কী ঘটছে, সেটা নয়; বরং একটা দল হিসেবে আমরা কীভাবে নিজেদের প্রস্তুত করি, সেটাই আসল।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য প্রাপ্তির হিসেবটা অত বড় নয়। ফাইনালে ওঠার দৌড় থেকে আগেই ছিটকে গেছে তারা। তাদের সামনে এখন নিজের অবস্থান উন্নতির সুযোগ। বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ দিয়েই শেষ হবে ক্যারিবিয়ানদের এবারের চক্র।
এখন পর্যন্ত পাঁচ সিরিজে ১২টি ম্যাচ খেলে স্রেফ দুটি টেস্ট জিতেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ফলে ২০.৮৩ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে ৯ দলের টেবিলে তাদের অবস্থান অষ্টম। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের আগের তিন চক্রেও আট নম্বরে থেকেই শেষ করেছে তারা।
শেষ সিরিজটি জিতলে প্রথমবারের মতো আটের ওপরে ওঠার সুযোগ থাকবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের। সেটিই কাজে লাগাতে চান দলের প্রধান কোচ ড্যারেন স্যামি।
“সামনের দুটি টেস্ট আমাদের জন্য দারুণ সুযোগ। ২০২৫ সালে যে লক্ষ্য নিয়ে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু করেছিলাম, সেটি অর্জনের কাছাকাছি পৌঁছানোর সুযোগ। তাই বরাবরের মতোই আমরা এই সিরিজ নিয়ে আশাবাদী। প্রতিপক্ষকে যথাযথ সম্মান জানাব, তাদের খেলা বিশ্লেষণ করব এবং জয়ের জন্য কার্যকর পরিকল্পনা তৈরি করব। আমার যথেষ্ট বিশ্বাস, আমরা এখানে এসে সেটাই করতে পারব।
“আমার মনে হয়, দুই দলের জন্যই অনেক কিছু নির্ভর করছে এই সিরিজের ওপর। সবাই টেস্ট ক্রিকেট খেলে জেতার জন্য। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু করার সময় আমরা ঠিক করে রেখেছিলাম, কোথায় গিয়ে শেষ করতে চাই। আমাদের বর্তমান অবস্থা ও প্রতিপক্ষকে বিবেচনা করলে, সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য আমরা খুব ভালো অবস্থানে আছি।”
প্রায়ই শোনা যায়, ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের অর্থের ঝনঝনানির কারণে টেস্ট ক্রিকেটে আর গুরুত্ব দেয় না ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সংবাদ সম্মেলনে স্যামির কাছেও জানতে চাওয়া হলো এই বিষয়ে। প্রশ্ন শুনেই হেসে ফেললেন ক্যারিবিয়ান প্রধান কোচ।
পরে বিশদ উত্তরে টেস্ট ক্রিকেট নিয়ে দলের অবস্থান জানালেন দেশটির সাবেক অধিনায়ক।
“আমি হয়তো হাসছি, কারণ আমি সব সময়ই হাসিখুশি থাকি। কিন্তু আমরা বিষয়টাকে খুবই গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছি। বিশেষ করে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ শেষ করার সময় আমরা এমন একটা অবস্থানে থাকতে চাই, যেটার কথা অস্ট্রেলিয়া সিরিজের আগে বার্বাডোজে আমরা বলেছিলাম। তখন আমরা বলেছিলাম, বাংলাদেশ সিরিজ শেষে আমরা পয়েন্ট তালিকার এমন অবস্থানে থাকতে পারি, যেটা আমাদের লক্ষ্য। তাই এই দুটি টেস্ট ম্যাচ আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নেব।”
জাপান চুক্তি ও বিগ-বি: আগামীর শিল্প সম্ভাবনা
একটি দেশের ওপর ভর করা রেমিটেন্স কতটা নিরাপদ
বিদায়, আমার বন্ধু: স্মৃতির পাতায় তৌফিক